বঙ্গবন্ধুর নামে স্কুল নির্মাণ হলেও নাম বাদ দিয়ে এমপিও ভূক্তি, ৪৭ বছর পর সংশোধনের দাবি

33

সৌরভ সোহরাব, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধিঃ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নামকরন করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেও স্কুল মঞ্জুরী ও এমপিওভূক্ত হয় বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে। দলিলপত্র ,খাজনা-খারিজ ও বিভিন্ন নথিতে এখনো বঙ্গবন্ধুর নাম থাকলেও স্কুলটির নাম করনে তা নেই। ৪৭ বছর পর এসব তথ্য জানা গেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্রে। স্কুলটি বঙ্গবন্ধুর নামকরন পূর্ণবহালের দাবি করেছেন এলাকাবাসী। বাদপড়া নাম সংশোধনের আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১০ নং চৌগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টির নাম করন করা হয় ক্ষিদ্রবড়িয়া বঙ্গবন্ধু নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পরে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে ১৯৭৫ সালে মঞ্জুরী এবং ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমান বিদ্যালয়টির নাম ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় হলেও জমির দলিল ও খাজনা খারিজে ক্ষিদ্রবড়িয়া বঙ্গবন্ধু নি¤œ মাধ্যমিক নামেই চলমান আছে।

ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ আতাউর রহমান, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহাদত হোসেন, প্রতিষ্ঠাকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আলহাজ্ব নওশের আলী, অধ্যাপক মোঃ মকবুল হোসেন, জমিদাতার ছেলে মোঃ শাহজাহান আলী ও ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অফিস সহকারী মোঃ জিয়া উদ্দিন জানান, ক্ষিদ্রবড়িয়া সহ পাশের ৯ টি গ্রামের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে ক্ষিদ্রবড়িয়া বঙ্গবন্ধু নি¤œ মাধ্যমিক নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরনের এই স্কুলের জন্য ৭৪ শতাংশ জমি দান করেন কান্ত নগর গ্রামের মরহুম রফাতুল্লাহ প্রামাণিক। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে হত্যা হলে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরির্বতন হয়। এ সময়ে রাজশাহী উপ পরিচালকের কার্যালয়ে বিদ্যালয় মঞ্জুরী করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিতে বলে। পরে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে ক্ষিদ্রবড়িয়া নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে মঞ্জুরী পাই। এভাবে ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। আমরা এখন বঙ্গবন্ধুর নাম বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।

ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, মোঃ রফিকুল ইসলাম. ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ভোলা জানান, আমরা দায়িত্ব পাওয়া পর বিদ্যালয়ের দলিল ও অন্যান্য নথিপত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম পাই। আমরা ম্যানেজিং কমিটির মিটিং এর মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা ও সিদ্ধান্ত করে সংশ্লিষ্ট কার্য়ালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করবো যাতে বঙ্গবন্ধুর নাম বহাল থাকে।

ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শির্ক্ষাথী মোছাঃ ছাফিরিন খাতুন, মোঃ নাদিম মাহমুদ, মিথিলা ইয়াসমিন ও রানী খাতুন জানান, আমাদের দাদা দাদী ও বাবা মায়ের কাছে শুনেছি যে এই স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর নামে নাম করন করা হয়েছিল। আফসোস জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম থাকা সত্তে¦ও আমরা সেই নাম ব্যবহার করতে পারছিনা। আমরা বঙ্গবন্ধুর নাম পূর্ণবহালের দাবি জানাচিছ।

স্থানীয় কান্তনগর গ্রামের মোঃ দাউদার রহমান, মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর নামে নাম করন করা হলে এলাকার মানুষ খুশি হবে এটা এখন আমাদের প্রাণের দাবি। পাশাপাশি জরার্জিণ স্কুলের একটা নতুন ভবনেরও দাবি করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম সামিরুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আমিনুর রহমান জানান, আমরা ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম পেয়েছি। ক্ষিদ্রবড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী চাইলে নাম সংশোধনের জন্য যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।