শিক্ষদের মর্যাদা ও দায়বদ্ধতা

26
রায়হান আহমেদ তপাদার: 

যে জাতি বা দেশের শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ যত উন্নত, দেশ ও জাতি হিসেবে সার্বিকভাবে তারাই উন্নত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এই জাতি গঠনে মূল কাজটি করেন আমাদের শিক্ষকরা। আমাদের উচিত শিক্ষকের মযার্দা রক্ষা করা এবং তাঁদের কাছ থেকে জীবনের দিকনির্দেশনা শিখে নেওয়া। পড়া না পারলে শিক্ষক বকলে মনে মনে রাগ না করে সেটিকে মেনে নিয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা করা। পক্ষান্তরে শিক্ষকদেরও উচিত আব্রাহাম লিংকনের সেই চিঠির কথা মনে করে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। ছাত্র-ছাত্রীকে সন্তানের মতো আগলে রাখতে পারাই শিক্ষকের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। তখনই শিক্ষক হয়ে ওঠেন বাবা-মা সমতুল্য। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমাদের জীবনটা বদলে যায়। বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়াতলে বেড়ে উঠতে থাকা এই আমরা তখন দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই বাবা-মা ছাড়া। সেই সময়ে আমরা যেন দুঃখ না পাই, আমরা যেন আনন্দে থাকি, নতুন নতুন বিষয় শিখতে পারি, সেজন্য আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে, ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে আমাদের জড়িয়ে রাখে দুটি হাত। ওই দুটি হাত শিক্ষকের হাত। বাবা-মায়ের অবর্তমানে শিক্ষকই হয়ে ওঠেন আমাদের বাবা-মা। আমাদের হাসি-কান্না আনন্দ-বেদনার সাক্ষী থাকেন তাঁরা। আমাদের আদর করেন, ভালোবাসেন; আবার পড়া না পারলে বকাও দেন। বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের মযার্দা দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বলে, যুগে যুগে অতি অত্যাচারী শাসকও নতশিরে গুরুর সামনে দাঁড়িয়েছেন। গুরুকে অসম্মানের ধৃষ্টতা কেউ দেখাননি। স্বভাবতই শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মার চেয়ে শিক্ষকের অবদান কোনো অংশে কম নয়। কারণ শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। 

এক কথায় বলা যায়, শিক্ষক মানুষ চাষ করেন। যে চাষাবাদের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের বলয়ে একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনকে মুখরিত করে। শিক্ষাকে যাবতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলে শিক্ষকের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম। বলতে গেলে এর বিকল্প নেই। একজন প্রাজ্ঞ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সত্যিকার ভাবে শিক্ষিত শিক্ষক সমাজ বদলে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। আদর্শ শিক্ষকই শুধু আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারেন। এ জন্যই শিক্ষকতাকে অপরাপর পেশার মানদণ্ডে পরিমাপ করা যায় না বলে অনাদিকাল থেকে এটি একটি সুমহান পেশা হিসেবে সমাজ-সংসারে পরিগণিত। কারণ জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে। শিক্ষাদানের পাশাপাশি আদমশুমারি, ভোটার তালিকাভুক্তি, টিকাদান, শিশু জরিপ, উপবৃত্তি বিতরণ, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুতরাং যার থেকে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তিনিই আমাদের শিক্ষক। তাই সম্মানজনক জীবন ধারণের জন্য শিক্ষকদের যথেষ্ট অর্থ প্রয়োজন। অথচ এই মহান পেশায় যারা নিয়োজিত, তাদের নেই কোনো অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানজনক জীবনধারণ উপযোগী বেতন-ভাতা না থাকায় মেধাবীরা শিক্ষকতায় আকৃষ্ট হচ্ছেন না। অথচ জ্ঞাননির্ভর সমাজ গঠনে প্রয়োজন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পেশাগত স্বাধীনতা থাকা দরকার।যেহেতু শিক্ষকরা শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় যেমন শিক্ষার উপকরণ ও শিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে বিশেষভাবে জ্ঞাত, সেহেতু তাদের ওইসব বিষয় নির্বাচন কিংবা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা দিতে হবে। শিক্ষকরা সমাজের বিবেক ও স্পন্দন। সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করার ব্যাপারে শিক্ষকদের অবিস্মরণীয় অবদান আজও এ ভূখণ্ডের মানুষ ভক্তিভরে স্মরণ করে। শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি।

তাই শিক্ষকদের আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাদানে তৈরি করে তুলতে হবে। 
টেকসই উন্নয়নের যে চার নম্বর লক্ষ্যটি শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত এর তিনটি উপাদানের একটি হচ্ছে এই গুণগত শিক্ষা, যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করব বলে আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি। সেই লক্ষ্যে সরকার নতুন কারিকুলাম তৈরি করছে, এখন পাইলটিং চলছে, সামনের বছর থেকে সেটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। এরকম একটা সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর এ কথাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষায় যখনই একটা বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়, তখনই এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ধকলটা পোহাতে হয় শিক্ষকদের। তারা কোনো একটি বিষয় কোনো একভাবে পড়াতে পড়াতে যখন অভ্যস্ত হয়ে উঠেন, তখনই একদিন হঠাৎ বলা হয়, তাদেরকে কোনো নতুন বিষয় নতুনভাবে পড়াতে হবে বা মূল্যায়ন করতে হবে। প্রায়ই দেখা যায়, শিক্ষকদের প্রস্তুত না করেই তাদের নতুন একটি বিষয় নতুন একটি পদ্ধতিতে পড়াতে কিংবা মূল্যায়ন করতে বলা হয়। এতে দুটো সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত তারা ধন্ধে পড়ে যান এবং দ্বিতীয়ত এর জন্য যে বাড়তি পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়, মর্যাদাহীনতায় ভোগার কারণে সেই বাড়তি পরিশ্রম করার কোনো উদ্দীপনা তাদের মধ্যে তৈরি হয় না। এডুকেশন ইন্টারন্যাশনালের মতে, সব দেশেরই বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে স্বীকৃতি প্রদান এবং দিবসটি উদযাপিত হওয়া উচিত। শিক্ষকদের অধিকার, করণীয় ও মর্যাদা সুরক্ষায় ইউনেস্কোর উদ্যোগে ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ১৪৫টি সুপারিশ গৃহীত হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে শিক্ষকদের মৌলিক ও অব্যাহত প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি, চাকরির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বিধানের প্রক্রিয়া, পেশাগত স্বাধীনতা, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, দায়িত্ব ও অধিকার, শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, কার্যকর শিক্ষাদান ও শিখনের পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা অন্যতম। 

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) উপর্যুক্ত সুপারিশসমূহ অনুমোদন করে। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম অনুষ্ঠানে ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়। তবে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে শিক্ষকরা বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন শুরু করেন। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যে তা হয়ে আসছে। ইউনেস্কোর মতে, শিক্ষা ও উন্নয়নে শিক্ষকরা বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা, উপলব্ধি সৃষ্টি ও শিক্ষকদের ভূমিকার স্বীকৃতি স্মারক হিসেবে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক বিপর্যয় বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে আক্রান্ত হয়েও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনির্মাণে শিক্ষকরা তাদের ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিশ্বব্যাপী শিক্ষক ইউনিয়ন সমূহের ফেডারেশন এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল (ইআই) ও এর ৪০১টি সংগঠন এ দিবসের ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জনে ভূমিকা রাখছে। এ সংগঠন শিক্ষা পেশার অবদানকে তুলে ধরে প্রতিবছর জনসচেতনতামূলক প্রচার চালায়। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। কিন্তু এতবছর পরেও বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রকৃত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারপরও শিক্ষকরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের শিক্ষাদান অব্যাহত রেখেছেন। তাই শিক্ষকদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, তাদের যথাযথ সম্মান করতে হবে; যাতে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে আরও সাফল্যের সাথে। ১৯৬৬ সালে আইএল ও ইউনেসকো শিক্ষকদের পদমর্যাদার যে সুপারিশ করেছিল তার ৫০ বছর পূর্তি সূচিত করে, এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এক বছর পূর্বে বিশ্ব সম্প্রদায় গ্লোবাল এডুকেশন ২০৩০ এজেন্ডা গ্রহণের পর এবার প্রথম বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ বছরের স্লোগান, শিক্ষকের মূল্যায়ন, তাদের পদমর্যাদার উন্নয়ন। 

উল্লেখিত এজেন্ডায় ৫০ বছর পূর্বেকার ঘোষিত মৌলিক নীতিমালার প্রতিফলন ঘটেছে যাতে টেকসই উন্নয়নলক্ষ্য নির্ধারিত হয়। এতে বিশেষ শিক্ষা নিশ্চিত করে এবং সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়। শিক্ষকরা শুধু শিক্ষার অধিকার নিয়েই থাকবে না, তারা এসডিজি এ তে যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে তা অর্জনে মূলশক্তি হিসেবে কাজ করবে নতুন এজেন্ডার রোডম্যাপ হলো-শিক্ষা ২০৩০ এর বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ-যাতে উর্দ্ধে তুলে ধরা হয়েছে যে, ন্যায়সঙ্গত এবং গুণগত শিক্ষা অর্জনে শিক্ষকরা হলেন চালিকাশক্তি।এ জন্যই শিক্ষকরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, নিয়োগ, নারিশ্রমিক,উদ্বুদ্ধকরণে সহায়তা লাভ করবে। সম্পদপূর্ণ, দক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন পদ্ধতির মাধ্যমে। এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ শিক্ষক সরবরাহ করলেই হবে না, শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে হবে, উদ্বুদ্ধ করতে হবে, ২০৩০ সালের মধ্যে। ৩.২ মিলিয়নের উপর শিক্ষকের প্রয়োজন হবে বিশ্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে। বিশ্বজনীন নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনে প্রয়োজন হবে ৫.১ বিলিয়ন শিক্ষক। ইউনেসকো তার বিশ্বশিক্ষক দিবস উদযাপনকারী সংস্থা যেমন-আইএল ও ইউনিসেফ, ইউএনডিপি ও ইআই এবং শিক্ষকদের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাস্ক ফোর্স এ দিবস উদযাপনে আন্ত-সরকারি কমিটমেন্ট আদায়ে নিবেদিত থাকবে যাতে শিক্ষক সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মর্যাদার বিষয় নিরূপিত হয়,সেসব কমিটমেন্ট পেশার মূল্যায়নের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ সব স্তরের শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে খুবই জোর দেয়া হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে শিক্ষকদের মর্যাদা শুধু সুবিন্যস্ত বাক্য গাঁথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত অর্থে তাদের সামাজিক মর্যাদা দেয়া না হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও দায়িত্ব অধ্যায়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সর্বত্র শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষানীতিতে শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কৌশল বিষয়ে বলা হয়েছে, সামাজিক বাস্তবতা সামনে রেখে সব স্তরের ও ধারার শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা এবং দায়দায়িত্বের বিষয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করে তা পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের আত্মপ্রত্যয়ী, কর্মদক্ষ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এক-একজনকে সফল অবদানকারী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও উচ্চক্ষমতা সম্মন্ন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে শিক্ষানীতিতে। শিক্ষার সব স্তরে শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি শিক্ষার সব পর্যায়ে তাদের মান বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে শিক্ষকতার মান নির্ণয়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার সব স্তরে শিক্ষকদের মর্যাদা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বাধিক জরুরি শিক্ষকদের মান উন্নয়ন। আর শিক্ষকদের মান উন্নয়ন করতে হলে তাদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা দিতে হবে। তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। বৈষম্য দূর করতে হবে। উপযুক্ত মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারলে শিক্ষক ও শিক্ষার মান এমনতিইে বাড়বে। বস্তুত ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে মনীষীরা শিক্ষক ও গুরুজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। নিঃস্বার্থভাবে জ্ঞান বিতরণের দীক্ষাও দিচ্ছেন নিরন্তরভাবে। শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে; শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশব্যাপী শিক্ষকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা, শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা, সর্বোপরি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট