উঠান বৈঠক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের দিচ্ছে সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধান

42

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : আলাইপুর গ্রামের গ্রাহক সুজিত মল্লিক খোদ পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিনের উপস্থিতিতে তার সমস্যার কথা বলেন, সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যায় সমাধান। আরেক গ্রাহক ইলিয়াস আলী শিকারী নতুন মিটার নিতে আগ্রহী, তিনিও ওই দিনই পেয়ে গেলেন একটি নতুন মিটার। সিদ্ধার্থ মল্লিকের বাসার মিটারটি সরানোর প্রয়োজন, সেটাও একই দিনে করা হলো। আর এগুলোর সবই সম্ভব হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের আয়োজনে পরিচালিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে। যা বর্তমানে গোটা দেশে পরিচালিত হচ্ছে।


এই উঠান বৈঠক শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ ঝিনাইদহ সমিতির মাধ্যমে। ঝিনাইদহের তৎকালীন মহা-ব্যবস্থাপক মোঃ আলতাফ হোসেন এর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। চলতি বছরের ৮ আগষ্ট একদিনে তারা ২৩৬ টি গ্রামে ২৪৪ টি উঠান বৈঠক করেন। যা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দৃষ্টি কাড়ে। কেন্দ্র থেকে দেশের সবগুলো সমিতিকে এই উঠান বৈঠক করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিন এ জাতীয় উঠান বৈঠক গোটা দেশে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। তারই আলোকে বর্তমানে গোটা দেশে প্রতিনিয়ত চলছে পল্লী বিদুতের উঠান বৈঠক। সাধারণ গ্রাহকের যে বৈঠকের মাধ্যমে সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন, জানাচ্ছেন নিজেদের সমস্যা। তাৎক্ষনিক সমাধানও পাচ্ছেন। উঠান বৈঠক কার্যকর হওয়ায় অনেক বৈঠকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিন নিজেই উপস্থিত থাকছেন।


বর্তমানে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উঠান বৈঠকের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা এজিএম রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন এই উঠান বৈঠকের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনিই প্রথমে এই বৈঠক নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তারাও বিষয়টি শুনে পরীক্ষামূলক ভাবে উঠান বৈঠক করার পরিকল্পনা নেন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চলতি বছরের ৮ আগষ্ট তারা ঝিনাইদহ জেলার ২৩৬ টি গ্রামে একই দিনে ২৪৪ টি উঠান বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলো অত্যান্ত কার্যকর হয়েছিন। একই দিনে প্রায় ৩ শতাধিক গ্রাহকের নানা সমস্যার সমাধান করেন। যা ১০ আগষ্ট প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর এই উঠান বৈঠক সারা দেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে ছড়িয়ে যায়। ঝিনাইদহের উঠান বৈঠক দেখে কর্মকর্তারা এটাকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।


রেজাউল ইসলাম আরো জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিন নির্দেশ দেন সারা বছর এজাতীয় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌছাতে। তারই আলোকে গত ৩ মাসে শুধুমাত্র ঝিনাইদহে ১ হাজার ১৯২ টি বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে তারা ৪ শতাধিক গ্রাহকের নানা সমস্যার সমাধান করেছেন। অনেক গ্রাহক নতুন সংযোগ পেয়েছেন। যা আবেদনের সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ থেকে শুরু হওয়া এই উঠান বৈঠক বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় কর্মসুচিতে রুপ নিয়েছে। গত তিন মাসে গোটা দেশে ৫ হাজারের অধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।


ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতার কুটিদূর্গাপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, তাদের গ্রামের মাঠে গভির নলকুপের কাছে বিদ্যুতের তারের সঙ্গে ডিস লাইনের তার আটকে ছিল। বিষয়টি খুবই ভয়ংকর হলেও সমাধান হচ্ছিল না। এরপর গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিষয়টি তুলে ধরার পর কর্তৃপক্ষ সমাধান করেছেন। ডেফলবাড়িয়া গ্রামের সাদেক আলী বিশ^াস জানান, তার বাড়িতে একটা নতুন মিটারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পাচ্ছিলেন না। এরপর তাদের গ্রামের উঠান বৈঠকে তিনি বিষয়টি সবাইকে অবহিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে নতুন মিটার পেয়ে যান।
একই ভাবে গত ২৯ নভেম্বর খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জালমা ইউনিয়নের আলাইপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় একটি উঠান বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিন। তার উপস্থিতিতে একাধিক গ্রাহক তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত ইলিয়াস হোসেন শিকারী জানান, তার বাসায় একটি নতুন মিটারের প্রয়োজন ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে এ বিষয়ে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। শেষে উঠান বৈঠকে প্রসঙ্গটি উঠলে ওই দিনই তার তিনি নতুন মিটার পেয়েছেন। একই ভাবে খানজাহান আলী শিকারীও পেয়েছেন একটি নতুন মিটার। তিনিও দীর্ঘদিন এই মিটারের জন্য ঘুরেছেন। এই বৈঠকে ২৭ টি সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধান করা হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন।


আলতাফ হোসেন জানান, তিনি ঝিনাইদহ থাকতে এই বৈঠক চালু করেছিলেন। বর্তমানে এটা গোটা দেশে পরিচালিত হচ্ছে। গত তিন মাসে গোটা দেশে কমপক্ষে ৫ হাজার উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) মঈন উদ্দিন উপস্থিত থাকছেন। তিনি খুলনা অঞ্চলে বৈঠক করে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকটি বৈঠকে চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে সাধারণ গ্রাহকের কথা শুনেছেন। তিনি নিজেও অনেক বিষয়ে সমাধান দিয়েছেন।