আইএমএফ পাকিস্তানকে মোটেও বিশ্বাস করে না, মুসলিম বন্ধুদের কাছ থেকে গ্যারান্টি চায়

94

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,অনেক কঠোর শর্ত ও দীর্ঘ আলোচনার পরও পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মধ্যে চুক্তি হচ্ছে না। (আইএমএফ ) পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ দ্বিপাক্ষিক দেশগুলি থেকে যাচাই করছে। পাকিস্তান আশা করে যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুরা কর্মী-স্তরের চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধের পরও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ দিকে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে, সংকটাপন্ন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে আইএমএফ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিষদে  (এনএ)  সম্প্রতি গত ২৮ মার্চ য়ে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইএমএফের সঙ্গে চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানকে দেউলিয়া হওয়ার কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। শাহবাজ বলেন, আমরা আইএমএফের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ করছি, কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন হয়েছে, আজ (আইএমএফ) আমাদের ধাপে ধাপে গ্যারান্টি নিতে চায়, যা দেওয়া ইতিমধ্যে সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও আরও বলেছেন যে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সমস্ত শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ এবং এখন আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলি থেকে প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বলা হচ্ছে। পাকিস্তানের অর্থ প্রতিমন্ত্রী ড. আয়েশা ঝাউস পাশা বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এখন একমাত্র অসামান্য সমস্যা হল সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ দ্বিপাক্ষিক দেশগুলি থেকে বাহ্যিক অর্থায়নের (আইএমএফ )-এর অনুমোদন, যা  অপ্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক বন্ধুদের কাছ থেকে খুব শীঘ্রই আর্থিক সহায়তা আসতে পারে এমন কোন ইঙ্গিত নেই যদিও আমরা আশাবাদী। এই দিকে  বর্তমান পাকিস্তান সরকার স্বীকার করেছে যে অর্থনীতিতে মন্দার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে বিলম্বের কারণে দেশে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে।  অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা খুবই হতাশাজনক। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীত ও বর্তমান সময়ে যে সব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আরও কমেছে।