রাঙ্গুনিয়ায় সুলতানুদ্দীন হযরত বাচা শাহ (রহ.)’র বর্ণাঢ্য জীবন

206

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: জন্ম ও বংশ পরিচয় : সুলতানুদ্দীন হযরত বাচা শাহ(রহ.)’র (প্রকাশ বাচা ফকির) তাহার সম্মানিত পিতার নাম হযরত ফজর আলী (রহ.)। তাঁহার পূ্র্ব পূরুষগণ এশিয়া মহাদেশের অন্যতম আধ্যাতিক জগতের প্রাণকেন্দ্র ফড়িকছড়ি “মাইজভান্ডার দরবার শরীফ” অঞ্চলের অধিবাসি ছিলেন। কথিত আছে যে, গাউসুল আজম হযরত আহমদ উল্লাহ (ক:) কাদেরী আল মাইজভান্ডারীর আধ্যাতিক ইশারায় তাহার পূর্ব পূরুষগণ রাঙ্গুনিয়া পোমরা ইউনিয়নের কর্ণফুলি নদী সংলগ্ন মহওরখীল গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। হযরত বাচা শাহ (রহ.)সম্মানিত পিতা হযরত ফজর আলী (রহ.) খুবই দারিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। আর দারিদ্র পরিবারের সন্তান হাওয়ায় খুবই কষ্টকর অবস্থায় দিনাপাত করতেন। তিনি অত্যন্ত আল্লাহভীরু, তাক্ওয়াহবান, দ্বীনদার, পরহেজগার, বুযর্গ ব্যাক্তি ছিলেন। দুনিয়ার সামান্য হায়াতে জিন্দেগীতে পার্থিব লোভ লালসা ধন, ঐশর্য্য, বিলাসিতা তাহাকে মোহ্ করতে পারেনী। একজন দ্বীনদার বুজর্গ ব্যক্তি হিসাবে খুবই স্বাভাবিক সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। কোন সময় নিজের পরিবার পরিজনের জন্য খাবার চাল ডাল জোগাড় করতে না পারলে নিজ গ্রামের লোকজনদের নিকট হতে খোজাখোঁজি করে খেতেন। অনেক কষ্টের মাধ্যমে হযরত ফজর আলী (রাহ:) নিজের হায়াতে যিন্দেগী অতিবাহিত করেছিলেন। অবশেষে এই যুগশ্রেষ্ট বুর্জগানে দ্বীনের ঘরে ১৯শে পৌষ ২রা জানুয়ারী ১৮৫১ সালে রাঙ্গুনিয়ার উজ্জল জ্যোতিস্ক সুলতানুদ্দীন হযরত বাচা শাহ ফকির (রাহ:) জন্ম গ্রহণ করেন।

বাল্যকাল ও শিক্ষা জীবন:
বাল্যকাল হতেই তিনি খুবই মেধা সম্পন্ন ও শান্ত প্রকৃতির বালক ছিলেন। তাহার সম্মানিত পিতা হযরত হযরত ফজর আলী (রাহ:) তাহাকে খুব মহব্বত করতেন ও ভালবাসতেন। ধর্মপরায়ণ পিতার সন্তান হাওয়ায় হযরত বাচা শাহ (রাহ:) খুব ফরহেজগার ও ধর্মপ্রাণ বালক ছিলেন।তার মেধাশক্তি প্রবল হাওয়ায় তাহার পিতা তাহাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। তিনি আরবী, বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি গণিত শাস্ত্রে খুবই পারদর্শী ছিলেন। তিনি বিট্রিস্ পিরিয়ড সময় কালে মেট্রিক পাশ শিক্ষার সনদ লাভ করেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি শিক্ষার উচুঁস্থর অতিক্রম করতে পারেনি। দারিদ্রতার প্রবল কসাঘাতে ও মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালবাসা ছিল প্রবল। আর এই খোদা প্রেম হযরত বাচা শাহ (রাহ:) মা’রেফাতের ভান্ডারে পরিপূর্ণ করেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হতেই তিনি খোদা তায়ালার মা’রেফাত জগতে ডুব দিয়ে ফানাফিল্লাহর জগতে চলে যান। তিনি সর্বক্ষণ নিরব নির্জন জায়গায় বসে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালার জিকিরে মশগুল থাকতেন। হাত নেড়ে ‘আল্লাহু’ আল্লাহু’ জিকির করায় ছিল তার রুহানিয়াতের একমাএ পরিতৃপ্ত খাদ্য।

খিলাফত লাভ:
হযরত বাচা শাহ (রাহ:) মাজযূবে সালিক তথা মা’রেফাত জগতের অন্যতম প্রাণ পূরুষ আধ্যাতিক জগতের প্রতিষ্টাতা হযরত গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর (রহ.) ৩২ তম খলিফা হিসাবে খেলাফত লাভে ধন্য হয়।

কাশফ কারামত:
আধ্যাত্নিক চিকিৎসক হিসাবে হযরত বাচা শাহ (রাহ:): দুনিয়ার সকল চিকিৎসার পর যখন ডাক্তারের ডাক্তারি কোন কাজ হয়না তখন চট্রগ্রামের অধিকাংশ মানুষ মাজযূবে সালিক হযরত বাচা শাহ (রাহ:) (প্রকাশ বাচা ফকির) দরবারে চলে আসতেন এবং হযরত বাচা শাহ (রাহ:) কাছে সব কথা খুলে বলতেন এবং তিনি সব কিছু শুনে তাহার পবিত্র জবানে পাকে বলতেন, ‘যা আদা দি নুন দি হাগুই’ যা আদা দি নূন দি হাগুই’ অর্থ্যাৎ আদা ও লবন মিশিয়ে খাও তাহলে ভাল হয়ে যাবি, মাশাআল্লাহ তাহার এই আধ্যাতিক চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত রোগিরা জটিল কঠিন রোগ হতে ভাল হয়ে যেত এবং আরোগ্য লাভ করে হযরতের দরবারে হাদিয়া নিয়ে আসতেন ও হযরত বাচা শাহ (রাহ:) সামনে উপস্থিত হয়ে নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করতেন। এভাবে তিনি আধ্যাতিক চিকিৎসা দিয়ে মানবতার কল্যানে নিয়োজিত ছিলেন। এই ধরণের অসংখ্য আধ্যাত্মিক ঘটনা রয়েছে, যা লিখে শেষ করা যাবে না।

সুলতানুদ্দীন হযরত বাচা শাহ (রহ.)’র সম্পর্কে ওলামা মাশায়েখগণের অভিমতঃ

  • ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহ.) বলেন, বাহে্র
    আঁ-বা-চা ফকি-র সদ আ-ফরি আ-ফরী সদ আ-ফরী সদ আ- ফরী,ছাহেবে কাশফ করামত বূদ হাম আহলে সফা বূ দউ মাযজুবে সালিক দরমিয়ানে আউলিয়া।
  • আল্লামা আলহাজ্ব হাফেজ কারী ছৈয়দ মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান আন নকসবন্দী (রাহ:) বলেন,
    হযরত ফকীর বাচা শাহ (রাহ:) একজন আল্লাহর মজুজুব ওলিয়ে কামেল। যাহার পবিত্র জানাজা শরীফে অসংখ্য জ্বিন ও ফেরশতাকুল হাজির হয়ে জানাজার নামাজ আদায় করে ছিলেন যাহা আমার চু্ক্ষ সাক্ষী হিসাবে রয়ে গেল।

ওফাত লাভ:
সুলতানুদ্দীন হযরত বাচা শাহ (রহ.) ১৪ ই ফেবুয়ারী মোতাবেক ১৯৫৩ সালে অসংখ্য ভক্ত অনুরক্তদের রেখে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁহার জানাজার নামাজের ইমামতি করেন হাফেজ কারী ছৈয়দ মুজিবুর রহমান (রহ.)।