সিটি নির্বাচন প্রেক্ষিত ও পৌর নির্বাচনের আগাম প্রচারণা

91

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু , লেখক কলামিষ্ট : অনাবিল আশা আকাংখা, প্রত্যাশা ও সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। ৪৮ বছরেও স্বাধীনতার কাংখিত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতে জনগণের এত অনুযোগ, অভিযোগ ও বেদনার অশ্রুধারা। সরকারি, বেসরকারি এমন কোনো সংস্থা, কর্তৃপক্ষ ( Authority) নেই যেখানে প্রত্যাশার নিরিখে অনুযোগ ও অভিযোগের কমতি নেই। যা জাতির ভাগ্য বিড়ম্বনারই দলিল। এক সময় জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ছিল আনন্দ, উল্লাস ও উৎসবের সমারোহ। দীর্ঘদিন ধরে এসব নির্বাচনে গ্যাংরিনের মতো পঁচন, ভোট খেকো দানব, রাক্ষস ও ইবলিশের আবির্ভাব হয়েছে বলেই যে কোন পর্ষদের নির্বাচনে এত সংশয়, সন্দেহ ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এত কথা, এত প্রশ্ন ও লেখালেখি। তারপরও সীমাবদ্ধতার কারণে বাস্তবতার নিরিখে অনেক কিছু বলা, লেখা ও প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের জনগণ, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, রাজনৈতিক দল, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এ দিনটির অপেক্ষা করছে। সবার মুখে একই কথা এ নির্বাচনটি যেন অতীতের মতো অনুষ্ঠিত না হয়ে সুন্দর, স্বচছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। এরই মধ্যে আগামী পৌর নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস সামনে থাকলেও এখনই দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীদের দৃশত আগাম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। যা এ নিবন্ধে পরে আসছি।

এবারের ঢাকা দুটি সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এরই মধ্যে নির্বাচনে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আসন্ন সিটি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, নতুন বছরে গণতন্ত্রের জন্য ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন হচ্ছে প্রথম চ্যালেঞ্জ। অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সব দল সমান সুযোগ পাবে। সরকার একটি ভালো নির্বাচন করতে চায়। ৪৮ বছর ধরে সরকারি দল ও নির্বাচন কমিশন এমন আশার বাণী শুনালেও বাস্তবে তা অপূর্ণ থাকার নজির কম নহে। অপর দিকে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি পরিস্কার করে বলছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু, অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়নি। তারপরও বিএনপি যেহেতু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দেশবাসী তা দেখার জন্য চেয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচনের সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সিটি নির্বাচন লোক দেখানো। একদিকে গ্রেফতার আতংক অন্য দিকে প্রচারণা। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া অন্য কিছু নয়।

এছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ, নির্বাচন কমিশনের সরকার প্রীতি, দুর্বলতা, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপের শীতিলতার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি বলে তাদের মন্তব্য ও বদ্ধমূল ধারণা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন, ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি (ঢাকা উত্তর) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নবগঠিত ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচন ও ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের নির্বাচনের উদাহরণ প্রনিধান যোগ্য। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের নির্বাচন তৎকালীন আইন অনুযায়ী নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তা হয়নি। ওই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সরকারের একজন সচিব তার অধীন দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময়কালে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের জন্য ভোট চায়। যদিও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও অন্যান্য প্রার্থীদের ভাগ্যে এ সুবিধা পরিলক্ষিত হয়নি। এ ধরণের প্রচারণা আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘনও বটে। এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরদখলের মতো অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। যা প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যম আজও নিরব সাক্ষী। ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র দখল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন প্রার্থীদের পুলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বেড় করে দেয়া এবং ইত্যাদি কারণে বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করে থাকে। আরও নির্বাচন বর্জন করে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী, গণসংহতি আন্দোলনের মেয়র পদ প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এসিটি নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন আখ্যায়িত করে থাকে। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন এ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। একই অনুরোধ জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশী কূটনীতিকরাও এ সিটি নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং সংঘটিত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহবান জানায়। সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন কমিশন নির্বাচনের অভিযোগ তদন্ত তো দূরের কথা ক্ষিপ্রগতিতে এ সিটি নির্বাচনে জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করে তদন্তের পথ রুদ্ধ করে দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল ২০১৫ ইং দেশের অনেকগুলো দৈনিকের শিরোনাম ছিল, জিতল আওয়ামী লীগ, হারল গণতন্ত্র। আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন সিইসি কে.এম নূরুল হুদা। ২০১৫ সালের দুই সিটি নির্বাচনে প্রথমে স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায় সিইসি কাজী রকিব কমিশন। আসন্ন সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ না করার ফলে এবারের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার প্রশ্নে বিএনপিসহ কিছু দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এবারই নয় বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব সংবাদ সম্মেলন করে সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে তাদের আপত্তি কারণ বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে বলা হয় সিটি ভোট ইভিএম গ্রহণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটাধিকার হত্যার এক নিঃশব্দ প্রকল্প বাস্তবায়নের দুরভিসন্ধি মাত্র। যা সুপরিকল্পিত পরিকল্পনারই অংশ। এছাড়া ইভিএমের প্রোগ্রাংমিংয়ে ভ্রান্তি, যান্ত্রিক ত্রুটি, বিদ্বেষাত্মক টেম্পারিং বা কারসাজি, কম্পিউটার ভিত্তিক ভোট প্রদান যন্ত্রের অর্ন্তনিহিত দুর্বলতা। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে ইভিএম নিয়ন্ত্রনের সুযোগে বিশেষ দলের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল পাইয়ে দেয়ার দুরভিসন্ধিসহ নানা অভিজ্ঞতার কারণে ইভিএমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রনে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংলাপে অংশ নিয়েছিল। যার মধ্যে ২৩টি দল একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে নিজেদের মতামত দিয়েছিল। বিএনপিসহ ১২টি দল সুস্পষ্টভাবে ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে মত প্রদান করে থাকে। আওয়ামী লীগসহ ৭টি দল ইভিএমের পক্ষে মত দিয়ে থাকে। সফিষ্টিকেটেড ও উন্নত ইভিএম মেশিনেও যে কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে এবং রিমোট কন্ট্রোলে ভোট কারচুপি করা যেতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসি, সিইসি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন তা জানা না গেলেও অনেকেই মনে করে এ সমস্যার সমাধান ও উত্তরণের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এছাড়া ১১/০১/২০২০ ইং নির্বাচন কমিশন ভবনে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক শেষে সিইসি বলেছেন, নির্বাচনের আচরণ বিধি অনুসারে এমপিরা নির্বাচন সমন্বয় করতে পারবেন না। কোনো প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে ভোট চাইতে পারবেন না। যা ১২/০১/২০২০ ইং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে একজন বিএনপি নেতা বলেছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে দুই জন উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে সমন্বয় করছেন উনারা দুজনেই বর্তমানে এমপি, তারা কিভাবে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই প্রার্থীর সমন্বয়কারীর (ঈড়-ড়ৎফরহবঃড়ৎ) দায়িত্ব পালন করছেন তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশনার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপরই দৃষ্টিপাত প্রনিধানযোগ্য। যদিও ১১/০১/২০২০ ইং অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিইসি, অন্যান্য কমিশনার ও জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সুস্পষ্টভাবে যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা ১২/০১/২০২০ ইং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। পৌর নির্বাচনের এখনও বেশ সময় সামনে থাকলেও দেশের প্রায় সর্বত্র পৌর নির্বাচনের আগাম প্রচারণার দৃশ্যপট কমবেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে। সড়ক পতে চলাচলে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীরা তাদের ছবি সম্বলিত

বাহারী রং বেরংয়ের আকর্ষনীয় বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও আকর্ষনীয় পোস্টার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে রেখেছে। সবারই প্রত্যাশা জনগণের সমর্থন, স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। অনেকেই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের হাল হকিকত ও আমলনামার দিকে তাকিয়ে আছে। যদি দুই সিটিতে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তাতে দেশের জনগণ, ভোটার ও আগামী পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের উৎসাহ উদ্দীপনার অনেকাংশে বেড়ে যাওয়ারই কথা। আর যদি কোনো কারণে তা আশাব্যঞ্জক না হয়ে কপোকাঘাত হয় তবে তা আগ বাড়িয়ে বা অনুমান ভিত্তিক কোনো মন্তব্যের এখনই সময় হয়নি। যা হয়তো সময়ই এক সময় তা বলে দিবে। তদোপরি আগাম একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনই বলতে পারে। অন্য কারও তাতে বলার সুযোগ নেই। ঈমানদার, মোত্তাকীন কখনও আন্দাজ ও অনুমানের ওপর মন্তব্য করতে পারেনা। তদোপরি যদি চরদখলের মতো গতানুগতিকভাবে এবারও সিটি নির্বাচনে ভোট কারচুপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বা না হয় তবে হয়তো প্রার্থীর সংখ্যা প্রেক্ষাপটের কারণে কমেও যেতে পারে আবার বেড়েও যেতে পারে। আগেই বলেছি, এখনই সেদিকে যাওয়া, বলা, আলোচনা, সমালোচনা বা মন্তব্যের দিকে এগুতে চাচ্ছি না।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের গাইটালে মরহুম সংসদ সদস্য আলমগীর হোসেনের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত আলমগীর হোসেন সিটির ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অনেকের মতো আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করে থাকি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন সলোশ্যান নেষ্ট বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মরহুম আলমগীর হোসেন এমপির সহধর্মিনী রাবেয়া আক্তার খানম ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারই পুত্র মোঃ শফিকুল আলম শিপলু। ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিপলু একজন বিনয়ী, সৌম্য, নম্র, ভদ্র, জনবান্ধব, মিষ্টভাষী, সমাজসেবক, জনহিতৈষি, ব্যবসায়ী ও উচ্চ শিক্ষিত। কনকনে শীত, ঠান্ডা বাতাস ও শৈত্য প্রবাহ উপেক্ষা করে নারী, পুরুষ, তরুণ, যুবক, যুবতী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, কর্মজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের লোকদিগকে এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়। এ অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক ছোঁয়া লক্ষ্য করা না গেলেও রাজনৈতিক দলের অনেককে দেখা যায়। মোদ্দা কথা অনুষ্ঠানটি ছিল বড় দুটি প্যান্ডেলের আদলে পরিপাটি সুন্দর ও সুসজ্জিত। অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার অভিভাষনে প্রতিষ্ঠানটির সূচনা থেকে ৭ বছর কি অগ্রগতি হয়েছে এবং জনকল্যাণার্থে কি ধরণের পরিকল্পনা রয়েছে তা ফুটিয়ে তোলে। এ অনুষ্ঠানে অন্য আর কোনো বক্তা ছিল না। তবে তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কোন স্পর্শ বা ছোঁয়ার আঁচড় পরিলক্ষিত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ও ভবিষ্যৎ জনস্বার্থ সংক্রান্ত কল্যাণমূলক দিকদর্শনের আশাহতরাও নতুন আলোর পথ খোঁজে পয়েছে। তার সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার কথা শুনে অনেকের মতো আমারও মনে হয়েছে বড় বড় কথার চেয়ে কাজকর্ম ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে কোন সৃজনশীল ব্যক্তি সমাজের চেহারা বদলিয়ে নতুন রূপকল্প সৃষ্টি করতে পারে। তাই দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও সংসদে সমাজের সৃজনশীলদের আসা দরকার বলে অনেকেই মনে করে থাকে। বড় বড় কথা, ক্ষমতার বাহাদুরী সব কিছুকে দিনের পর দিন রসাতলের দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সময় যখন বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের বেসামাল ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, লুন্ঠন, মিস্টার ফাইভ পার্সেন্ট ও টেন পার্সেন্টের কথা গণমাধ্যমে দৃষ্টিতে আসে তখন হয়তো দুঃখ বলার জায়গা থাকে না। যখন দেখা যায়, দুদক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুর্নীতিবাজ, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিকে খুঁজছে টিআর, কাবিখা, জিআর, সাশ্রয়ী মূল্যের ১০ টাকা সেরের চাউল, উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। তখন জনগণের এ ব্যথা বলার জায়গাই বা কোথায় ? সুনির্দিষ্ট অন্যায়, দুর্নীতি, অপকীর্তি উল্লেখ পূর্বক মেজর (অবঃ) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিএইচডি একটি কলাম লিখেছেন। যা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এ ১৩/০১/২০২০ ইং প্রকাশিত হয়। যা পড়লে দুর্নীতিবাজ দানবদের ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি ও মুখোশ চোখের সামনে ভেসে উঠারই কথা।

দেশের আগামী পৌর নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য ও জনগণের ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, এ বিষয়ে অনাবিল প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন যাতে কোনো প্রকার কারচুপি, হুন্ডা, গুন্ডা, দানব ও ভোট খেকো ব্যতিরেখে স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় ইহাই দেখার বিষয়। তদোপরি মাঠের বিরোধী দল বিএনপি, অন্যান্য দল ও সুশীল সমাজের ইভিএমের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ ব্যাপারে কী ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তা যেমন দেখার বিষয়, তেমনি ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আসন্ন সিটি নির্বাচনের হাল হকিকত ও ইসি সিইসির ভূমিকার দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে।

পরিশেষে বলব, বড় বড় কথা নয়, যাদের মাঝে কথা ও কাজের সমন্বয় ও নির্বাচনী এলাকার জনগণের সাথে কথা দিয়ে যারা কথার প্রতিফলন ঘটায়, প্রতিশ্রুতি পরায়ন ও সৃজনশীল তাদেরই যেকোন নির্বাচনে এগিয়ে আসা উচিত। দিন যতই এগিয়ে আসবে পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীদের নামও হয়তো প্রকাশিত হবে। তবে সেদিন আলমগীর হোসেন সিটির ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে কর্ণকুহরে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের গুঞ্জনের ধাক্কা লেগেছে। তা জানার জন্য অনেকের মতো অপেক্ষায় রইলাম। ভোটারদের ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এর অন্যথা বা ব্যর্থয় ঘটলে গণতন্ত্র উত্তরণের শেষ জায়গা বা অবশিষ্ট বলতে আর কিছু থাকে না। যে কোনো পর্ষদের নির্বাচনে ভোটারদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই জনপ্রত্যাশা।