চুয়াডাঙ্গা শহর ইজিবাইকের দখলে, চরম দূর্ভোগ শিক্ষার্থীসহ শহরবাসি

32

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, সোহেল রানা ডালিম : চুয়াডাঙ্গায় দিন দিন বেড়েই চলেছে ইজিবাইকের সংখ্যা। অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে ঘটছে অনেক দূর্ঘটনা। ইজিবাইক দূর্ঘটনায় পঙ্গুতস¡হ অসহায় জীবনযাপন করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বেপরোয়া চালকদের যত্রতত্র ইজিবাইক পার্কিং করাই তীব্র যানযটের ফলে চরম ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে শহরবাসি। ইজিবাইকের এসব দৌরাত্বের হাত থেকে পরিত্রান পেতে পৌর-মেয়র নানা কর্মসূচি হাতে নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে চুয়াডাঙ্গা শহরের সাধারণ মানুষ ইজিবাইকের ভোগান্তী থেকে মুক্তি পায়নি আজও।

শহরে ইজিবাইকের জট লাগে সকালের অফিস আদালত স্কুল কলেজ খোলার সময় আর বিকেলের পর। সাধারণ মানুষ বলছে শহরে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। এসব ইজিবাইকগুলোর সংখ্যা হবে প্রায় চার হাজারের মতো। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক আর অদক্ষ ইজিবাইক চালকদের কারণেই সড়কে যানজট হচ্ছে। ঘটছে ছোট-বড় অনেক দূর্ঘটনা।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার তথ্য মতে শহরে ইজিবাইকের যানযট কমাতে পৌরসভা থেকে লাইন্সেস অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। শহরের ভিতর যে ইজিবাইকগুলো দেখা যায় তার অধিকাংশই অন্য উপজেলা থেকে শহরে এসে ভাড়া খাটে। যার ফলে বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা শহরে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। নতুনভাবে এই সমস্য সমাধানে পৌরসভা থেকে চার উপজেলার ইজিবাইকের রংয়ের ভিন্নতা অনার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এতে করে অন্য উপজেলার ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। পৌরসভার হিসাব অনুয়ায়ী শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা এক হাজারের মতো।

এছাড়াও ইজিবাইক যানযট সমস্যা এড়াতে চুয়াডাঙ্গার সাবেক জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ রোগীদের সুবিধার কথা ভেবে হাসপাতাল সড়কে একমুখী চলাচল ব্যবস্থা চালু করলে ভালো পরিমাণ সাড়া পাওয়া যায়। তবে ওাই একমুখি চলাচল ব্যবস্থা এখন আর মানেন না কেউ।
শহরের প্রাণ কেন্দ্র বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বর, কোর্ট মোড় , একাডেমি মোড়সহ পৌর বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাট রোড, হাসপাতাল সড়ক, রেলওয়ে স্টেশন সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ন সড়কে প্রতিনিয়ত দেখা যায় ইজিবাইকের যানযট সমস্যা। যানযট নিরসনে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ লাগাতার চেষ্টা করলেও ইজিবাইকের দৌরত্বে তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে অনেক সময়।

চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী প্রেমা সরকার বলেন ঝিনাইদহ বাসষ্টান্ড থেকে তার স্কুলে আসতে সময় লাগে দশ মিনিট। কিন্তু ইজিবাইকের যানযটে পথে রিক্স্রায় বসে থাকতে হয় ত্রিশ মিনিট।

মিনিবাস চালক মতিয়ার রহমান বলেন, শহরের তিন কিলোমিটার রাস্তা পার হতে অনেক সময় ভোগান্তীর শিকার হতে হয়। ইজিবাইকের যানযটে অল্প এইটুকু রাস্তায় শহীদ হাসান চত্বর থেকে বাসষ্টান্ডে আসতে সময় লাগে প্রায় আধাঘন্টা।

রাস্তার পাশে কাপড়ের দোকানদার শফি উদ্দিন জানান ইজিবাইকগুলো দিন দিন সড়কে বেপোরোয়া ভাবে চলাচল করছে। চলতি পথে হটাৎ করেই রাস্তার পাশে সিগনাল বাদে দাড়িয়ে পড়ে এসব ইজিবাইক। অদক্ষ চালকের কারণে ঘটছে বড় বড় দূর্ঘটনা। এসব ইজিবাইকের যানযট কমাতে কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিশ্চুপ বসে রয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ সম্পাদক হোসেন জাকির জানান, অদক্ষ চালকের কারণে ইজিবাইকে দূর্ঘটনাগুলো ঘটে। দিন দিন ইজিবাইকের সংখ্যা বাড়ার ফলে যানযট কমানো এখন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক ইজিবাইক চালালে দূর্ঘটনা কম হবে বলে মনে করেন তিনি।

ইজিবাইকের যানযটের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ইজিবাইকের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার উপজেলায় ইজিবাইকগুলোর ভিন্ন রঙের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে কোন সড়কে ইজিবাইক চলতে পারবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।