বিতর্কিত পাঠ্যপুস্তক বাতিল করে জড়িতদের বিচার দাবি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের

15

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ইসলাম বিদ্বেষী বিতর্কিত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রনয়নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং  বাতিলের দাবী” কওমী মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ-এর। ২৪ জানুয়ারী মঙ্গলবার  এক বিবৃতিতে কওমী মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) ও মহাসচিব মাওলানা মুস্তা‌কিম বিল্লাহ হা‌মিদী সাক্ষরিত বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ খ্রি. অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রণীত  ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের পরীক্ষামূলক সংস্করনে বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী ও মুসলমানদের ঈমান আকীদা বিধ্বংসী বিতর্কিত অনেকগুলো বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘বাংলা’, ‘ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান (অনুশীলন বই ও অনুসন্ধানী পাঠ)’ বইতে মুসলমানদের পর্দার মত ফরজ বিধানকে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন, দাড়ির মত ওয়াজিব বিধানকে ভাল্লুকের সাথে তুলনা, ইতিহাসের নামে মুসলিম শাসকদেরকে নেতিবাচক ও শোষক হিসেবে উপস্থাপন, মূর্তির নগ্ন ছবিসহ আপত্তিকর অনেক বিষয়কে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলমানদের সামাজিক রীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক করে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান (অনুশীলন বই ও অনুসন্ধানী পাঠ) বইতে নাস্তিক্যবাদী মানসিকতা উস্কে দিতে বৈজ্ঞানিকভাবে চরম বিতর্কিত ডারউইনের বিবর্তনবাদ বারবার যুক্ত করে মানব সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক থিওরীকে যেমন বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়েছে তেমনি মানব সৃষ্টি নিয়ে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ পাকের আয়াত সমূহকে অস্বীকার করার মত  ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ নামে আরো একটি বইতে যৌন শিক্ষার নামে সমকামিতা, কোমলমতি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক শিক্ষাথর্ীদের অযাচিতভাবে যৌনকর্মে উৎসাহিত হওয়ার মত আপত্তিকর বিষয়গুলো যুক্ত করেছে। এছাড়াও বানান ভুল, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে প্রিন্টসহ নানা অসঙ্গতিতো রয়েছেই্ এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে জোরালো প্রতিবাদ ও দাবী জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীল মহল থেকে আশ্বস্ত হওয়ার মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দেশবাসীর সাথে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আমরা মনে করছি সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বার্থন্বেষী গুটি কয়েক লোক এ ধরনের বিতর্কিত বিষয়গুলো সন্নিবেশ করে এর দায়ভার সরকারের উপর চাপিয়ে গণরোষ সৃষ্টি করে দেশে ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরী করে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় না নিলে এক সময় তা নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আমরা মনে করছি। এমন বিতর্কিত বিষয় পাঠ্যপুস্তকে বারবার যুক্ত করে একদিকে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে এবং অন্য দিকে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ নষ্ট করে দেশ ও রাষ্ট্র বিরোধী কাজ করছে।
এমতাবস্থায় আমাদের দাবীসমূহ হচ্ছে-:১।  বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। ২।  দেশকে বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতি থেকে বঁাচানোর লক্ষ্যে বারবার পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন বন্ধ করা এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করার আগে ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদদের সম্বন্বয়ে পাঠ্যপুস্তক যাচাই করে শিক্ষাক্রমে অন্তভর্ূক্ত করা। ৩।  দেশের সংবিধান সমুন্নত রেখে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সংরক্ষনে ও বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে ‘ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ’ প্রণিত ধর্মীয়  ও সাধারন শিক্ষার সম্বন্বয়ে ১ম শ্রেণি শ্রেণি থেকে ১২শ পর্যন্ত জন্য শিক্ষা সিলেবাসকে জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা।৪। ভবিষ্যতে এ ধরণের ধৃষ্টতা আর কেউ দেখাতে না পারে সেজন্য সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য দ্বীনদার আলেম, ইসলামী লেখক, বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়ে বিতর্কমুক্ত একটি নতুন শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়ন করা। ৫। শিক্ষার সর্বস্তরে ধমর্ীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও সকল পরীক্ষায় আবশ্যিক করা। ৬। ইসলাম ধর্ম শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ‘কুরআন মাজীদের’ শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক অন্তভর্ূক্ত করা। ৭। পাঠ্যপুস্তকের সকল বিষয় হতে অনৈসলামিক ও ইসলামী বিশ্বাসবিরোধী বিষয় ও শব্দ সমূহ বাদ দেওয়া। ৮। বাংলা, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বইসহ সকল বই হতে বিতর্কিত ও ইসলামী আকিদাবিরোধী প্রবন্ধসমূহ বাদ দেওয়া।৯। স্কুল ও মাদ্রাসার সকল পাঠ্যপুস্তক অপ্রয়োজনীয় এবং অশ্লীল চিত্রমুক্ত রাখা ও ইসলামের ইতিহাস বিকৃতি রোধ করা।