কটিয়াদীতে গরিবের এসি খ্যাত বাঁশের তৈরি সিলিং বেড়া এখনো জনপ্রিয়

127

ছাইদুর রহমান নাঈম,কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘরের সিলিং বেড়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এখনো জনপ্রিয়তায় রয়েছে। উপজেলা জুড়ে এই হস্ত শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে ২৫-৩০ জন কারিগর৷ আধুনিক যুগে এর ব্যাবহার অনেকটা সীমিত। তবুও এই জনপদের মানুষের কাছে এর কদর রয়েছে। গ্রামের মানুষের জন্য এটি চাহিদাসম্পন্ন। বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ এই বেড়া রোদের তাপ কমিয়ে দেয়। ফলে গরমে এটি ঘর ঠান্ডা রাখতে উপযোগী। এছাড়াও এই বেড়ার উপরে অনেক জিনিসপত্র রেখে দেওয়া যায়। বিভিন্ন রকমের রং-এর আল্পনার ছোঁয়ায় এর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। অনেকেই আবার এটিকে বলেন’ গরিবের এসি’। খুঁজ নিয়ে জানা যায়, চর-ঝাকালিয়া, কটিয়াদী বাস্ট্যান্ড,মসূয়া,গচিহাটা,মানিকখালি এলাকায় রয়েছে এই শিল্প। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে বেড়া তৈরি। গরমে এর চাহিদা বেড়েছে। তাপ শোষণ করে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে বাঁশের সিলিং সহায়ক। এটির তৈরির জন্য বিশেষ একধরনের বাঁশ ব্যাবহার করা হয়৷ এই মলি বাঁশ আনতে হয় পাহাড়ি এলাকা থেকে। খাগড়াছড়ি, বান্দরবান,রাঙ্গামাটি এলাকা থেকে আনা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, জালালপুর ইউনিয়নের চর-ঝাকালিয়া এলাকায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই শিল্প চালু রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ভোরের আলো ফুটার আগেই শুরু হয়েছে কর্ম ব্যাস্ততা। কেউ নতুন বেড়া বুনছেন আর কেউ রং দিচ্ছেন। আগে এখানে ১০-১৫ জন কারিগর নিয়মিত কাজ করতেন৷ এখন কমে এসে সংখ্যা পাঁচ। প্রতিদিন ভোরেই কাজ শুরু হয়৷ প্রধান কারিগর মজনু মিয়া। তিনি একি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৩০ বছর ধরে এই শিল্পের সাথে জড়িত আছেন। তার দলে রয়েছে আরো চারজন কারিগর৷ কারিগর মজনু মিয়া বলেন,’এই সিলিং বেড়া তৈরি কষ্টসাধ্য। পরিশ্রম অনুযায়ী বর্তমান খুব একটা আয় থাকেনা৷ বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ রয়েছে। তবুও শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রেখেছি৷ মানুষের কাছে এখনো চাহিদা আছে।বেড়ার প্রকার ভেদ অনুযায়ী দাম। পাঁচ থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে হয়৷  উপকরণ: সিলিং ও বেড়া তৈরি করতে সাধারণত তল্লা ও নলি বাঁশ, সুতলী, গুণা, তারকাটা, দা, সাবল, হাতুরি ও করাতের প্রয়োজন হয়। যার সবই খুব সহজে স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়। সেখান থেকে কিনে আনেন ওই বাঁশ শিল্পীরা। একটি মাঝাড়ি আকারের বাঁশ দিয়ে কয়েক খন্ড করে। খন্ডগুলিকে পরিমাণ মতো ফালটা দা দিয়ে ক্যাচা করতে হয়। পরে হাতুরি দিয়ে ক্যাচাগুলিকে ছেচে পাতলা করে চটা বের করা হয়।এরপর একটি সমান জায়গায় ১০ হাত পাশ করে ৫০ থেকে ১০০ হাতের লম্বা দুটি সুতলী টানানো হয়। প্রতি এক হাত সিলিং বা বেড়া বানাতে ১২টি চটার প্রয়োজন পড়ে। ওই চটাগুলি দিয়ে শিতল পাটির মতো করে লাগিয়ে দিলেই অপরূপ বুনন কৌশল আর বাহারি কারুকাজে তৈরি হয়ে যায় এই বাহারি বাঁশের সিলিং ও বেড়া। প্রতিদিন তিনজন কারিগর ৯০ থেকে ১০০ হাত সিলিং ও বেড়া তৈরি করতে পারেন।খরচ ও বিক্রি: সাধারনত ৩-৫ হাত পাশ করে ৫০ থেকে ১০০ হাত লম্বা করে সিলিং ও বেড়ার তৈরি করেন এখানকার কারিগররা। আবার ওয়ার্ডার অনুযায়ী নানা আকৃতির সিলিং ও বেড়া বানান ওই কারিগররা। প্রতি এক হাত সিলিং ও বেড়া তৈরি করতে ৪৫ টাকা খরচ হয়। ৫০ থেকে ৬৫ টাকা দামে বিক্রি হয় প্রতি এক হাত সিলিং ও বেড়া। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কেউ কেউ ঘরের সিলিং, কেউ বা ঘরসহ বিভিন্ন বেড়া কাজে ব্যবহার করার জন্য কিনে নেন।