ভয়াবহ এসিআর জালিয়াতি এবং অবৈধ টাকার শ্রাদ্ধ

23

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু,লেখক কলামিষ্ট : ভয়াবহ এসিআর জালিয়াতি নিয়ে পিএসসি (চঁনষরপ ঝবৎারপব ঈড়সসরংংরড়হ) সহ সারাদেশে যথেষ্ট আলোচিত হচ্ছে। ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ ও অবৈধ টাকা উপার্জনকারীদের কোনো দল নেই, নীতি ও দর্শন নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চাটার গোষ্টি সব চেটে খেয়ে ফেলে, আমার গরীব মানুষ পায়না। তাই অনেকে বলে থাকে, চুরি আরও সিনাজুরি এবং চোরের মার বড় গলা। এ শ্রেণীটা আবার পিপিপি বা পিজিপি হিসেবেও আখ্যায়িত। অর্থাৎ যাকে বলা হয়, প্রেজেন্ট পাওয়ার পার্টি বা প্রেজেন্ট গভর্নমেন্ট পার্টি। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে যারাই ক্ষমতায় এসেছে প্রশাসন, কারও পায়রুবি বা সেবাদাস হিসেবে চাটুকারীতা করতে ভুল করেনি। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় কিংস পার্টির আবির্ভাব হয়। যাদের কাজ ছিল সেনা সমর্থিত সরকারের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে কুরাশ গাওয়া। প্রশাসনের একটা শ্রেণী দেশের মানুষের কাছে মাখাল ফল ঠরনমুড়ৎ ও বেনী আহসকলা হিসেবেই সমধিক পরিচিত। ওরা হাকিম হয়ে হুকুম করে পুলিশ হয়ে ধরে, সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝারে। স্বাধীনতার এত বছর ধরে ঘুরে ফিরে এ শ্রেণীটাই সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার বলয়ে (ঈধষপঁষধঃবফ ধহফ ঢ়ৎবঢ়ষধহহবফ) মানুষকে নাচাচ্ছে। অর্থাৎ যেমনি নাচায় তেমনি নাচে পুতুলের কি দোষ। এ পর্যন্ত যত ধরণের সরকার এসেছে এবং গিয়েছে কেহই তাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কূপানল ও ক্যালকুলেটেড প্রিপ্ল্যান্ড থেকে একেবারে রেহাই পায়নি। বর্তমান সরকারও পদে পদে ওদের কুপানল থেকে কতটুকু মুক্ত তা বলাও মুশকিল। অনেকেরই ধারণা সরকার হয়তোবা অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের কারণেই কিছুটা হলেও দুর্নীতিবাজ ও এদেরকে চিহ্নিত করতে কূটকৌশলকে সামনে তাড়িত করেছেন। যে কারণে হয়তো চিহ্নিত তোষামোদ, চাটুকার, ঘুষ, দুর্নীতির ধারক, বাহক ও রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকান্ডের অপরাধে পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় প্রত্যয় বলে অনেকেই মনে করে থাকে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেপরোয়াদেরকে রেহাই দেয়া হচ্ছে না। মদ, জুয়া, অবৈধ অস্ত্র ও বেলাল্লাপনা নারীর আড্ডাখানা হিসেবে পরিচিত ক্যাসিনোতে র‌্যাব ও অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীর যে টর্নেডো অভিযান চলছে তা সরকারেরই অভিপ্রায় ও নির্দেশনা। ক্যাসিনো থেকে এ পর্যন্ত রাশি রাশি টাকা, ডলার, মদ, অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও নারীসহ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের সবাই যুবলীগ ও কৃষক লীগের দুর্বীনিত নেতা। তদোপরি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটকে আইন শৃংখলা বাহিনী হন্যে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। সেই স¤্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনোর গডফাদার হিসেবে আলোচিত স¤্রাট গোয়েন্দা জালে আটকে গিয়েছে। তাহার আটক এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র (যুগান্তর ২৯/৯/১৯ ইং)। ২৬/৯/১৯ ইং বৃহস্পতিবার, দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভয়াবহ এসিআর জালিয়াতি শিরোনামে খবর বেড়িয়েছে। যা দেখে দেশের শ্রেণী পেশা ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কুশীলবদের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ব্যথা, বেদনা, নিগ্রহ জ্বালা যন্ত্রণা বেড়–তে শুরু হয়েছে। যা দেখে সরকারি ঘরাণার একজন বড় কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেছেন, টাকার জন্য মানুষ এত পাগল হবে কেন, ওদের হয়তো লজ্জা, শরম বলতে কিছুই নেই। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ওরাই চামচামি, চাটুকারীতা ও তোষামীদিতে সিদ্ধহস্ত। ওদের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদা বলতে কিছুই নেই। টাকার জন্য পারে না এমন কাজ যেন তাদের মধ্যে নেই। ওরা দজ্জাল, অপুংশক, মানবতা বিরোধী জানোয়ার ও হায়নারই নামান্তর।অনেকেই মনে করে অনেক সরকারি অফিসে গেলে কিছু লোকের হাবভাব দেখে মনে হয় ওরাই যেন দেশের সর্বেসবা। ওদের যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা বা কন্ট্রোলিং অথরিটি নেই। আর যদি ওদের গাঁয়ে পিপিপি বা পিজিপির কোনো নিদর্শন বা সাইনবোর্ড থাকে তবে তো বাহাদুরীর শেষই থাকেনি। অবস্থা দেখে অনেকেই মনে করে প্রশাসনের এ শ্রেণীটা যেন অতীতের পিসিআর বা চৎবারড়ঁং ঈড়হভরফবহঃরধষ জবঢ়ড়ৎঃ যেন একেবারেই ভুলে গেছে। ওদের ধারণা সবকিছুই ম্যানেজেব্যুল। ওরাই যেন দেশের জমিদার, আর সবাই যেন জমিদারের প্রজা। ওরা দেশের সেবক নয়, যেন শাসক ও প্রশাসক। এছাড়া এদের মধ্যে অনেকের আচার আচরণ যেন কুখ্যাত পাক হানাদার ও জল্লাদের অবয়ব ও প্রতিচ্ছবি। ওরা বিষধর সর্পের চেয়েও ভয়ানক। সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে ওদের আচরণ ও বেশভূষার পরিবর্তন না দেখলে তাদেরকে চিনার একেবারেই হয়তো কারও সুযোগ নেই। ওরা পদে পদে ঘুষ, দুর্নীতি, অবৈধ কর্ম এবং অনিয়মে যেমন আসক্ত তেমনি ক্ষমতাধরদের অনেকের মতো চরম দুর্ব্যবহার সিক্ত। পদে পদে ঘুষ, দুর্নীতিই যেন তাদের ভূষন। তাদের মধ্যে অনেকেরই দেশ, জাতি ও জনস্বার্থে স্পষ্ট কিছু বলতে চাইলে, চিহ্নিত ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত কুশীলবরা বলে থাকে, ওরা স্বাধীনতা বিরোধী, অমুক দলের লোক, তমুক দলের লোক ও সরকার বিরোধী। যদিও তাদের মধ্যে অনেকেরই স্বাধীনতার পর জন্ম। ওরা জল্লাদ পাকবাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আল শামস, আল ফাত্তাহ তো দেখেইনি তেমনি রক্ষিবাহিনীও দেখেনি। এছাড়া তাদের মধ্যে অনেকেই কখনও রাজনীতিও করে নাই। যাদের মধ্যে রয়েছে জনবান্ধব হিসেবে অনেক উপমা ও উদাহরণ। যা স্বার্থপর দুর্নীতিবাজরা অনেক সময় এমনিভাবে জনবান্ধবদের বিরুদ্ধে মারাণাস্ত্র বা বিধঢ়ড়হ হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী বলে অনেককে কোনঠাসা করে থাকে। মূল উদ্দেশ্য তাদেরকে চুপসে রাখা এবং সরকারের পক্ষে কোনো কিছু করা থেকে বিরত রাখা। দেশে স্বাধীনতার পর থেকে আজও যেমন সিকিমের লেন্দুম দর্জি বা খাংসারপার মতো চামচা, চাটুকারের অভাবে নেই, তেমনি এমন কোনো বিভাগ বা সেক্টর নেই যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম নেই। অনেকেরই ধারণা চাটুকারীতা ও এর অবসান না হলে দেশটা যে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কেহই স্পষ্ট করে বলতে পারছেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুঃখ করে বলেছেন, বেতন দ্বিগুণ করে দেয়া হলো, তারপরও ওদের ঘুষ, দুর্নীতি কমছে না। আইন আদালতের মাধ্যমে ঘুষ দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত ও চাটুকারদের বিচার ও শাস্তি যে একেবারে হচ্ছে না তাও নয়। অনেকে মনে করে এত কিছুর পরও ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজদের কোনো লজ্জা শরমের বালাই নেই। ওরা হাইব্রিড, দানব, দজ্জাল, রাঘববোয়াল, চাটুকার ও বিশ্ব বেহায়া। টাকার শ্রাদ্ধই তাদের কাছে অনেক বড়। ক্যাসিনোর ঘটনা দেখেও তাদের শিক্ষা হচ্ছে না। তাদের জানা উচিত, কারও আমলনামাই অলিখিত থাকছেনা। রোজ হাশরের আমলনামা দেখে যেমন প্রত্যেকের বিচার হবে তেমনি দুনিয়াতে যে যত বাহাদুরই হোক না কেন, আমলনামা পিছু ছাড়বে না। হয়তো তা সময়ের ব্যাপার মাত্র। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এখনও ক্যাসিনো সা¤্রাজ্যের কুশীলব, খলনায়ক, রূপকার ও নাটের গুরু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাট নাকি ক্ষমতাসীন কোনো বড় হুজুরের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ঢাকার অভিজাত এলাকাতে রাজার হালেই রয়েছে। যদিও গোয়েন্দারা তার পিছু ছাড়েনি (যুগান্তর ২৮/৯/১৯ ইং)। অভিজাত এলাকায় স¤্রাটের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ক্ষমতাসীন দলের বড় হুজুর কে বা কাহারা এখনও তা জানা যায়নি। অনেকে আশংকা করে বলছে, এক সময় কালীগঞ্জের দুর্ধর্ষ খুনী মামলার ফেরারী আসামী ইমদু ও গালকাটা কামালকে যুব প্রতিমন্ত্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা নিয়ে সামরিক শাসক এইচ.এম এরশাদ তার বক্তৃতায় তা উল্লেখ করেছিল। যদি ক্যাসিনো রাজ্যের স¤্রাটের বেলায় এমন কোনো আশ্রয় দাতা বড় হুজুরের নাম বেড়িয়ে আসে, তবে তাতেও অবাক হওয়ার মতো তেমন কিছু থাকবে না বলে অনেকেই ওড়িয়ে দিচ্ছে না। এত কিছুর পরও যদি এর রহস্য আনোদঘাটিত থেকে যায়, তবে এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও অসমালোচনা হবে না, আদ্যোপান্ত ও ডালপালা বিস্তৃত হবে না, তাও অনেকেই অবিশ্বাস্য মনে করছে না। খাল, বিল, নদী নালার পানি বঙ্গোপসাগর হয়ে মহাসাগরে পতিত হয়। যদি বুড়িগঙ্গার পানি সাগর, মহাসাগরে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তবে এ পানি ফোলে, ফেঁপে ও উতলিয়ে ঢাকা মহানগরসহ অভিজাত এলাকায় বানের পানি সুনামির মতো তাৎক্ষণিক আঘাত হানলে কারও কিছু প্রতিরোধ করার সুযোগ ও সময় হয়তো নাও থাকতে পারে। সীমা লংঘনকারীকে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন পছন্দ করেনি। তেমনি পাপী কখনও দুনিয়া থেকে শাস্তি ছাড়া বিদায় হয়নি (ঝরহহবৎ পধহ হবাবৎ মড় ঁহঢ়ঁহরংযবফ)। ফেরাউন, নমরূদ, কারুন, আবু জাহেল কারও রক্ষা হয়নি। ইয়াজিদ মৃতুর আগে বলে গিয়েছিল, মৃত্যুর পর সকলের অগোচরে আমার লাশ কবর দিও। যেন তা কেউ না জানে। তা জানলে দেশের মানুষ আমার লাশের অস্তিত্ব রাখবেনা। যে কারণে ইয়াজিদের লাশ কোথায় কবর দেয়া হয়েছে, তা আজও অনাবিষ্কৃত। জল্লাদ ইয়াহিয়া মদ্যপ ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় চিৎকার করতে করতে উলঙ্গ ও বেঁহুশ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে।

সূত্রে জানা যায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন বা এসিআর বা অহহঁধষ ঈড়হভরফবহঃরধষ জবঢ়ড়ৎঃ ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৮ কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য এসিআর জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়। এসিআর নম্বর বাড়িয়ে ও জাল স্বাক্ষরে (ঋড়ঁৎঃবিহঃু) তাদের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়ে থাকে। কিন্তু পিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জালিয়াতির বা প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। ফলে অনুমোদন না করে তা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে পিএসসি। এ ঘটনায় অধিদফতরের প্রশাসন শাখায় উপমহাপরিদর্শক এবং মন্ত্রণালয়ে সংস্থাপন শাখার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে ভূক্তভোগীরা। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেয়া আবেদনপত্রে তারা দাবী করেছে, এ ঘটনায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশী অবৈধ লেনদেন হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এসিআর জালিয়াতির ঘটনায় ২২/৯/১৯ ইং তারিখ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায়, সুপারিশকৃত ৪৮ জনের মধ্যে ১৯ জন পদোন্নতির যোগ্য নয়। কিন্তু এসিআরে তাদের নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হয়ে থকে। পিএসসি এসবের প্রমাণও পেয়েছে। ৪৮ কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়ে আপত্তি তুলে পিএসসির পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সম্প্রতি শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়। সূত্র আরও জানায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরে ২য় শ্রেণীর ৪৮ জন শ্রম পরিদর্শককে (সাধারণ) প্রথম শ্রেণীর সহকারী মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতির জন্য ২৪ জুলাই পিএসসিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাব যাচাই করে পিএসসির কর্মকর্তা জানতে পারে পদোন্নতির প্রস্তাব করে পাঠানো এসিআরে ১৯ কর্মকর্তার প্রাপ্ত নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাকিদের এসিআরেও স্বাক্ষর ও নম্বর ঘষামাজা করা হয়েছে। ফলে বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করার জন্য পিএসসি সেগুলোর আগের এসিআরও যাচাই করে। এতেও জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় পদোন্নতির প্রস্তাব নাকচ করে মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবী এ জাল জালিয়াতি করতে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দেয়া আবেদনপত্রে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বেশী অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে দাবী করা হয়ে থাকে। আবেদনে আরও বলা হয়, এসিআরে নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার জন্যে ১৯ জনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা করে এবং বাকি ২৯ জনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা করে উৎকোচ নেয়া হয়েছে। পদোন্নতির ফাইলটি পিএসসিতে পাঠানোর আগে ফাইলটি মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে সংরক্ষিত ছিল। ২৬/৯/১৯ ইং আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে টিআইবির এক জরিপে বলা হয়, ঘুষ ছাড়া সেবা পায়না ৮৯ ভাগ মানুষ। আর দুর্নীতির শিকার ৭৫ ভাগ মানুষ কোথায়ও কোনো অভিযোগই করেনি। যে ২৫ জন অভিযোগ করে থাকে তারাও মনে করে থাকে এর কোনো প্রতিকার নেই। দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জরিপে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এসব থেকে প্রতিয়মান হয় দেশের মানুষ দুর্নীতির মধ্যে বাস করছে। দেশের মানুষ যত তাড়াতাড়ি দুর্নীতির রাহুগ্রাস ও দাবালন থেকে মুক্তি লাভ করে সুখী, সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজে শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ে বাস করতে পারে এবং প্রজাতন্ত্রের সেবকদের কাছ থেকে যাহাতে অহেতুক ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানী থেকে বেঁচে সেবা ও যথাযোগ্য মর্যাদা পায় ইহাই জনপ্রত্যাশা। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে দেশের জনগণের সাথে প্রশাসন নামক যন্ত্রটি ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়মকে অনিয়ম এবং অনিয়মকে নিয়ম করে যে জ্বালা যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছে তার শেষ নেই। আলামত শুরু হয়ে গেছে। ফাউল গেইম করার চিন্তা না করে আইন মেনে চলাই উত্তম। ঞড়ড় সঁপয ধহুঃযরহম রং নধফ অর্থাৎ কোনো কিছুই বেশী ভালো নয়। অনেক সময় শিয়াল, কুকুর, শকুনকেও বাঘ সিংহের মাংস খেতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী জন্ম দিনে নিউইয়র্কের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেছেন, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ আমার দলের হলেও ছাড় নেই। তাই একজন অভিজ্ঞ আইন, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অতি উৎসাহিদের সম্পর্কে বলেছেন থামুন, দেখুন, শুনুন, চলুন। দেশটা কারও জমিদারি বা মগের মুল্লুক নহে।