শোলাকিয়া ঈদগায় মাওলানা আনোয়ার শাহ’র অবিস্মরণীয় জানাজা

88

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু, লেখক কলামিষ্ট : দেশ বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ বাংলা, ইংরেজী ভাষায় উচ্চ শিক্ষিত ও অন্যান্য ভাষায় জ্ঞান সমৃদ্ধ হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) ৭৩ বছর বয়সে ২৯/০১/২০২০ ইং বুধবার বিকাল ৫ ঘটিকায় ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তার পিতা হযরত মাওলানা আতাহার আলী (রহঃ) ১৯৪৫ সালে প্রথমে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরানথানা এলাকায় ইমদাদুল উলুম নামে ছোট একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ইহাকে কিশোরগঞ্জ আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসা হিসেবে রূপদান করেন। তিনি শহীদি মসজিদের খতিব ও মোতাওয়াল্লি ছিলেন। তিনি ১৮৯১ সালে সিলেট জেলার ঘোঙ্গাদিয়া গ্রামে একদ্বীনদার মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। তৎপরবর্তী সময় কিশোরগঞ্জ চলে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি নেজামে ইসলাম নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং কিশোরগঞ্জ থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এম.এল.এ) ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এম.এন.এ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি স্বপক্ষে ছিলেন না। যে কারণে তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিশোরগঞ্জ না এসে ময়মনসিংহের চরপাড়ায় একটি ছোট দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জামিয়া (বিশ্ববিদ্যালয়) স্তরে উন্নীত করেন। ১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর তিনি ৮৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করলে তাহাকে ময়মনসিংহের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার সাথে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিশোরগঞ্জের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন সেখানে কসকরের (ন্যায্যমূল্যের) মহকুমা অফিস, দোকান, গুদাম, রেডক্রসের (বর্তমান রেডক্রিসেন্ট) অফিস ও গুদাম করা হয়। জানা যায়, জামিয়া ইমদাদীয়ার কুতুবখানা একটি ঐতিহ্যবাহী কুতুবখানা। যেখানে বহু মূল্যবান কিতাব সংরক্ষিত ছিল। তখন অনেক কিতাবাদি বিনষ্ট হয়। বর্তমানে কুতুবখানায় কিতাবের মজুদের সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশী বলে জানা যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রায় ৪/৫ বছর পর হযরত মাওলানা আতাহার আলী (রহঃ) এর সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, শহীদি মসজিদের খতিব ও মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই মাদ্রাসা ও মসজিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অচলায়তন কেটে গিয়ে সামনে সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও উন্নতির দিকে সম্প্রসারিত হতে থাকে। তিনি ছিলেন নম্র, বিনয়ী, সদালাপি, জনবান্ধব, সমাজসেবক, সৃজনশীল, কর্মোদ্যোগী ও উদার মনের মানুষ। তার কাছে জাত, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি কিশোরগঞ্জের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম বা মহাপরিচালক, শহীদি মসজিদের খতিব ও মোতোওয়াল্লী, সভাপতি ইমাম ও উলামা পরিষদ কিশোরগঞ্জ, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তানযিমুল মাদারি সিল আরাবিয়া (বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল), সহ-সভাপতি রেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, সদস্য আল হাইআতুল উলিয়ালিল জামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ, খতিব হযরত শাহজালাল (রহঃ) দরগাহ মসজিদ সিলেটসহ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আরও অসংখ্য ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন।

তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কিশোরগঞ্জের আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসা ও ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদকে পরিচালনা ও সুনিপুনভাবে গড়ে তুলেছেন। যার তুলনা বিরল। তার জায়গা পূরণ হওয়ার মতো নয়। তবে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন সবকিছু জ্ঞাত। জুম্মার নামাজে উনার খুতবা শুনার জন্য এবং তার ইমামতিতে নামাজ আদায় করার জন্য ৫/৬ মাইল দূর থেকে মুসুল্লীরা সমাগত হত। মসজিদের তৃতীয় তলা থেকে শুরু করে মসজিদের মাঠসহ আশেপাশের রাস্তা কানায় কানায় মুসুল্লীদের উপস্থিতি ছিল নজর করার মতো দৃশ্যপট। শত শত মানুষ নামাজের পর তার দোয়া ও অসুখ বিসুখের আরোগ্য লাভের জন্য উতার পানি নেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকত। তার গুনাগুন ও মহিমার কথা নিবন্ধে দুকথা লেখে বাস্তবিকই বুঝানো সম্ভব নয়। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কিশোরগঞ্জ শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সবার মুখে একই কথা হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) আর নেই। মৃত্যু সংবাদ শুনার সাথে সাথে অগনিত মানুষ জিকির পড়তে পড়তে তার ঈশাখাঁ রোডস্থ রথখলার বাসা, শহীদি মসজিদ ও জামিয়া ইমদাদীয়া মাদ্রসায় এসে ভীড় জমাতে থাকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে মসজিদ প্রাঙ্গন, মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ও আশেপাশের রাস্তাঘাট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সবার মুখে উচ্চারণ ছিল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)। সবার চোখে পানি, যেন বিষাদের করুণ দৃশ্য ঐ দিন ঢাকা থেকে রাত প্রায় ১১টায় মরহুমের লাশ কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। তখন শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তিল ধরণের ঠাঁই ছিল না। মুহুর্তেই শহরের দোকানপাটগুলোর দরজা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কারও কোনো ঘোষনার প্রয়োজন হয়নি। মরহুমের লাশ ১২-১৫ মিনিটে জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার কমপ্লেক্সে আনার পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার শিক্ষক মন্ডলী, মাদ্রাসা ও মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সমাগত হাজার হাজার জনতা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এক অভূতপূর্ব হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ৩০/০১/২০২০ ইং রাত ১২-১৫ মিনিট থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত লাশ মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে রাখা হলে হাজার হাজার লোক লাইন ধরে সুশৃংখলভাবে এক নজর তাকে দেখার জন্য সুযোগ পেয়ে থাকে। তখন এমন কেহ ছিল না যাকে কান্না ছাড়া দেখা যায়। মনে হয় স্বজন হারানোর মতো ব্যথা, বেদনা ও অশ্রুধারার দৃশ্যপট। ঐদিন বেলা ২ ঘটিকায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজার সংবাদ ঘোষনার পর থেকেই এলাকা ও কিশোরগঞ্জের বাহিরের লোকজন তাকে এক নজর দেখা ও জানাজায় শরিক হওয়ার প্রত্যাশায় ঈদগাহ মাঠে সমাগত হতে থাকে। সকাল ১১ ঘটিকার মধ্যে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের বিশাল মাঠ চত্বর কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তারপর জানাজায় আসা হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে ঈদগাহ ময়দানের বাহিরের রাস্তাঘাট পরিপূর্ণ হয়ে মাঠের চারিদিকে কোয়াটার মাইল পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এছাড়া মাঠের আশেপাশের বাসাবাড়ীর উঠান ও ছাদ পর্যন্ত জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ও ভীড় সকলের নজর কেড়েছে। তারপরও হাজার হাজার মানুষ জানাজা পড়তে পারেনি। জানাজায় শরিক হওয়া অনেকের কাছ থেকে জানা যায়, উক্ত জানাজায় প্রায় ৩ লাখ লোকের বেশি সমাগম হয়েছে। অনেক বয়োবৃদ্ধ প্রবীণরা মন্তব্য করে বলেছে কিশোরগঞ্জে এত বড় জানাজা জীবদ্দশাতে দেখেনি এবং ১০০ বছরের মধ্যে এত বড় জানাজার নামাযের কথা শুনা যায়নি। সমাজে ভালো কাজ করলে, আল্লাহ, রাসূল, কোরআনের নির্দেশ মতো চললে মানুষকে ভালো কাজে অনুপ্রানিত ও হেদায়েত করলে কোনো বড় পদে সমাসীন না হয়েও মানুষের সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার যেন শেষ থাকেনি। এ জানাজা যেন একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত। জানাজা শেষে হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) কে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের অনতিদূরে বাগে জান্নাত গোরস্তানে তার আম্মা ও ছোট ভাইয়ের পাশে সমাহিত করা হয়ে থাকে। জানাজার নামাজ শেষ হওয়ার পর বাগে জান্নাত গোরস্তানে লাশ দাফনের জন্য নেয়ার সময় হাজার হাজার মানুষ কফিনের সাথে ছুটে চলে। আরেকবার কান্নার ধ্বনি ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উচ্চারণে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে তুলে। দাফনের পরের দিন শুক্রবার শহীদি মসজিদের নামাজ শেষে শত শত মুসূল্লী তাহার কবর জিয়ারত করে থাকে। সেখানেও হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন তার কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফেরাতের দোয়া করতে আসছে। হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) দীর্ঘদিন করাচী ও দেশের শিক্ষা সমার্পন করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪/৫ বছর পর শহীদি মসজিদ ও আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসার দায়িত্ব নেয়ার পর অক্লান্ত পরিশ্রম করে দুটি প্রতিষ্ঠানকেই ভালো জায়গায় নিয়ে আসতে সচেষ্ট হন। মাদ্রাসাটি কওমি মাদ্রাসার অধীন হওয়াতে সংগত কারণেই সরকারি সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ ছিল পরাহত। তারপরও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা, বিশ্বাস ও ধৈর্য্য ধারণ করে সামনে এগুতে থাকে। ফলশ্রুতিতে এলাকার ও দেশের শ্রেণী পেশার মানুষ তার কাজের গতি ও ন্যায়নিষ্ঠা দেখে একটি প্রতিষ্ঠানকে মুক্ত হস্তে দান ও সহযোগিতা করতে কার্পন্য করেনি। তিনি শবেকদর ও শবেবরাতের রাতে এ দুটি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার এতিম মেধাবী ছাত্রদের পড়ালেখা ও ভরণ পোষণের জন্য সাহায্যের আহবান জানালে অগনিত মানুষ ডাকে সারা দিয়ে এগিয়ে আসত। এই দুই রাতে হাজার হাজার টাকা সাহায্য হিসেবে পাওয়া যেত। অনেক সময় অভাবী ছাত্র, শিক্ষকদের বেতন ভাতার সমস্যা হলে এবং

মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নের ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিসহ দেশ বিদেশের অনেকেই সাহায্যের হাত সম্প্রসারিত করতে দ্বিধা সংকোচ করত না।

মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নের নিদর্শন দেখলেই বুঝা যায় প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য তিনি কি ধরণের অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি এলাকাবাসী ও মুসুল্লীদের বলতেন, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়নের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন। যাদের কাছে বললে বা গেলে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাদেরকে উৎসাহিত করুন। যেখানে আমার কথা বলার প্রয়োজন, যাওয়ার প্রয়োজন আমাকে বলুন, সংযুক্ত করুন। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা যেখানে যেতে বলবেন আমি সেখানে যেতে সদা প্রস্তুত। তাতে আমার কোনো দ্বিধা সংকোচ নেই। এছাড়া প্রতিবছর তিনি মাদ্রাসা ও মসজিদের আয়-ব্যয় নিরীক্ষণ করাতেন এবং রিপোর্ট পুস্তিকাকারে বিলি বন্টনের ব্যবস্থা করতেন। তাতে কারও কোনো বক্তব্য বা আপত্তি থাকলে তাও তিনি সাদরে গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করতেন না। মোদ্দাকথা তাহার মতো এমন একজন সুদক্ষ মোত্তাকীন, ন্যায় নিষ্ঠাবান ও আদর্শ মানুষ খুঁজে পাওয়া বাস্তবিকই সুদূর পরাহত। তাহার মৃত্যুর পরপরই একটা আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। তা হল, তার অবর্তমানে সুদক্ষ পরিচালনার অভাবে কোনো মতেই প্রতিষ্ঠান দুটির যেন সমস্যা না হয়। সুদক্ষ ও ন্যায়নিষ্ট পরিচালকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি যেন সামনে এগিয়ে চলে। এছাড়া মরহুম আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) এর দিকদর্শন ও অপূর্ণ স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন করা হয়। উল্লেখ্য মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে দুই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার, অগ্রদূত ও স্বপ্নদ্রষ্টা হযরত মাওলানা আতাহার আলী (রহঃ) মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে না থাকার কারণে স্বাধীনতার পর ৪/৫ বছর প্রতিষ্ঠান দুটিতে সংগত কারণেই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময় অনেক কিছু অতিক্রম করে তারই সুযোগ্য পুত্র মরহুম আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) এর ওপর দায়িত্ব অর্পন করা হলে তিনি অতীতের সবকিছু অতিক্রম করে নিজের প্রজ্ঞা, বুদ্ধি, জ্ঞান, অনেকের বুদ্ধি, পরামর্শ ও সহযোগিতায় জামিয়া ইমদাদীয়া মাদ্রাসা ও ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদকে উন্নয়নের শিখরে পদার্পনের ব্যাপারে তার শ্রম, সাধনা, প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও অবদানের শেষ থাকেনি। তদোপরি মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন জ্ঞান গর্ব শায়খুল হাদীস মাওলানা শফিকুর রহমান (জালালাবাদি), শায়খুল হাদীস মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, শায়খুল হাদীস মাওলানা শামসুল ইসলামসহ আরও অনেকেই। তার মৃত্যুর পর থেকে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারই ছোট ভাই মাওলানা সাব্বির আহমদ রশীদ। মাদ্রাসাটিতে ত্যাগী, নিবেদীত, সুদক্ষ ও সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা ১। তফসির ও তরজমায়ে কোরআন ২। উসূলে তফসির ও উলুমূল কোরআন ৩। হাদীস (ছেহাছিত্তা ও অন্যান্য) ৪। উসূলে হাদীস ও তারিখে হাদীস ৫। ইলমে আকায়েদ ও কালাম ৬। ইলমে ফিকাহ ৭। উসলে ফিকাহ ৮। ইলমে ফারায়েজ ৯। ইলমে লোগাত আদব ১০। ইলমে বালাগাত ১১। ইলমে মান্তিক ১২। ইলমে হিকমাত ১৩। ইলমে মোনাজারা ১৪। ইফতে ছাদিয়াত (অর্থনীতি) ১৫। ইলমে তারিখ (ইতিহাস) ১৬। ইলমে নাহু ১৭। ইলমে সরফ ১৮। ফার্সী ১৯। উর্দু ২০। বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ ২১। ইংরেজী ২২। অংক ২৩। সমাজ বিজ্ঞান ২৪। কেরাত ও তাজবীদ ২৫। তাহফীযুল কোরআন (হিফযুল কোরআন) ২৬। নায়েরা (হিফজের উপযোগীকরণ) ২৭। নূরানী (শিশু শ্রেণী)। ২৭টি বিষয়ে শিক্ষাক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া রয়েছে, তাহফীযুল কোরআন (হিফজ) বিভাগ, কোরআন ও তাজবীদ বিভাগ, তাখাসসুস ফিল ফিক্হে ওয়াল বুহুসিল ইসলামিয়া বিভাগ, তাখাসসুম ফিউলুমিল হাদীস বিভাগ, আরবী আদব বিভাগ, দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ, ফাতওয়া বিভাগ, ছাত্রাবাস ও ফ্রিবোডিং, কুতুবখানাসহ আরও অনেকগুলো বিভাগ। হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহঃ) মৃত্যুর পর সামনে মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনার ব্যাপারে অনেক আশংকা অনুমান করা হলেও এলাকার মানুষের প্রত্যয় প্রতিষ্ঠান দুটি সুদক্ষ পরিচালনায় সামনে এগিয়ে চলবে। পরিশেষে তার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা ও তার শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনসহ আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সকল কিছু উতরিয়ে আল জামিয়াতুল ইমদাদীয়া মাদ্রাসা ও শহীদি মসজিদের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি আরও সামনে এগিয়ে যাক ইহাই জনপ্রত্যাশা। কোনো কারণে প্রত্যাশার ব্যর্থয় হলে মানুষের দুঃখ, বেদনা প্রকাশ করার হয়তো জায়গা থাকবে না। কারণ এই মাদ্রাসা ও মসজিদ নিয়ে অতীতে পানি কম গোলা হয়নি।