মানসম্পন্ন পরিকাঠামোর ঘাটতি সমৃদ্ধি অর্জনের অরন্তরায়

13
রায়হান আহমেদ তপাদার:

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হতে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে দক্ষিণ কোরিয়া সময় নিয়েছে ৩২ বছর। একই ধরনের অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশ সময় নির্ধারণ করেছে ২৬ বছর।বাংলাদেশের জন্য সময় খুবই স্বল্প,প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিতে হবে এক্ষুণি।ভিত্তি বছরের প্রতিটি সূচকেই বাংলাদেশ তৎকালীন কোরিয়ার চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে।কাজেই বাংলাদেশের জন্য ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন অসম্ভব না হলেও কঠিন হবে।তবুও আশা করি,এ বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই স্বপ্নদর্শী ও সফল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। আর এক্ষেত্রে ব্যাপক ও বিশাল পরিসরে আর্থিক খাত ও প্রশাসনিক সংস্কারের বিকল্প নেই।আজকের তরুণ আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তারুণ্যের মধ্যেই সর্বদা লুকায়িত সব বাধা-বিপত্তি, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার উজ্জীবিত শক্তি। বৃদ্ধের প্রজ্ঞা, পরামর্শ আর তারুণ্যের শক্তি একটি জাতির সমৃদ্ধি অর্জনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে থাকে। পৃথিবীর যত মহত্কর্ম সাধিত হয়েছে, মুক্তির উদ্যম হাওয়া যত প্রান্তর বেয়ে প্রবাহিত হয়েছে তার প্রত্যেকটির পেছনে অসামান্য অবদান রয়েছে তরুণদের।আর এই তারুণ্যের শক্তির 
আশ্রয়ে পৃথিবীকে বদলে দিতে চাই তরুণদের সঠিক পথে চালিত করার দিকনির্দেশনা। তরুণদের শুভ শক্তির দ্যুতি ছড়িয়ে মহত্ত্ব এক পৃথিবীর জন্ম ঘটাতে তরুণদের চালিত করতে হবে আলোর পথে,মুক্তির পথে।শেরে বাংলা, বঙ্গবন্ধু, ভাসানী, নজরুলরা হলেন এই বাংলার তেমনই সর্বজন সমাদৃত ব্যক্তি। সময় স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া কিংবা সময় যুদ্ধে হেরে যাওয়া অক্ষমের মতো আবেগ বিষণ্নতায় ভোগা জীবনের  মতো তাদের অগ্রযাত্রা থেমে ছিল না। তারা ছিলেন সময়ের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। তাদের প্রতিভা, সাহস, দৃঢ়তা বাঙালি কখনো ভুলবে না। বাঙালিকে পথপ্রদর্শন করা তাদের মহৎ পরার্থপরতা পৃথিবী থেকে মূর্ছিত হবে না কোনোদিনও।

ইতিহাস বারবার এগিয়ে আসে তরুণদের অবদানকে স্মরণ করিয়ে দিতে। বলা হয়ে থাকে তরুণ্যের চোখে বিশ্বকে জয় করা যায়। কিন্তু আজকের দিনে তরুণদের বিচরণ চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ। যে তরুণদের বিচরণে রাজপথ, খেলার মাঠ চারপাশ হই-হুল্লোড়ে মুখরিত থাকত, সেই তরুণরা আজ যেন কোথায় হারিয়ে গেছে বাংলা থেকেই। আজ বাঙালি, ইছামতী, করতোয়া নদীর বুকে একঝাঁক তরুণের উন্মুক্ত সাঁতার কাটার দৃশ্যও তেমন চোখে পড়ে না। ভাসানীর মতো দুষ্টুমিতে ভরপুর শৈশব, বঙ্গবন্ধুর মতো সবার হয়ে মুক্তির কথা বলা কৈশোর, আর টগবগে রক্তের শেরে বাংলার মতো প্রতিবাদী যুবকের বাংলার চিরচেনা পথে-প্রান্তরে আর বিচরণ করতে দেখা যায় না। এক জনের রক্তের জবাবে হাজার তরুণের বুক পেতে অবলীলায় তাজা রক্ত বিলিয়ে দেওয়ার সমৃদ্ধ এবং শানিত ইতিহাস বাংলার আছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের সাহসী এবং আত্মত্যাগের মহিমা বাঙালির প্রেরণার হাতিয়ার।
এমতাবস্থায় এই তরুণ প্রজন্মের চেতনায় বিস্তর পরিবর্তন ঘটাতে দেশের সচেতন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে অবশ্যই।তরুণদের হতাশা দূর করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা; তরুণদের সঙ্গে মনোবিদদের দিয়ে নিয়মিত কথা বলার ব্যবস্থা করে দিতে পারলে তরুণদের হতাশা এবং হতাশার কারণ সহজেই নিরূপণ করা যাবে। তরুণদের নিঃসঙ্গ জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পরিবারের ভূমিকা অপরসীম, তাই পরিবারকে তাদের সন্তানের মতের মূল্যায়ন করতে হবে। মাদকের নেশা থেকেও বর্তমানে স্মার্টফোন আসক্তি তরুণদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তাই প্রযুক্তি যেন ছেলেমেয়ের উর্বর ভবিষ্যত্ নষ্টের কারণ না হয় সেদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বহু ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি করেছে। 

মানুষের গড় আয়, প্রত্যাশিত গড় আয়ু, সাক্ষরতার হার বেড়েছে।বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হারে উল্লম্ফন ঘটেছে। পরিবহন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উন্নতি ঘটেছে। বেসরকারি খাত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। অন্যান্য আর্থসামাজিক সূচকেরও উন্নতি হয়েছে। জনসংখ্যার বেশির ভাগই এখন তরুণ, দেশজুড়ে ব্যবসায়িক উদ্দীপনার কমতি নেই। মানুষের হাতে হাতে সেলফোন। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের দক্ষিণের সঙ্গে মধ্যভাগের যোগাযোগের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কাঠামোগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা রয়েছে, যা দেশকে তার সম্পূর্ণ ক্ষমতায় বিকশিত হতে দিচ্ছে না। এর মধ্যে অন্যতম সমস্যা মানসম্পন্ন পরিকাঠামোর ঘাটতির। স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশক পরও রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ, সেচ, বন্দর, বিমানবন্দর এবং অধুনা ব্রডব্যান্ড সংযোগ, সব ক্ষেত্রেই মানের বিপুল ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ভর্তুকি আর সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা-পেনশন ও পুরনো ঋণের সুদাসল পরিশোধে। পরিকাঠামো খাতের জন্য অবশিষ্ট থাকছে সামান্যই। তার ওপরে আছে ব্যবস্থা- পনাগত দুর্বলতা, পরিচালনা ব্যর্থতা, অস্বচ্ছ নিয়ম-কানুন, দুর্নীতি এবং এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খাতায় ক্রমবর্ধমান অনাদায়ি ঋণের পাহাড়। পরিবর্তিতে চরম ঘাটতি শিক্ষায়। দেশে বহু চাকরির জন্যই ন্যূনতম যোগ্যতা লাগে মাধ্যমিক শিক্ষার। কিন্তু সেই অবধি লেখাপড়া করার আগেই দরিদ্র পরিবারের বিপুলসংখ্যক ছেলেমেয়ে ঝরে পড়ছে অর্থনৈতিক কারণে, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়ে করার চাপেও। স্কুল-কলেজের শিক্ষার গড় মানও নিচুই থেকে গেছে। আজকের বেশির ভাগ চাকরির জন্য সে শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা তৈরি এবং বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এবং ছোটশহরে প্রশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়োগকারী সংস্থার যোগাযোগ দুর্বল।আশ্চার্যের বিষয় উদ্বৃত্ত শ্রম-এর দেশে নিয়োগযোগ্য শ্রমিকের বড়ই অভাব। তারপর ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত। 

গত কয়েক বছরে অতি উৎসাহী ভঙ্গিতে হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ নানা অবকাঠামো তৈরি হয়েছে বটে, কিন্তু সেগুলোর বেশকিছু অব্যবহূত পড়ে রয়েছে। ভবন আছে কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মী নেই, নেই যন্ত্রপাতিও। জনস্বাস্থ্য সেবার ঘাটতির ফলে রোগব্যাধির প্রকোপ অনেক, শ্রমিকের উৎপাদনশীলতাও কম।এই সমস্যাগুলোর প্রতিটির ক্ষেত্রেই সরকারের প্রশাসনিক সাফল্য ও ব্যর্থতার প্রশ্নটি জড়িত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিম্ন। রাষ্ট্রের সক্ষমতাকে চারটি মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যেতে পারে-সাংগঠনিক, কারিগরি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক। কাজের সঙ্গে উন্নতির যোগ না থাকলে সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকশিত হয় না। যেমন বাংলাদেশে পদোন্নতি ঘটে বয়স মেনে দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনায়, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নয়। ঘন ঘন এবং অসুবিধাজনক বদলির হুমকিও কর্মীদের বাধ্য করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির চেয়ে রাজনৈতিক সংযোগ তৈরিতে মনোযোগী হলে সরকারি কর্মীরা লাভবান হন বেশি। নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ফাঁকি দেয়ার অনেক সুযোগ তৈরি হয়। আবার সৎ উদ্দেশ্যেও যদি কোনো সরকারি কর্মী কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তদন্তের মুখে পড়ে বিপুল হয়রানির উদাহরণ আমাদের সামনেই রয়েছে। অনেকে ভালো কাজ করে তিরস্কারের শিকার হয়েছেন, হারিয়েছেন চাকরিও। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার চেয়ে হাত-পা গুটিয়ে রাখাকেই অনেকে নিরাপদ ভাবেন। রাষ্ট্রের কারিগরি সক্ষমতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার একে আরো বিস্তৃত করেছে। বায়োমেট্রিকনির্ভর অর্থ প্রদানের পদ্ধতি দ্রুততর ও অধিকতর নিশ্চয়তার সঙ্গে কাজ করছে, তুলনায় কম দুর্নীতি হচ্ছে, কিন্তু এ প্রযুক্তির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। বিচার ব্যবস্থা, অডিট এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষেত্রেও এ পথে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা ভাবা প্রয়োজন। জমির রেকর্ড নথিভুক্ত করা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। 

অন্যদিকে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধির নেতিবাচক দিক হলো, নাগরিকের ওপর সরকারের নজরদারির ক্ষমতাও বাড়ে। শাসকরা এ ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তারই সঙ্গে পুরনো কিছু আইনকে অস্ত্র বানিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে থেকে উঠে আসা যেকোনো প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে সচেষ্ট হয়। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আর্থিক সামর্থ্যও ব্যাপক নয়। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসরও সীমিত। বাংলাদেশে কর ও জিডিপির অনুপাত মাত্র ৯ শতাংশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এ অনুপাত অনেকখানি কম তো বটেই, আজ থেকে এক দশক আগেও এ অনুপাত যা ছিল, এটি তার চেয়েও কম। এই অর্থাভাবের কারণেই বাংলাদেশের সরকারি কর্মীর পদও খালিই থেকে যায়। আবার এ কথাও সত্য, বাংলাদেশে প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাসহ সরকারের প্রতিটি শাখাতেই বহু পদ দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে রয়েছে, যার সবই অর্থাভাবের কারণে নয়। যে কর্মীরা অফিসে রয়েছেন, বহু পদ খালি থাকার কারণে তাদের ওপর কাজের চাপ বেশি, ফলে বহু ক্ষেত্রেই তারা অকুশলী হয়ে পড়েন।এ পরিস্থিতিটি রাজনীতিকদের পক্ষে ভালো! নিজেদের প্রাপ্যটুকু আদায়ের জন্য সরকারি দপ্তরে ঘুরে ঘুরে জুতা ক্ষয়ে যাওয়ার পরই মানুষ নেতাদের দ্বারস্থ হন। নেতাদের কাছে তা এক সুযোগ বটে। এ ব্যবস্থাটার শতভাগ সুফল তারা ঘরে তোলেন। তারা মানুষকে কিছু পাইয়ে দিয়ে ভোটের দাবি করেন, যা নিতান্তই খারাপ দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে কর ও জিডিপির অনুপাত এত কম কেন-এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের অস্বাভাবিক রকম বড় অনানুষ্ঠানিক খাতের দিকে আঙুল তুলতে হবে। কৃষিশ্রমিকদের বাদ রাখলেও দেশের মোট শ্রমিকের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজকরেন অনানুষ্ঠানিক খাতে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ করের আওতায় পড়েন না, কিন্তু সংগঠিত ক্ষেত্রেও করের হার কম। এবং ব্যক্তিগত আয়ে মূলধনি লাভের ওপর করের হার অনেক কম। বিনিয়োগ করলে ব্যক্তিগত আয়করের ওপর ছাড়ের সুবিধাও পান প্রধানত ধনীরাই।
সাম্প্রতিক কালে এ ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর বাড়বাড়ন্তের ফলে সামগ্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমন্বয় আসার বদলে বরং তা হয়ে পড়েছে জটিল ও বহুধাবিভক্ত, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া। দুর্বল কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাই বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেয়ার পথে বড় বাধা। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য দেশের রফতানি বাজার ধরে রাখতে হবে। এজন্য কাঁচামাল আমদানিসহ প্রাক-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল গঠনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে যদি খেলাপি ঋণ এবং তহবিলের অপব্যবহারের দিকটিই ফুটে ওঠে তাহলে এ উদ্যোগও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমরা রফতানিকারকদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য দেখতে চাই। ইডিএফের ক্ষেত্রে যেসব অসংগতি ও অস্বচ্ছতা দেখা গেছে, সেগুলো যেন ইএফপিএফের বেলায় না হয় আমরা সেটিই প্রত্যাশা করব। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বর্তমান সময়টা যেকোনো আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্যমতে এ সময়ে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ না ফেললে সংকট অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। সে হিসাবে রিজার্ভ সংকট এড়াতে ডলারের পরিবর্তে টাকা ব্যবহারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তার সফলতাই আমাদের কাম্য। এর সঙ্গে নতুন তহবিল ব্যবহার করার পাশাপাশি ইডিএফ যেন ক্রমে সংকুচিত না হয়ে যায় সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি প্রয়োজন। সব মিলিয়ে আমাদের রফতানি খাত ভালো থাকুক, রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাক-এটিই জাতির প্রত্যাশা। স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়ন অর্থনীতির মহাসড়কে ধাবমান। আর এ পথ বেয়েই একদিন বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে তার চূড়ান্ত গন্তব্যে সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত দেশের মর্যাদায় উদ্ভাসিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।
লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট