ভেষজ হরিতকী

49

লেখা ও ছবি ঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী : হরিতকী মাঝারি থেকে বৃহৎ আকারের বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। ত্রিফলার অন্যতম ফল হরিতকী। ভেষজ চিকিৎসায় রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও চাহিদা। এর ইংরেজি নাম ইষধপশ গুৎড়নধষধস, গুৎড়নষধহ, ঈযবনঁষরপ, ওহশ হঁঃ, এধষষ হঁঃ, পরিবার ঈড়সনৎবঃধপবধব, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ঞবৎসরহধষরধ পযবষনঁষধ। এর আদি নিবাস মধ্য এশিয়া। গাছের উচ্চতা গড়ে ২০ থেকে ২৫ মিটার। পত্র ঝরা বৃক্ষ শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতা গজায়। পাতা আকারে বড়, আয়াতকার, রঙে সবুজ, শিরা-উপশিরা স্পষ্ট ও রোঁয়াযুক্ত। গাছের কাঠ খুবই শক্ত মানের, রং ধুসর। ফুল ক্ষুদ্রাকৃতির, উভলিঙ্গ, রঙে শে^তবর্ণ ও উগ্র গন্ধবিশিষ্ট। ফুল ফোটার মৌসুম মে-জুন মাস। ফল আকারে ডিম্বাকৃতির, লম্বায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার, রং প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক ফলের রং বাদামি থেকে কালচে বর্ণের। ফলের ভেতর থাকে একটি মাত্র বীজ। হরিতকীর শুকনো ফল কোঁকড়ানো আকৃতির হয়। এর ফলের পরিপক্কতা আসে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে। বীজের মাধ্যমে ও কলম চারা করে বংশ বিস্তার করা যায়। তবে বীজ থেকে উৎপাদিত গাছ শক্ত ও মজবুত মানের হয়। প্রায় সকল মাটিতে হরিতকী গাছ জন্মে। তবে মধ্যম মাত্রার উর্বরতা সম্পন্ন দো-আঁশ মাটি হরিতকী গাছের জন্য উত্তম। ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে হরতিকী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। পাহাড়ি জমির ঢালে, বাসা-বাড়ির আশেপাশে, জমির আইলে ও পতিত জমিতে হরীতকী গাছ জন্মে। গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু ও খরা সহনশীল। জুন থেকে জুলাই মাস হরিতকীর চারা লাগানোর উত্তম সময়। আর বীজ থেকে চারা তৈরির ক্ষেত্রে জমিতে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস। স্বাভাবিক পরিবেশে এর চারা গাছ রোপণের ৭ থেকে ৮ বছর পর গাছে ফুল-ফল ধরে। হরিতকী গাছের মূল, ফল ও বীজের রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণাগুণ- স্বরের কর্কশতা দূর করতে, কোষ্ঠ কাঠিন্যে, দাঁত ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, স্নায়ুবিক দুর্বলতায়, আ্যালার্জিতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, পেটের পীড়ায়, প্লীহা ও যকৃত রোগ এবং দেহের শক্তি বৃদ্ধিতে হরিতকী বেশ উপকারী। তাছাড়া ফল থেকে ট্যানিন, লেখার কালি ও রং পাওয়া যায়। এর কাঠ দিয়ে মূল্যবান আসবাব পত্র তৈরি, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়।