সানোফি কে বাংলাদেশে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব

10

লেখক : ই. এ. মোঃ রাজন মিয়া

বাহ! চমৎকার দেশ আমার!! আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানী সানোফি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কথাটি শুনতেই কেমন অবাক লাগছে। তাহলে কি বাংলাদেশ তাদের চলে যেথে বাধ্য করছে? বাংলাদেশের জনগণ কি তাদের চাচ্ছে না, নাকি তাদের কোন দোষারোপ এর কারনে চলে যেথে হচ্ছে? প্রশ্নগুলোর উত্তরে এক কথায় আসে না। তাহলে কেন? কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলে সানোফি জানাচ্ছে, এ দেশের বিপণনব্যবস্থা অনৈতিক। ঔষধ কোম্পানি গুলোকে তাদের ঔষধ চালানোর জন্য ডাক্তারদের বড় অঙ্কের কমিশন ও উপহারসামগ্রী দিতে হয়। তবেই শুধু তাঁরা রোগীদের ওই কোম্পানির ঔষধ প্রেসক্রাইব করেন।

কিন্তু এ ধরনের মার্কেটিং সানোফির বৈশ্বিক নীতি অনুমোদন করে না। ডাক্তারদের ঘুষ দেয়া ছাড়া এই দেশে মার্কেটিং হয়না। তাই তারা বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোম্পানীর এমন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত যতটা না তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে আমাদের সাধারন জনগণ।

আমি ছোটবেলায় দেখেছি আমার পরিবারের কেহ অসুস্থ্য হলে সাধারন বাজার থেকে ঔষধ এনে খাওয়ার ১ দিনে ভেতর সুস্থ্য হয়ে যেথে। কিন্তু এখন যদি বলি তাহলে আমার গত ঈদের পর থেকে সাধারন ঠান্ডা লেগেছিল। তারপর থেকে এমবিবিএস কয়েকজনকে দেখিয়েছি। কিন্তু হাজার টা টেস্ট ফেস্ট করে ভাল টাকার দেওয়ার পরও একটুও উন্নতি হয়নি আমার অসুস্থ্যতার। কিন্তু ডাক্তার কে যখন বলি এখনো অসুস্থ্যতা ভাল হয়নি তখনি আবার হাজার পাঁচেক টাকার ঔষধ লিখে দিয়ে দেয়। কিন্তু অসুস্থ্যটা খুব অল্প। কেন অল্প তার কারন যদি বলি তাহলে ৩ মাস ডাক্তার প্রেসক্রাইব করা ঔষধ খেতে খেতে আর যখন ভাল লাগছিল না তখন নিজেই ঔষধ ফার্মেসি থেকে কিনে নিজেই খেলাম। কারন সাধার প্রেসক্রাইব করার অভিজ্ঞতা আমারও আছে। ফলাফল যখন দেখলাম আমার ট্রিটম্যান্ট করা ঔষধ খাওয়ার পর আমি এখন অনেকটা সুস্থ্য। যদিও অসুস্থ্যতা আল্লাহর দান।

যদি আমি আমার এ অভিজ্ঞতা থেকে বলি তাহলে বলতে বাধ্য হব  যে এরকম প্রেসক্রাইব ও হাজার টাকার ঔষধ দিয়ে হাজার টাকা টেষ্ট দিয়ে ডাক্তার সেবা নয় আমার সাথে বিশাল একটা ব্যবসা করেছে। এতে হয়তো ডাক্তারদের মনে কষ্টও লাগতে পারে। তবে সব ডাক্তার  যে এমন তাও কিন্তু না। কারন আমি যখন প্রেসক্রাইব করি অন্য এক ডাক্তারের কাছ থেকে কোথায় সে তো কোন টেস্ট দেয়নি। বরং জানতেও চায়নি আগের টেস্ট এর কথা।

এর পেছনে যদি কারন খুঁজতে যাই তাহলে বলতে হবে এর জন্য ডাক্তারদের কমিশন দায়ি। ঔষধ কোম্পানী গুলোর থেকে যদি ডাক্তার টাকা না নিতেন তাহলে কখনো তাদের ঔষধ ই যে  লিখতে হবে তা কিন্তু না।

ব্যান্ড ঔষধ কোম্পানীর একজন জিএম এর সাথে কথা হচ্ছিলো আমার। জানতে চাইলাম তাদের ঔষধের মানের ব্যাপারে। সে জানালো যে আসলে ডাক্তারদের যে পরিমাণ টিপস দিতে হয় সে পরিমাণ লাভ কখনো হয়না। ফলে আমাদের রিসার্স ফান্ড কমিয়ে দিতে হয়ে। যার ফলে ঔষধের মান দিন দিন কমনে শুরু করে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয় আমাদের সাধারন জনগণকে।

সানোফির এ নীতিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমাদের সরকার ও ঔষধ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যে, আমাদের সাধারন মানুষের উপকারের জন্য যতদ্রুত সম্ভব ডাক্তারদের এরকম টিপস নেওয়ার বিরুদ্ধে কার্যক্রম হাতে নেবেন। ঔষধ কোম্পানীগুলোকেও এমন কাজের প্রমাণ পেলে রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার ব্যবস্থা নেবেন। তাহলেই ঔষধের মান ঠিক থাকবে। সাধানরন মানুষ পাবে নতুন শান্তি। সানোফির মত কোম্পানীগুলোও মাথা উঁচু করে ব্যবসা করতে পারবে। আর যদি এমন না হয় তাহলে সানোফিকে অনুরোধ করবো আপনারা সারাদেশে ভ্রাম্যমান সেবা কেন্দ্র গড়ে তুলুন। যেখানে বিনা ভিজিট ফিতে সাধারন মানুষ চিকিৎসা নিতে পারবে। যদি সাধারন মানুষ নিজেদের জন্য হলেও চিন্তা করে দেখবেন বাকিরা না খেয়ে মরার দিন চলে আসবে।

আর এতে যদি আমার সোনার বাংলা সত্যিই সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয় তাহলে মন্দ কিসে?