রাঙ্গুনিয়ায় হাসপাতালের বর্জ্য থেকে আগুন, পুড়ে গেলো ১০ দোকান

57

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হাসপাতালের বর্জ্য থেকে আগুন লেগে ঔষধের দোকান সহ দশটি দোকান পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ইছাখালী সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আগুনে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী ক্ষতিগ্রস্তদের। তাদের অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকান্ডের কারণে কাপ্তাই সড়কে প্রায় ১ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের বর্জ্য দেওয়া আগুন থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন ধরে যায়। মুহুর্তে আগুন ডাস্টবিন সংলগ্ন হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের অপর প্রান্তে লাগোয়া দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৪টি ঔষধের দোকান, ২টি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী মেরামতের দোকান, ২টি কুলিং কর্ণার, ১টি স্টেশনারী ও ১টি মুরগীর দোকান পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো হল
রেজাউল করিমের মালিকানাধীন সাদিয়া মেডিকেল হল, চন্দন দে’র মালিকানাধীন তারেক মেডিকেল হল, রাজিব সাহার মালিকানাধীন ঝিনুক মেডিকেল হল, বিষু বড়ুয়ার মালিকানাধীন বাচাবাবা মেডিকেল হল, আবদুল লতিফের ইনু স্টোর নামে কুলিং কর্ণার, আব্দুল কাদেরের ইমন স্টোর নামে কুলিং কর্ণার, আব্দুল হামিদের ইলেকট্রনিক্সের দোকান, সালেহ আহমদের স্টেশনারী দোকান, মো. রুবেলের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মেরামতের দোকান এবং গিয়াস উদ্দিনের মুরগী দোকান পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ঔষধ দোকানী রেজাউল করিম বলেন,
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাবতীয় বর্জ্য হাসপাতালের সামনের একটি ডাস্টবিনে ফেলা হয়৷ মো. নাজিম নামে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার অধিনে হাসপাতালে কর্মরত ক্লিনার কাজগুলো করে থাকেন। সে এই বর্জ্যে আগুন লাগিয়েছে। সকাল থেকে তাকে বেশ কয়েকবার বারণ করা হয়েছে। এমনকি আমরা নিজেরা গিয়ে পানি দিয়ে নিভানোর পরও সে আমাদের অজান্তে তাতে আবারও আগুন লাগিয়েছে। আমাদের সন্দেহ, সে কারো ইন্দনে পরিকল্পিতভাবে আমাদের দোকানে অগ্নিসংযোগ করেছে। আমার নিজের নগদ ৬৫ হাজার টাকা সহ প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল সহ ঔষধ পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই ব্যাপারে মৌখিক ভাবে ইউএনও মহোদয়কে অভিযোগ করেছি।

ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়ার স্টেশন কর্মকর্তা লিটন হাওলাদার বলেন, অগ্নিকান্ডের খবরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। হাসপাতালের বর্জ্যে দেওয়া আগুন থেকে এই অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়েছে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্তদের মৌখিক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’