শালিখায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে লাঙ্গল-জোয়াল

21

শহিদুজ্জামান চাঁদ মাগুরাঃ মাগুরার শালিখায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি গরুর লাঙ্গলের হালচাষ। বাংলার ৮৭ হাজার গ্রাম নিয়ে গঠিত সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা ফসলে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ। আমাদের দেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক কৃষি কাজের মধ্যে জড়িত। প্রাচীন গ্রাম বাংলার কৃষি কাজের প্রধান উপকরণ ছিলো গরু-মহিষ, লাঙল, জোয়াল। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গরু-মহিষ, লাঙল ও জোয়াল। কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা গরু-মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন মাঠের জমিতে হালচাষ করার জন্য। কিন্তু এই চিত্র এখন হারিয়ে যাচ্ছে। কালের পরিক্রমায় বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হালচাষ। শালিখা উপজেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-লাঙ্গলের সাথে কৃষকের সেই মিতালীর দৃশ্য এখন বিরল। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দিন দিন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির চিরচেনা সেই গরু-লাঙ্গল দিয়ে জমি হাল চাষের চিত্র। আর সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে গরু-মহিষ দিয়ে পাকা ধান মাড়াইয়ের চিত্রও। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে হাল চাষের পরিবর্তনে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করা হয়। এক সময় দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষক গরু পালন করতো হাল চাষ করার জন্য। আবার কিছু মানুষ গবাদিপশু দিয়ে হাল চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ছিলেন। তাই এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা এখন পেশা বদলি করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। শালিখা উপজেলার বাসিন্দা চাষি উদ্যোপ মন্ডল বলেন, কালের বিবর্তনে ডিজিটাল প্রযুক্তি আধুনিক কারনের নিত্য নতুন যন্ত্র যান আবিস্কার এর ফলে সেই গরুর জোয়ালের লাঙ্গল চাষ দেখা যায় না। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে জমি চাষাবাদ। শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমান মানুষ আধুনিকতার সাথে তালমিলিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷ এছাড়াও সরকারি নির্দেশ মোতাবেক এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না৷ দ্রুত চাষের জমি চাষ দিয়ে ফসল ফলাতে হবে৷ যে কারনে বর্তমান মানুষ লাঙল ও গরু দিয়ে চাষ করা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে৷ পাশাপাশি ইঞ্জিন চালিত গাড়ী দিয়ে জমি চাষ করছে৷ এতে অর্থ এবং সময় দুইটাই কম লাগে৷