বিশ্বের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিকে

18
রায়হান আহমেদ তপাদার:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিশ্বের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি। যুদ্ধ, মহামারি বা জলবায়ৃ পরিবর্তনের মতো কোন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট কী ভুমিকা রাখছেন তার প্রভাব অপরিসীম। এ কারণেই প্রতি চার বছর পরপর যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, তখন এর ফলাফল কী হবে তা নিয়ে সারা পৃথিবীতেই তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। আমেরিকায় নির্বাচন হয়ে থাকে প্রতি চার বছর পরপর, এবং সেই বছরের নভেম্বর মাসেই হয় ভোটগ্রহণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি অন্য অনেক দেশের চাইতে বেশ আলাদা। এখানে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী দল মাত্র দুটি। কাজেই প্রেসিডেন্ট প্রায় সব সময়ই এই দুটি দলের কোন একটি থেকে আসেন। রিপাবলিকান পার্টি 'গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি' নামেও পরিচিত। সাম্প্রতিককালে রিপাবলিকান পার্টির নীতি ছিল করের হার কমানো, বন্দুক রাখার অধিকার এবং অভিবাসনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে। সাধারণভাবে দেখা যায়, আমেরিকার অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থন বেশি জোরালো। রিপাবলিকান পার্টির পূর্বতন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে আছেন জর্জ ডব্লিউ বুশ, রোনাল্ড রেগান এবং রিচার্ড নিক্সন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হচ্ছে উদারনৈতিক রাজৗনৈতিক দল। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বারাক ওবামা যখন আট বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন  বাইডেনই ছিলেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি পরিচিত নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে তার উদারনৈতিক অবস্থানের জন্য। তারা মনে করে, স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ দেবার মতো জনগণের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের আরো বড় ভূমিকা পালন করা উচিত।
আমেরিকার শহর অঞ্চলগুলোতে ডেমোক্যাটিক পার্টির সমর্থন জোরালো বলে দেখা যায়। সাবেক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্টদের মধ্যে আছেন জন এফ কেনেডি, বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামা। অন্য অনেক দেশের নির্বাচনেই দেখা যায়-যে প্রার্থী বেশি ভোট পান তিনিই প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সব সময় তা নাও হতে পারে। কারণ মার্কিন নির্বাচনী পদ্ধতিকে বলা যায় 'পরোক্ষ' ভোট ব্যবস্থা-যা অনেকের কাছে একটু জটিল মনে হতে পারে। এখানে একজন ভোটার যখন তার পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, তখন তিনি আসলে ভোট দিচ্ছেন তার অঙ্গরাজ্য-ভিত্তিক নির্বাচনী লড়াইয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীকে আসলে দু'ধরণের ভোট জিততে হয়। একটি হচ্ছে 'পপুলার' ভোট বা সাধারণ ভোটারদের ভোট। আরেকটি হচ্ছে 'ইলেকটোরাল কলেজ' নামে এক ধরণের নির্বাচকমন্ডলীর ভোট। নির্বাচনের প্রার্থীরা আসলে এই ইলেকটোরাল ভোট জেতার জন্যই লড়াই করেন। কোনো নির্বাচন ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়-এই ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতিরও দোষ-গুণ দুটোই আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এই পদ্ধতিকে ব্যাপক সম্মানের চোখে দেখা হয়, কারণ এর সাথে দেশটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সংযোগ আছে। তাছাড়া সাধারণত: এতে জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটে থাকে। যদিও গত পাঁচটি নির্বাচনের দুটিতেই এ পদ্ধতি ঠিক কাজকরেনি।এর সর্বসাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত হচ্ছেন হিলারি ক্লিনটন যিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের চাইতে প্রায় ৩০ লক্ষ পপুলার ভোট বেশি পেলেও প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে এই ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা।যে অঙ্গরাজ্যে জনসংখ্যা বেশি, তার ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যাও বেশি।মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা হচ্ছে ৫৩৮।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে গেলে একজন প্রার্থীকে অন্তত: ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। একেকটি অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজ সেই রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের রায় অনুযায়ী ভোট দিয়ে থাকে।একটি রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পান-তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান।অবশ্য দুটি রাজ্যের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম আছে।এভাবে একেকটি রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ হতে হতে যে প্রার্থী ২৭০ পার হন-তিনিই হন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্যই চিরাচরিতভাবে 'রিপাবলিকান' বা 'ডেমোক্র্যাট' বলে চিহ্নিত হয়ে গেছে।তাই প্রার্থীরা প্রচারণার সময় এমন ১০-১২টি রাজ্যের দিকে মনোযোগ দিয়ে থাকেন-যেগুলো ঠিক নির্দিষ্ট কোন দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত নয় এবং যে কোন দলই জিতে যেতে পারে।এগুলোকেই বলে 'ব্যাটলগ্রাউন্ড' স্টেট-অর্থাৎ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আসল লড়াই হয় এ রাজ্যগুলোতেই। যাইহোক, চলতি বছর মার্কিন নির্বাচন ঘিরে বাকি বিশ্বের আগ্রহের মধ্যে একটা মরিয়া ভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরলে সে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আমূল বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরেন বা না ফেরেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচনের প্রভাব একাধিক কারণে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিশেষ করে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রজন্মের পরিবর্তন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে। প্রথম মেয়াদে ক্ষমতার শেষে ট্রাম্প কিছুতেই নির্বাচনে নিজের হার স্বীকার করেননি। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হলে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর জোরালো আঘাত হানতে পারেন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন। 
অন্যদিকে অশীতিপর বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পুনর্নির্বাচিত হলেও আর কত দিন তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, সে বিষয়েও সংশয় রয়েছে।রিপাবলিকান দলের মনোনয়নের দৌড়ে ট্রাম্পের পথ থেকে একের পর এক বাধা দূর হয়ে যাচ্ছে। একাধিক প্রার্থী দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী বিবেক রামস্বামী ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রন ডিস্যান্টিস রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। রামস্বামী এমনকি ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন, এমন জল্পনাকল্পনাও চলছে।ট্রাম্পেরই কিছুটা দায়িত্বশীল সংস্করণ হিসেবে পরিচিত ডিস্যান্টিসও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী, জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালি। তিনি নিজেকে রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পের একমাত্র বিকল্প এবং ট্রাম্প ও বাইডেনের মতো বৃদ্ধ প্রার্থীদের বদলে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে বয়স সত্যি একটি ধর্তব্যের বিষয়। বাইডেনের বয়স ৮১, ট্রাম্পের ৭৭৷ ফলে তাঁদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্পূর্ণ কার্যকাল পূরণ করার ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তেমন নেতৃত্বের পরিচয় দেখাতে পারেননি। নিজের দপ্তরে কেলেঙ্কারির ফলেও কিছুটা কোণঠাসা হয়ে গেছেন।অন্যদিকে ট্রাম্প দলের মনোনয়ন পেলে কাকে শেষ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করবেন, তার ওপরও ভোটারদের সিদ্ধান্ত কিছুটা নির্ভর করতে পারে। বাইডেন শেষ মুহূর্তে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য কোনো ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে হয়তো কিছুটা বাড়তি সমর্থন আদায় করতে পারবেন।
এদিকে রাজনৈতিক আঙিনায় কমলা হ্যারিস, বিবেক রামস্বামী ও নিকি হ্যালির মতো তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে হিসাব-নিকাশ মার্কিন রাজনীতির বিবর্তন স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে যতটা শক্তিশালী করে তুলেছেন ও কর্মসংস্থানে জোয়ার এনেছেন, শুধু সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ভোটারদের মনে তাঁর ভাবমূর্তি যথেষ্ট অনুকূল নয়। ফলে তাঁর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মতো আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বাইডেনকে এত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে যে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট সময় পাচ্ছেন না।সাধারণত মার্কিন ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তালিকায় পররাষ্ট্রনীতির স্থান অনেক পেছনে। ফলে বিদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাফল্য দেশে নির্বাচনের ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না। একমাত্র বিদেশে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন বা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েই বেশি মাথাব্যথা দেখা যায়। বিশ্ব আজ কোন পথে এগোচ্ছে। ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কেমন হবে বা হতে পারে। ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির এবং আদর্শের একটি বড় জায়গা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের নেতা-নেত্রী ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করা। রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া। এটা আর নির্দিষ্ট সমাজ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারছে না। হাইজ্যাক হয়ে গেছে গ্লোবাল রাজনীতির কারণে ও করপোরেট ডেমোক্রেসির স্বার্থের নেটওয়ার্কে। উগ্র জাতীয়তাবাদী চিন্তা, বর্ণবাদী চিন্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমূলক চিন্তা, নাগরিকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিরাপত্তা, গায়ের জোর, অটোক্রেসি, দুঃশাসন ও অন্যায্য বিচারের সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে বিশ্বে এখন গণতন্ত্রের নামে এবং এর মোড়কে।
এবারের নির্বাচনী লড়াইটা কেবলই ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের ক্যান্ডিডেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ।সততার সঙ্গে অসততার লড়াই। বিনয়, ভদ্রতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা-এসবের বিরুদ্ধে অসভ্য শক্তির লড়াই। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে টিকে যাবে কে বা পড়ে যাবে, বলা কঠিন হলেও আশঙ্কা হয়, এই যুদ্ধে যদি মানবতার পরাজয় হয়, বিনয় ও ভদ্রতা এবং সৌজন্যের পরাজয় হয়, তার অশুভ ফল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ভবিষ্যতের পথে বড় রকমের নেতিবাচক পরিবর্তন এনে দিতে পারে। সেই পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর আগামী ভবিষ্যৎ আরো বেশি সংঘাতময় হওয়ার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে যার কিছু নমুনা দেখছি। ট্রাম্পের বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য নীতি, রাশিয়া ও চীননীতি। এ ব্যাপারে তার চিন্তা এবং পদক্ষেপ ধর্মবিদ্বেষ এবং অন্যান্য বর্ণবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো চার বছর এসব যদি প্র্যাকটিস করতে পারেন, আমেরিকার জন্য সেটা কোনোভাবেই আমেরিকার ঐতিহ্যকে তার প্রতি বিশ্ব আস্থাকে ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। রাজনীতিতে যদি ট্রাম্প নীতি, ট্রাম্পইজম বা স্ট্র্যাটেজি বলে কিছু প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তখন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রভাবশালী থার্ড পার্টি, ট্রাম্প পার্টি সৃষ্টি হতেও পারে, যার উদ্দেশ্য থাকবে জোর যার মুল্লুক তার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই নীতিকে প্রতিষ্ঠা করা। অনেকের মতে, যেটা এখনো আছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে এ বিষয়টির ব্যাপারে যে একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ছিল, এই জায়গাটাকে  ট্রাম্প ভেঙেচুরে দিয়েছেন। মিথ্যার বিরুদ্ধে, অসভ্য ও বর্বরতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবার কি বিজয়ী হতে পারবে? এখন এটা স্পষ্ট বলা যাচ্ছে না।দেখা যাক,কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়।যদিও আমেরিকার দুটি পার্টি ডেমোক্র্যাটিক দল ও রিপাবলিকান একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক 
raihan567@yahoo.com