৩ কোটি টাকার ভবনে ওয়াশ রুমে শিক্ষকদের যেতে হবে মাথা নুয়ে

23

গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব-

স্কুলের নব নির্মিত চারতলা ভবন হস্তান্তরের আগেই দেয়ালের রঙ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ফ্লোরের মোজাইক, ওয়াল টাইলসসহ বিভিন্ন কাজের নেই কোন ফিনিসিং। ছাদে লাগানো হয়েছে ভাঙ্গা টালি। অধিকাংশ স্থানে বৈদ্যুতিক তার ঝুলানো। ট্যাংকিতে পানি ওঠেনা। সকল কাজে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও উপকরণ। নির্মাণ ত্রুটির কারনে শিক্ষকদের ওয়াস রুমে যেতে হবে মাথা নুয়ে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বোকাইনগর ইউনিয়নের বেতান্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ কোটি ৭২ লাখ ব্যয়ে নব নির্মিত ভবনের চিত্র এটি। নব নির্মিত এ ভবনটি বাস্তবায়ন করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ভবনটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সোহেল এন্টার প্রাইজ।স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আল মুক্তাদির শাহিন জানান- স্কুলের নতুন চারতলা ভবনের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। শুরু থেকে এ ভবনের নির্মাণকাজে অসংখ্য ত্রুটি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এতে কারচুপির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ও উপকরণ। এছাড়া ভবনের রঙ, ফ্লোর মোজাইক, টাইলসসহ অন্যান্য কাজে কোন ফিনিসিং নেই। এ ভবনে শিক্ষকদের ওয়াশ রুমে যেতে হবে মাথা নুয়ে। নির্মাণকাজে এটি একটি বড় ত্রুটি। এ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে সম্প্রতি লোক দেখানো কিছু সংস্কার করে ফাইনাল বিল উত্তোলনের চেষ্টা চালাচ্ছেন ঠিকাদার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান- নির্মাণকাজে ক্রটি ও ব্যাপক অনিয়মের কারনে তিনি এখনো স্কুলের নতুন ভবন বুঝে নেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সোহেল মিয়া জানান- ভবনের ডিজাইন অনুযায়ী শিক্ষকের ওয়াশ রুম করা হয়েছে। নির্মাণকাজে যেসকল অভিযোগ করা হয়েছিল, সেই কাজগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন করে ভবন বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা প্রকৌশলী মোঃ ইউসূফ আলীর মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।