স্মৃতিতে সাংবাদিক মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাই

78

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু ,লেখক কলামিষ্ট : দুনিয়ার মোহমায়া ত্যাগ করে একদিন সবারই না ফেরার দেশে চলে যেতেই হবে। একদিন আগে আর পরে প্রত্যেকেরই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। যার জন্ম না হলে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন দুনিয়া সৃষ্টি করতেন না সেই মহামানব আখেরী জামানার নবী আল্লাহর হাবিব সুমহান ইসলাম ধর্মের পথ প্রদর্শক ও প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)ও এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এর চেয়ে বড় ব্যাথা, কষ্ট, বেদনা মুসলমান ও নবীজীর উম্মতের জন্য আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ইহাই বাস্তবতা। নিয়তির এ বিধানকে মানতেই হবে। তাই আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন এরশাদ করেছেন, আমি যা জানি তোমরা তা জাননা। মৃত্যু নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট তারিখে ও নির্দিষ্ট স্থানেই হবে। যার কোনো কালক্ষেপন ও ব্যতিক্রম হবে না। যার কোনো ওজর, আপত্তিও চলবে না। রাব্বুল আল আমীন সব কিছু নির্ধারিত করেই রেখেছেন। উল্লেখ রয়েছে, হযরত সোলায়মান (আঃ) এর যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসছে তখন তিনি সেই জায়গায় ছিলেন না। আল্লাহ বাতাসকে আদেশ করলেন হযরত সোলায়মান (আঃ) কে যথাস্থানে যথাসময়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হযরত সোলায়মান (আঃ) যথাস্থানে ও যথাসময়ে পৌঁছার পরই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যু সম্পর্কে এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর হতে পারে না। প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কবি মোশাররফ করিম মঞ্জু ১১/০১/২০২০ ইং শনিবার রাতে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ফেসবুক ও যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে সাংবাদিক সমাজ, গুণগ্রাহী, সাহিত্যানুরাগী, বন্ধুবান্ধব, শুভানুধায়ী, আত্মীয়-স্বজন ও অগনিত মানুষের কাছে এ অসহনীয় ব্যথা, বেদনা, অশ্রুধারার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যু সংবাদটি যখন ১৩/০১/২০২০ ইং সোমবার দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তা জেনে আমার মতো তার অনেক শুভানুধায়ী ও গুণগ্রাহী কান্নায় ভেঙে পড়ে। অনেকের দৈনন্দিন কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে আসে। জাতীয় প্রেসক্লাব, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের কার্যালয়ে একই কথা, একই আলোচনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। সৌম্য, ভদ্র, বিনয়ী, নিরহংকার, সদালাপী, বন্ধুবৎসল, জনবান্ধব, পরহিতৈষি, নির্লুভ ও সাংবাদিক জগতের পথিকৃত মোশাররফ করিম মঞ্জু (অনেকেরই মঞ্জু ভাই) আর নেই। মোদ্দাকথা সাংবাদিক ও কবি মোশাররফ করিম মঞ্জু (মঞ্জু ভাই) সম্পর্কে দুকথা লেখে কাহাকেও বুঝানো বাস্তবিকই কঠিন। আমার পরিচিত ও মঞ্জু ভাইয়ের গুণগ্রাহী কয়েকজনের মাধ্যমে ১২/০১/২০২০ ইং রোববার ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি মঞ্জু ভাই শনিবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন। যা জেনে হতচকিত ও অবাক হয়ে যাই। শরীরের স্নায়ুগুলো শীতল হয়ে আসে। এমন সময় তার মৃত্যু সংবাদটি পাই যখন সময়ের প্রেক্ষাপটে জানাজায় শামিল হওয়ার মতো সুযোগ ছিল না। তাহার মৃত্যুর ৭ দিন আগে খবরাখবর জানার জন্য এমনিতেই মঞ্জু ভাইয়ের কাছে ফোন করি। তখন তিনি মৃদু কন্ঠে বলতেছিলেন আমি অসুস্থ। আমার জন্য দোয়া করবেন এবং অন্যদেরকেও দোয়া করতে বলবেন। এটাই তাহার সাথে আমার

শেষ আলাপ। মঞ্জু ভাই এমনিভাবে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করবেন তা ভাবতে গিয়ে কেন যেন অবুঝ মনকে বুঝাতে পারি না। মানুষ মরণশীল। এটাই নিয়তির খেলা। এক সময় পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন বৃহৎ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে আমি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার হাত ধরেই ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে আগমন। তখন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি দুইভাগে বিভক্ত ছিল। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) ও পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন)। অপরদিকে ন্যাপ দুই ধারায় বিভক্ত ছিল, পিকিং পন্থী ও মস্কো পন্থি। তখন এ ছাত্র সংগঠনের অগ্রজ ছিলেন ড. মাহবুবউল্লাহ, নাজমুল হক নান্নু, নূর মোহাম্মদ খানসহ আরও অনেকে। আর সেই সময় পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের মূল সংগঠন (ঋধঃযবৎ ড়ৎমধহরুধঃরড়হ) ছিল ভাসানী ন্যাপ। তখন এই সংগঠনের বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন, আলতাফ উদ্দিন তালুকদার, এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট আব্দুল লতিফ, ইসহাক আকন্দ, কিশোরগঞ্জের ভাটির শার্দুল হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আইয়ুব রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের ডাঃ ফজলুল করিমসহ আরও অনেকে।

মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাই সহধর্মীনি, এক কন্যা, এক ভাই ও বোন রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়া ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আমিনুল হক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও সাহিত্য অনুরাগী মোঃ সালেহুজ্জামান খান রুনুসহ আরও অনেকে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। ছাত্র রাজনীতির পর সাংবাদিকতা, সাহিত্যচর্চা ও কবিতা লেখায় তিনি মনোনিবেশ করেন। তিনি অনেকগুলো কবিতার বই রচনা করেছেন। তিনি ময়মনসিংহের সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। তিনি একনায়ক আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং ডিফেন্স অব পাকিন্তান রুলের (উবভবহপব ড়ভ চধশরংঃধহ জঁষবং- উচজ) এ্যাক্টে নির্যাতন ভোগ করেন। দৈনিক দেশ পত্রিকার সৃষ্টিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনসহ দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় দীর্ঘদিন যাবৎ বার্তা বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে কাজ করে থাকেন। পরবর্তী সময় তিনি নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমিতে পরিচালক হিসেবে সসম্মনে অনেকদিন সমাসীন ছিলেন। তারপর সেখান থেকে চলে আসার পর ময়মনসিংহে বিশাল পরিসরে সাহিত্যানুরাগী ও কবিতানুরাগী হিসেবে সারা দেশে ব্যাপ্তি লাভ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহের গাঙ্গিনা পাড়ে হিমু আড্ডায় কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষানুরাগীদের সাথে সময় অতিবাহিত করে থাকেন। আমার মতো অনেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিমু আড্ডায় যোগ দিত এবং তাহার পরামর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যথেষ্ট উৎসাহ বোধ করতো। এখন আমি তার অনুপ্রেরণা ও সান্নিধ্যের কথায় আসি। ছাত্র অবস্থা থেকেই মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্র, যুব ও ভাসানী ন্যাপের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। এক সময় মঞ্জু ভাইয়ের অনুপ্রেরণাতেই পত্র পত্রিকায় লেখালেখিতে সম্পৃক্ত হই। সাপ্তাহিক হককথা থেকে শুরু করে আজও পত্র পত্রিকায় লেখার যে অদম্য অভ্যাস গড়ে উঠেছে এসব কিছুই তার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতারই ফসল। যা কোনো অবস্থাতেই ভুলতে পারি না। এক সময় মঞ্জু ভাইয়ের অনুপ্রেরণা ও পরামর্শে ৮০ইর দশকে কিশোরগঞ্জ থেকে সাপ্তাহিক নতুন দেশ নামে একটি পত্রিকা বেড় করে থাকি। যার অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাই। আজ তারই অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে পত্র পত্রিকার জগতে হয়তো একটা ভালো জায়গায় আসতে পেরেছি। পরবর্তী সময় তিনি পত্র পত্রিকায় লেখালেখির ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ, অনুপ্রেরণা দিয়ে আজও সক্রিয় করে রেখেছেন। দৈনিক মুক্ত খবরের সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলামসহ আরও অনেক পত্রিকার সম্পাদকসহ গুণগ্রাহীদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করতে আমার দ্বিধা নেই। তাদের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের মোকাম্মেল হক, দৈনিক জনতার মাকসুদা খানম গোলাপ, ময়মনসিংহের আজকের বাংলাদেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ পাল, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বন্ধুবর আব্দুল মোতালিবসহ আরও অনেকে। মঞ্জু ভাই সব সময় একটা কথা বলতেন, সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র হচ্ছে, সাহসিকতা, স্বচ্ছতা, বন্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন। কোনো ধরণের পক্ষপাতিত্বের ছোঁয়া না রেখে সঠিক চিত্র তুলে ধরা। একজন সাংবাদিক বাস্তবতার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (ঈড়সসরঃঃবফ ঃড় নব ঃৎঁব) এতে কে মারহাবা বা জিন্দাবাদ দিল তা বড় কথা নয়। তদোপরি কে বা কাহারা অখুশী হল তাও দেখার বিষয় নহে। বড় কথা হচ্ছে তোয়াজ, তোষামোদ, চাটুকারীতা, হিপক্রেসি ও ইয়েলো জার্নালিজম পরিত্যাগ পূর্বক বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং এর প্রতিফলন। তাহার মৃত্যুতে আমি শুধু একজন গুনগ্রাহী ও অনুপ্রেরণার উৎসকেই হারায়নি, আমি একজন অভিভাবকও হারিয়েছি। যা তাহার সম্পর্কে দুকথা লেখে, বলে, কয়ে শেষ করার মতো নহে। এ নিবন্ধটি লেখতে বারংবার অশ্রুসিক্ত হয়েছি। বারবার অশ্রু মুছে এবং আবেক সংবরণ করে আবার লেখতে বসেছি। তাহার মৃত্যু এমনভাবে আমাকে তাড়িত, ব্যথিত, অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত করেছে যা সংবরণ করতে আমার পক্ষে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। তাহার অনেক স্মৃতি আমার কাছে জাগ্রত চিরঞ্জিব ও

অম্লান। পত্র পত্রিকায় লেখালেখির ব্যাপারে তিনি যে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে গেছেন এ নির্দেশনা ও পরামর্শ উপেক্ষা করে দূরে যাওয়ার সম্ভাবনা আদৌ আমার নেই। তিনি আরও বলতেন পত্র পত্রিকার লেখালেখিকে কখনও পেশা হিসেবে নেবেন না। যেখানে যে অবস্থাতেই থাকেন না কেন মানুষকে কিছু দেয়ার মানসে ইহাকে সেবা ও নেশা হিসেবে নেয়ার চেষ্টা করবেন। বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলতেন, ইয়েলো জার্নালিজম থেকে দূরে থাকলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও দল নির্বিশেষে যে সম্মান পাওয়া যায়, তার অফুরন্ত সম্মান ও ভালোবাসার শেষ থাকেনি।

তিনি নিজ থেকে ও স্বইচ্ছায় দেশের জ্ঞানী, গুণী, প্রথিতযশা লেখক, সাংবাদিক ও পত্রিকার সম্পাদকদের কাছে বহুবার আমাকে নিয়ে গিয়ে ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক ও সাংবাদিক জগতের পথিকৃত, প্রথিতযশা বরেণ্য ও কিংবদন্তি আতাউস সামাদ, এ.বি.এম মুসা, ফজলে লোহানী, বিটিভির সাবেক পরিচালক (বার্তা) আলমগীর কবীর, এটিএন এর পরিচালক (বার্তা) শফিকুল হক, বদরুদ্দীন ওমর, আমানুল্লাহ কবীর, আবজারভারের ওবায়দুল হক, বাংলাদেশ টাইমসের আনোয়ার জাহিদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাপ্তাহিক হলিডের এ.জেড.এম এনায়েত উল্লাহ খান, নিউএজের নূরুল কবীর, ফরহাদ মাজহার, বিচিত্রার সম্পাদক মাহফুজুল্লাহ, ইত্তেফাকের সম্পাদক রাহাত খান, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনসহ আরও দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও আরও অনেকের সাথে। তিনি (মঞ্জুর ভাই) পরিচয় না করালে কোনদিনই আমার পক্ষে তাদের সাথে পরিচয়ের সুযোগ হয়তো আদৌ হত না। তিনি আর আজ নেই। হয়তো বেঁচে থাকলে তাহার সম্পর্কে কোনদিনই এসব কিছু লেখতে পারতাম না। তাহার এত সুনাম ও প্রশংসা থাকলেও তাহার জীবদ্দশাতে তার সম্পর্কে কিছু লেখতে তিনি নিষেধ করতেন। তিনি ছিলেন আত্মপ্রচার বিমূখ। তাহার এত গুণ ও প্রশংসা থাকার পরও এ নিবন্ধে সামান্যই উপস্থাপন করেছি। যা মহাসমুদ্রের পানির বিন্দু কণার সাথে তুলনা করা চলে। মানুষ মানুষের জন্য এ উক্তিটির প্রচলন থাকলেও অনেক সময় তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়না। অনেক সময় দেখা যায়, মাত্র একটি এন্টাসিড ট্যাবলেটের অভাবে রাস্তায় পড়ে কত লোকই না ব্যথায় ছটফট করছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ বা দৃষ্টি না দিয়ে বা না তাকিয়ে অনেকেই আপন গতিতে চলে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চোখে দেখা মঞ্জু ভাইয়ের অনুস্মরণীয় মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত তুলে না ধরলেই নয়। তিনি তখন বাংলাদেশ সচিবালয়ের সামনে তোপখানায় দৈনিক দিনকাল এর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে কর্মরত। কাজের বিরতির সময় আমাকে নিয়ে চা নাস্তা খাওয়ার জন্য জাতীয় প্রেসক্লারেব ক্যান্টিনে রওয়ানা হচ্ছেন। সাতে আরও দুই, তিনজন। প্রেসক্লাবে যাওয়ার সময় দেখলেন সচিবালয়ের পাশে একটি বিপনি বিতানের সামনে অনেক লোকের ভীড়। তিনি ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখলেন, একজন অপরিচিত লোক দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে আহাজারি করছে। সবাই ভীড় করছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কিন্তু তিনি দুর্ঘটনায় পতিত লোকটিকে নিয়ে তড়িগড়ি করে ঢাকা মেডিকেলে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে চিকিৎসার প্রাথমিক ব্যবস্থা করে মেডিকেলে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। এ দুনিয়াতে হয়তো তাহার সাথে আমার মতো আরও অনেকেরই কোনদিনই আর দেখা হবে না। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি মৃত্যুর পর রোজ হাশরে তাহার সাথে যেন দেখা মেলে। বারবার মনে পড়ে যদি যথাসময়ে তার মৃত্যু সংবাদ পেতাম তবে অবশ্যই তার নামাজে জানাজায় শরিক হতাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে তার আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাই যেমনি সাংবাদিক ও সাহিত্য পরিসরে অহংকার তেমনি মানবতা ও দুঃখী মানুষের পাশে থাকার এক উজ্জ্বল দিকদর্শন। যুগযুগ ধরে মোশাররফ করিম মঞ্জু ভাইয়ের মতো ব্যক্তিদের পদভারে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা আরও সমৃদ্ধ ও সমুজ্জল হয়ে সামনে এগিয়ে চলুক ইহাই জনপ্রত্যাশা। পরিশেষে কবির কন্ঠে বলব, মরণের পরপারে যে দেশে যেই বেশে যাই, তোমার দেখা যেন পাই। আর গীতিকারের সুরে বলব, আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইতাছনি।