তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি এবং আমাদের বাস্তবতা

137
রায়হান আহমেদ তপাদার:

তিস্তা নদী ভারত ও বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শ- কাতর বিষয়৷ নতুন তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি ভারত ও বাংলাদেশের ২৫ কোটি মানুষের কাছে আশার আলো জাগিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক কারণে আজও তা কার্যকর হয়নি৷ নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ৷ ভারতের পশ্চিমবঙ্গও একই বন্ধনিভুক্ত৷দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ প্রধানত কৃষিপ্রধান৷ জলের ওপর নির্ভরশীল৷ জলের ব্যবহারও মোটামুটি একই ধরণের৷ তাই অভিন্ন নদীগুলির জল ভাগাভাগি করা ছাড়া পথ নেই। তিস্তা ঐতিহাসিক ভাবেই অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং খামখেয়ালি আচরণের নদী। যার বন্যার কবলে পড়ে প্রায় প্রতি বছর বর্ষায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল একাধিকবার বিধ্বস্ত হয়ে চলেছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক খরাগ্রস্ত এই এলাকার মানুষ তিস্তা নদীর পানিস্বল্পতা হেতু সেচ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। তিস্তা নদীর উজানে পশ্চিমবঙ্গের গজল ডোবায় ভারত একতরফা ভাবে বাঁধ নির্মাণ করে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি সম্পূর্ণভাবে আটকে দেওয়ার পর তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশ বছরের বেশির ভাগ সময় প্রায় পানিশূন্য থাকছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তিস্তার পানি স্বল্পতার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। বলা হয়, এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তিস্তা নদী। কম বেশি সবারই জানা, চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পে ভারত আবার আপত্তি জানিয়েছে? প্রায় পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের সময় এ ধরনের একটি প্রকল্প প্রণয়ন বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। চীনের দুঃখ হিসেবে একদা বিশ্বে বহুল পরিচিত হোয়াংহো নদী চীনকে যেভাবে চীনের আশীর্বাদে পরিণত করেছে; একই কায়দায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জন্য প্রতি বছর সর্বনাশ ডেকে আনা তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনাকেও একটি বহুমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা যায় কিনা। 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সম্পূর্ণ চীনা অর্থায়নে প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পর প্রকল্প প্রস্তাবটি চীনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে চীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানের প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশও ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ১১৫ কিলোমিটারে ব্যাপক খনন চালিয়ে নদীর মাঝখানের গভীরতাকে ১০ মিটারে বাড়িয়ে ফেলা হবে এবং নদীর প্রশস্ততাকে ব্যাপকভাবে কমিয়ে ফেলা হবে। একই সঙ্গে রিভার ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক ভূমি উদ্ধার করে চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। নদীর দুই তীর বরাবর ১১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। উপযুক্ত স্থানে বেশ কয়েকটি ব্যারাজ-কাম রোড নির্মাণকরে নদীর দুই তীরের যোগাযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ষাকালে প্রবাহিত নদীর বিপুল উদ্বৃত্ত জলরাশি সংরক্ষণ জলাধার সৃষ্টি করে সেচ খাল খননের মাধ্যমে নদীর উভয় তীরে চাষযোগ্য জমিতে শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। উপরন্তু নদীর উভয়তীরের সড়কেরপাশে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ণ সুবিধাদি গড়ে তোলা হবে। বাস্তবে যে এলাকা দিয়ে তিস্তা নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, সেখান থেকে শিলিগুড়ি করিডোর অনেক দূরে। তিস্তা নদীর দক্ষিণ-পূর্বদিকের ভাটিতে যতই প্রকল্পের কাজ এগোবে, ততই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে প্রকল্প এলাকার দূরত্ব বাড়তে থাকবে। একবার শোনা গিয়েছিল, ভারতের নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগকে আমলে নিয়ে সীমান্ত-নিকটবর্তী ১৬ কিলোমিটার নদীর খনন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করবে।এখন সবই যেন আশায় গুড়েবালি।ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র-সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধা গ্রস্ত করার কোনো অধিকার দেশটির থাকতে পারে না। 

আমরা দেখছি, প্রবল উত্তেজনাকর এমনকি প্রাণঘাতী সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে ২০২২ সালে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক বাণিজ্য চালিয়েছে ভারত। তাহলে বাংলাদেশ নিজের অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে চীন থেকে সহজ শর্তে ঋণ বা কারিগরি সহায়তা নিতে পারবে না কেন? শুধু দিল্লি-বেইজিং বিরোধের জের ঢাকা বহন করবে কেন? অথচ প্রায় সব চীনা প্রকল্পেই ভারত বারবার নানা অজুহাতে বাগড়া দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ বন্ধুরাষ্ট্র হলেও একটি আন্তর্জাতিক নদীর উজানে এমন একতরফা বাঁধ নির্মাণের আগে ভারত একবারও বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন বোধ করেনি।বরং দীর্ঘ তিন দশকের কূটনৈতিক আলোচনার পথ ধরে যখন ২০১১ সালে দুই দেশ তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার করে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং চুক্তি স্বাক্ষর থেকে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ দুটো সার্বভৌম দেশের সম্পর্ক একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিলতার কাছে জিম্মি হতে পারে না। কিন্তু ভারত এই অজুহাতে এক যুগ ধরে এ ইস্যুতে বাংলাদেশ কে বঞ্চিত রেখেছে। এমনকি প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প ভণ্ডুল করার জন্য তারা মাঝেমধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের মুলাও ঝোলাচ্ছে! তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হোক-সবাই চায়। কিন্তু তিস্তা চুক্তি আর প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প মোটেও সাংঘর্ষিক নয়। ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি হোক বা না হোক; চীনা অর্থায়নে প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প ওই অঞ্চলের জনগণের জীবন-জীবিকায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। পানি বণ্টন চুক্তি হলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ খানিকটা হয়তো বাড়বে, কিন্তু বর্ষায় গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় এ অঞ্চলের জনগণ যে একাধিকবার বন্যায় ডুবছে, তার তো কোনো সমাধান হবে না! প্রস্তাবিত প্রকল্পের জলাধার গুলোর সংরক্ষিত পানি পরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হলে এই সমস্যার টেকসই সমাধান মিলবে। 

প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পটি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক নানা সূত্র উদ্ধৃত করে অনেকে বলছিলেন, দিল্লির আপত্তি সত্ত্বেও ২০২৩ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। এখন মনে হচ্ছে, বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে গেল। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা এবং এই এলাকার পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর পানি একতরফা ভোগ করছে ভারত। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজি হচ্ছেন না বলে চুক্তি করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের সরকার ১১ বছর ধরে এই ব্যাখ্যা মেনে নিচ্ছে। দেশে নদী ও পানি নিয়ে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর,গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। কিন্তু ভারতের এই অজুহাতকে চ্যালেঞ্জ করার গরজ কারও মধ্যে দেখা যায়নি। খতিয়ে দেখা হয়নি এই চুক্তিতে ভারতকে বাধ্য বা রাজি করানোর কী কী সুযোগ আছে বাংলাদেশের। তিস্তা তো হয়নি, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি অনুসারে আর কোনো উল্লেখযোগ্য নদীর পানি ব্যবহার নিয়েও তাই কোনো চুক্তি হয়নি। এর মধ্যে ফেনী নদীকে ব্যবহার করে ভারতেরস্বার্থে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির সমঝোতা হয়েছে। যে কুশিয়ারার পানি ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ, তারই যৎসামান্য পরিমাণ চুক্তি মোতাবেক ব্যবহারের সমঝোতা হয়েছে কিছুদিন আগে। কিন্তু আসল যে কাজ, সেই তিস্তা বা বড় কোনো নদীর চুক্তি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানি ভাগাভাগির আলোচনায় বাংলাদেশ প্রথম থেকেই ভুল কিছু নীতি অনুসরণ করে আসছে। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নদীর পানি ভাগাভাগি।নদী শুধু পানির আধার নয়,এটি বিশাল এক ইকোসিস্টেম প্রাণবৈচিত্র্যের আবাসস্থল এবং আশপাশের এলাকার পরিবেশের নিয়ন্ত্রক। নদী তাই পানি ভাগাভাগির বিষয় নয়, এটি সমন্বিতভাবে ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার বিষয়।

ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর আলোচনা হয় কেবলই পানি ভাগাভাগির, সেও ভারতীয় ছকে। এই ছকে দুই দেশের আলোচনা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যের চাহিদার সমন্বয়ের। অথচ যেকোনো আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি অনুসারে এটি হতে হবে বাংলাদেশ ও ভারত রাষ্ট্রের চাহিদার সমন্বয়। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের আলোচনাটা হয় এমনভাবে যেন বাংলাদেশও ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য, তার সঙ্গে ভারতের অন্য অঙ্গরাজ্যের পানি নিয়ে বিরোধ অভিভাবক হিসেবে ভারত নিষ্পত্তি করতে পারছে না শেষোক্ত রাজ্যটির অনীহার কারণে! একটি স্বাধীন দেশের জন্য এটি অত্যন্ত অবমাননাকর বিষয়। ভারতকে এত কিছু দিয়েছি যে তারা কখনো ভুলতে পারবে না, এটি স্বয়ং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য। এত কিছু দেওয়ার শর্ত যদি হতো বাংলাদেশেরও স্বার্থ রক্ষা, তিস্তা নদীর চুক্তি সম্পাদন, তাহলে এত বছর ঝুলে থাকার কথা নয়।পৃথিবীতে এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যে একাই চলতে পারে। ধনী রাষ্ট্র আমেরিকাও একা চলতে পারে না বলেই বন্ধু লাগে, ন্যাটোর মতো বলয় লাগে। রাশিয়াও টিকে থাকার জন্য বন্ধু খুঁজে বেড়াচ্ছে। এই বন্ধুত্বগুলোতে বাণিজ্য আছে, দারিদ্র্য বিমোচনের লড়াই আছে। দারিদ্র্য তৈরির যূথবদ্ধ সমঝোতা আছে। তেল আছে, অস্ত্র আছে, খাদ্য আছে, খেলাও আছে। এককথায় তাবৎ কিছু আছে। এগুলো রাজনীতির বাইরে নয়। আর আমরাও কেউ এর বাইরে নই। রাষ্ট্র হিসেবে আমরা সার্বভৌম হলেও একই প্রকৃতির অংশ হওয়া কিছু বিষয়ে আমাদের প্রতিবেশীর ওপর নির্ভর করতেই হয়। প্রকৃতির ওপর কারো একক কর্তৃত্ব থাকার সুযোগ না রাখাই বাঞ্ছনীয়। সংগত কারণে নদীর জলধারায় একক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেনি বিশ্ব সংস্থাগুলো। নৈতিকতা ও আইন কোনোটাই জলের ধারাকে রুখে দেওয়া সমর্থন করে না। তবে প্রয়োজনে ব্যবহারের সর্বময় কর্তৃত্ব নিশ্চয়ই আছে। এর মানে এই নয়, নিজের ব্যবহারের নামে ভাটির দেশের জলপ্রবাহ আটকে দেওয়া যাবে; যেমনটি তিস্তায় হয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি শুষ্ক মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত জল না পাই, তাহলে ঘোর বর্ষায় উজানের ছেড়ে দেওয়া জল নেব কেন আর যখন কপাট খোলে, তখন সব কিছু ধুয়েমুছে নিয়ে যায়।সভ্যতার চিহ্ন থাকে না। ২০১৪ সালে একতরফা ভাবে জল প্রত্যাহার এখনো বলবৎ রয়েছে;যা শুধু প্রকৃতি বিরুদ্ধ হচ্ছে তা-ই নয়,একই সঙ্গে ভারতবিরোধী 
রাজনীতির একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে গড়ে উঠেছে তিস্তা নদী। বঙ্গবন্ধুর সময়কালেই যৌথ নদী কমিশনের দ্বিতীয় বৈঠকে তিস্তার জল সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এর বেশ পরে ১৯৮৩ সালে একটা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি মাত্র দুই বছরের জন্য হয়েছিল; যেখানে জলহিস্যা ছিল বাংলা দেশের জন্য ৩৬ শতাংশ, ভারতের জন্য ৩৯ শতাংশ এবং তিস্তা নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য ২৫ শতাংশ জল রাখার সিদ্ধান্ত হয়।এই চুক্তির মেয়াদ ১৯৮৫ সালে শেষ হয়।উৎস থেকে ব্রহ্মপুত্রে মিশে যাওয়া পর্যন্ত ৩১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য তিস্তার,যার মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১১৫ কিলোমিটা র। বাংলাদেশ অংশে মার্চ-এপ্রিল মাসে জলপ্রবাহ থাকে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ কিউসেক, যা অব্যাহত থাকলে তিস্তা নিকট-ভবিষ্যতে মরা নদীতে পরিণত হবে। এর প্রভাব আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পশ্চিমবঙ্গেরও একটি বড় অংশ ক্ষতির মুখোমুখি হবে। তাইতো বলি, প্রতিবেশী ও প্রকৃতির প্রতি তাঁরা সহায় হোন। 

লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক 
raihan567@yahoo.com