শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়, প্রদর্শন, বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণা বন্ধে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

75

ডেস্ক নিউজ : ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বরাবর এক চিঠির প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রণালয় একটি নোটিশ জারি করে (স্মারক নম্বর: ৩৭.০০.০০০০.০৬৫৯৯.১০৪.১৭-৪৬১, তারিখ : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯)। নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বা ভিতরে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার, বিক্রয়, প্রদর্শন, বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণা বন্ধে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নোটিশটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক ও তামাকনিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, আমাদের জরিপে দেখা যায় ৯০.৫% বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কেন্দ্র (পয়েন্ট অব সেল) পাওয়া যায়। দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠির প্রায় ৩০ শতাংশই তরুণ। দীর্ঘস্থায়ী ভোক্তা সৃষ্টির জন্য তামাক কোম্পানির লক্ষ্যও এই তরুণ জনগোষ্ঠী।

তিনি আরো বলেন, তরুণদের সিগারেট ব্যবহারে আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানি নানাবিধ প্রচারণা করছে। এই নোটিশ আমাদের আগামী প্রজন্মকে তামাক ব্যবহারের থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে, তামাক কোম্পানির কূটকৌশল প্রতিহত হবে এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য,  গেøাবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-২০১৭তে দেখা যায়, শতভাগ ধূমপানমুক্ত পাবলিক প্লেস হওয়া সত্তে¡ও বিদ্যালয়ে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে ৮.২% মানুষ, যা খুবই উদ্বেগজনক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে তামাকপণ্য বিক্রয়, জোরালো মনিটরিংয়ের অভাব এবং শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ সম্পর্কে অসচেতনতা প্রভৃতি কারণে বিদ্যালয়ে পরোক্ষ ধূমপান নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্রে সহযোগিতায় বাংলাদেশে শিশুদেরকে তামাকজাতদ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে তামাক কোম্পানি যে সকল কৌশলসমূহ অবলম্বন করছে তার উপর ‘বিগ টোব্যাকো টাইনি টার্গেট’ শীর্ষক একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা যায়, ৯০.৫% বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কেন্দ্র (পয়েন্ট অব সেল); ৮১.৭% দোকানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন হয় শিশুদের দৃষ্টি সীমানার মধ্যে (১ মিটারের মধ্যে); ৬৪.১৯% দোকানে ক্যান্ডি, চকোলেট এবং খেলনা পাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে দেখা যায় এবং ৮২.১৭ দোকানে তামাকের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শিত হয়।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ২০০৫ সাল থেকে গণমাধ্যমে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো বিক্রয়কেন্দ্রে জোর প্রচারণা চালানো শুরু করে। ২০১৩ সালে সংশোধিত আইনে বিক্রয় কেন্দ্রসহ যেকোন স্থানে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত তখন থেকেই তামাক কোম্পানিগুলো বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন গ্রাহক সৃষ্টি করতে নিত্যনতুন কৌশলে পণ্যের প্রচার অব্যাহত রেখেছে। তামাক কোম্পানির এই আগ্রাসী প্রচারণা ক্রমবর্ধমান। এছাড়া আইনকে পাশ কাটিয়ে অধূমপায়ী বিশেষত তরুণদের আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো বিক্রয়স্থলে প্যাকেট সাজিয়ে রেখে এবং বিক্রেতাদের আকর্ষণীয় বাক্স প্রদানসহ নানা কৌশল অবলম্বন করে পণ্যের বিজ্ঞাপন অব্যাহত রেখেছে। তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন-প্রচার বন্ধে ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি যথেষ্ট শক্তিশালী। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এই আইনের মাধ্যমেই তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন-প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে তামাক কোম্পানিগুলোও তাদের পণ্যের বাজার ধরে রাখতে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করবে, যা বিদ্যমান আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠির প্রায় ৩০ শতাংশ তরুণ। দীর্ঘস্থায়ী ভোক্তা সৃষ্টির জন্য তামাক কোম্পানির লক্ষ্যও এই তরুণ জনগোষ্ঠী।