ইবিতে হল বন্ধের আগেই ডাইনিং বন্ধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

7

ইবি প্রতিনিধি:গ্রীষ্মকালীন ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২৩ দিন ছুটিতে থাকবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। গত ৬ জুন থেকে ছুটি শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৮ জুন পর্যন্ত। ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ ১৪ দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আগামী ১০ জুন সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছুটিতে দীর্ঘদিন হল বন্ধ দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হলে অবস্থানরত চাকরি প্রার্থী শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও হল বন্ধের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ আবাসিক হলের ডাইনিংগুলো। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।
রেজিস্ট্রার দপ্তর ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার সূত্রে জানা যায়, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও পবিত্র ঈদ-উল আজহা উপলক্ষ্যে ৮ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ছুটির আগে ৬ ও ৭ জুন এবং ছুটির পরে ২৭ ও ২৮ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২৯ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসমূহ যথা নিয়মে শুরু হবে। তবে অফিস সমুহ চালু হবে আগামী ২৫ জুন থেকে। এদিকে ছুটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ ১৪ দিন বন্ধ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আগামী ১০ জুন সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছুটি শেষে আগামী ২৪ জুন সকাল ১০টায় হলসমূহ খুলে দেওয়া হবে।
ছুটিতে দীর্ঘদিন হলসমূহ বন্ধ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।এদিকে হল বন্ধ হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হলের ডাইনিং। ফলে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়েও থাকতে হচ্ছে দুশ্চিন্তায়। 
৪৬ তম বিসিএস প্রিলি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমান ছুটি থাকে তা অন্য কোথাও দেখা যায় না। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী কথা চিন্তা করে যেখানে আবাসিক হল বন্ধই করেনা সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির এক সপ্তাহ আগেই হল বন্ধ করে দেয়। ফলে অনেক চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থী বাসায় যেতে না চাইলেও বাধ্য হয়ে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চাকরির বাজারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হল বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বাংলা বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত চাকরি প্রার্থী  শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান হিমু বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগেই হল বন্ধ দেওয়ায় আমাদের পড়া লেখায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। সামনে মাসের ১২ তারিখে আমার ১৮তম নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা। এসময়টা পড়ালেখা করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছু একটা হলেই হল বন্ধ করে দেয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছুটিতে হল বন্ধই দেয়না সেখানে আমাদের এক সপ্তাহ আগেই হল বন্ধ দেয়। এটা কখনো শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হল বন্ধের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিষয়টি চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এছাড়াও তিনি বলেন, হল বন্ধের আগেই ডাইনিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নাই। হলের শিক্ষার্থীরা যেখানে হলের ডাইনিং এর উপর নির্ভরশীল সেখানে পূর্ব ঘোষিত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই হলের ডাইনিং বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।
ডাইনিং বন্ধের বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত আছি। হলগুলোতে ১০-১২ জন করে শিক্ষার্থী অবস্থান করছে, যে কারণে তাদের জন্য ডাইনিং চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এখন এ কয়েকজন শিক্ষার্থীর জন্য ডাইনিং চালাতে গেলে ডাইনিং ম্যানেজারের খরচ ঠিক মতো না উঠাই ডাইনিং বন্ধ করে দিয়েছে।