শালিখায় খেজুর রস ও গুড় আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা

112

শহিদুজ্জামান চাঁদ মাগুরাঃ শীত মানেই খেজুর রসের গুড় পিঠা পায়েসে মনে পড়ে যায় পল্লী মায়ের কোল। শীত মৌসুম জুড়ে খেঁজুর রস ও গুড় আহরণ শুরু করেছে মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গাছিরা। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী চিত্রা ও ফটকী নদীর পাড় ঘেষে অবস্থিত শালিখা উপজেলা। এখানে এবছরের শেষের দিকে সকালের শিশিরের সঙ্গে অনুভব হচ্ছে মৃদু ঠান্ডা। প্রকৃতি এখন আর পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না। তাই প্রকৃতির আগাম খেয়ালে উপজেলার ১২১ টি গ্রামে গাছিদের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরী করতে দেখা গেছে। কালের বিবর্তনে গত কয়েক বছরে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়। বর্তমানে আবার সরকারি পৃষ্টপোষকতায় ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্দোগে খেজুর গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছে এ খেজুর গাছ শিল্প। উপজেলায় বর্তমান প্রায় ২৫ হাজার খেজুর গাছের চারা আছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়৷ যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দিবে খেজুর গাছ। আর একটি গাছ ৮ থেতে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয় বলে জানা গেছে। এটাই তার বৈশিষ্ট্য আর পুরা এ শীতের মৌসুম জুড়ে গুড় পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত আছে শালিখার অধিকাংশ গাছিরা। তবে গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। দেশের বিভিন্ন স্থানে খাঁটি গুড়ের পাটালির কদর রয়েছে পুরা শীতের মৌসুম ধরে। শালিখা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বদর উদ্দিন গাছি সহ আরোও অনেকেই জানান গত বছরের চেয়ে এ বছর শীত একটু বেশি। তবে যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে শীতের প্রকোপটা ভালো থাকবে বলে আশাবাদী গাছিরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, শালিখা উপজেলায় ২৫ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। আপনারা নিশ্চই জানেন যশোর যশ খেজুরের রস এই ঐতিয্য ছিলো৷ মাগুরারও বিরাত্ব যশোরের ভিতর অন্তর ভুক্ত ছিলো৷ খেজুরের রস আহরণ তথা গুড় তৈরীতে এবং পিঠাপুলির উৎস্যবের একটা ঐতিয্য ছিলো৷সেখান থেকে মানুষ অনেকটা সরে আসছে৷ তবে এই ঐতিয্য ধরে রাখা দরকার৷ আমরা মাঠ পর্যায়ে মানুষদের উদ্ভুদ্ধ করছি যাতে এই ঐতিয্য হারিয়ে না যায়৷ পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নানা কর্মসূচীর পাশাপাশি নতুন করে খেজুর গাছ রোপনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই খেজুর গাছ শিল্পকে যেকোন মূল্যে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এমনটাই প্রত্যশা উপজেলা বাসীর৷