আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা নির্যাতিত ও অবহেলিত হয় বেশি

14

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দল হিসেবে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ ও বিশ্বে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর আমলের   জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা আওয়ামীলীগ ও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মধ্যে বিস্তর তফাৎ। বর্তমানে কাগজে কলমে জনপ্রিয় নাম ব্যবহার করলেও প্রকৃত অবস্থা ভিন্ন। নগর – শহর – গ্রাম প্রত্যেকটি স্থানে ব্যাপক উন্নয়ন সত্বেও বাস্তবিক জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করার পরও – কেন এই অবস্থা ? অনেকগুলো কারণ এর পিছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। কারণগুলো হলোঃ
★★যে কর্মীদের রাত-দিন, নিদ্রাহীন, ঘুমহীন, ইস্পাত-কঠিন ঐক্য, পরিশ্রম আর ভালবাসায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে, ক্ষমতায় বসেই নেতা-নেত্রীরা তাদের ভুলে যায়। ফলে, গুরুত্বহীন ও অপদার্থ কর্মী হিসেবে একসময় আওয়ামীলীগের উচ্ছিষ্ট হিসেবে দল ও এলাকায় নিগৃহীত হয় এবং চিরকালের জন্য আওয়ামিলীগ ত্যাগ করে সে। অপরদিকে, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি-জামাতের কর্মীর গুরুত্ব দলে বাড়ে বেশী এবং তারা এলাকা ও নেতাদের নিকট গুরুত্ব বেশি পায়।       ★★ ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামীলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কখনও তার নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের কথা ভাবেননা, তারা ব্যস্ত থাকেন অন্যদল থেকে আসা চাটুকারদের আবদার মেটাতে। ফলে দলের মধ্যে প্রতিপক্ষ তৈরি হয় এবং আওয়ামীলীগের প্রকৃত কর্মী ক্ষমতায় থাকা সত্বেও ওড়ে এসে জুড়ে বসা অন্যদলের ঐ তাবেদার নেতার নিকট অপদস্ত, পর্যুদস্ত ও উপেক্ষিত হয়। এমনকি তাকেই আওয়ামীলীগ বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। অনেক সময় মামলা মোকদ্দমাও মোকাবিলা করতে হয় তাকে। 
★★ আওয়ামীলীগের এম.পি, মন্ত্রীদের নিকট চাটুকার জামাত-বিএনপির নেতারা আওয়ামীলীগ নামে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে নিজ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে আর আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করার জন্য দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিকট পৌঁছিয়ে দেয় বার্তা। 
★★ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে নিবেদিতপ্রাণ সংখ্যালঘু কর্মীরা নেতৃবৃন্দের কাছে যেতে পারেননা। অন্যদলের লোকগুলো ( যারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ ও নৌকাকে ভালবাসেনা) তারা আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ার কারণে নেতার নিকট আগেভাগেই সংখ্যালঘু নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে রাখে এবং নেতাকে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে রাখে। নেতা-নেত্রীরাও তাদের কথা বিশ্বাস করে ঐ সংখ্যালঘু নেতাকে দূরে রাখে এবং এদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে। পরবর্তীতে সংখ্যালঘুরা উপদল তৈরি করে ভালবাসার আওয়ামীলীগের নির্জীব, নিষ্ক্রিয় কর্মীতে পরিণত হয়। এভাবে প্রিয়দল আওয়ামীলীগের কাছ থেকেই দূরে সরে আসতে হয় তাদের এবং এরপর বিএনপি-জামাতের ঐ নামধারী আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে জমি দখল, ধর্ষণ, সুদ ও লগ্নি ব্যবসা, ইয়াবা-মাদক ব্যবসা ইত্যাদির বিস্তার ঘটায়। ফলে নিজদল ক্ষমতায় থাকা সত্বেও বিভিন্নরকম নির্যাতনের শিকার হন।  
★★ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা বিড়ালের মতো থাকে অপরদিকে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা বাঘের মত গর্জে ওঠে। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা দারোয়ানের মতো ক্ষমতাও পায়না আর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকলে কর্মীরা সেনাবাহিনীর মতো শক্তিশালী থাকে। 
★★ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে জনবান্ধব দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চেষ্টা করে আর বিএনপি-জামাত হয় কর্মী বান্ধব। 
★★ আওয়ামীলীগ কর্মীরা নির্যাতিত, নিগৃহীত হয় বলেই বিএনপি – জামাতের অপপ্রচারের প্রতিবাদ করেনা। আর এসব কারণে আওয়ামীলীগ কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। 

তাই, অনুরোধ নিজ দলের কর্মীদের প্রতি নজর দিন। সিনিয়র নেতা-কর্মীদের অভিমান-অভিযোগের প্রতি উদাসীন না হয়ে সমাধান করুন। সবাইকে কাছে টানুন, আপনার বিশ্বস্ত অথচ দলের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন উড়ে এসে জোড়ে বসাদের নিজগৃহে পাঠিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ করছে তাদের দলে আনুন। দলকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান।   
যদি আপনি নেতা হিসেবে নিজ দলকে ভালবাসেন আমার বিশ্বাস প্রকৃত আওয়ামীলীগ দিয়েই আপনি আপনার দলকে সুসংগঠিত করবেন ও আওয়ামীলীগ নামক সবচেয়ে জনপ্রিয় ভালবাসার দলটিকে আবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে নেওয়ার দায়িত্বটুকু পালন করবেন।                                                                                                                                                                                                                       প্রদীপ কুমার দেবনাথ,    শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট,