বাংলা কবিতার ছন্দ

77

আলোচনা এবং লেখা- মোঃ মুসা ইসলাম শুভ্র : ছন্দের মাত্রা বলতে আমরা বুঝি সুসংবদ্ধ জ্ঞান,, শব্দের থামার শেষের নিদিষ্ট পরিমানকে একই স্তরে স্তরে ভাগ করা কে ছন্দের মাত্রা বলে।

বাক্য গঠনে বাক্য পরিপূর্ণ ছন্দের সুন্দর সহজ পাঠ।আধুনিক কালে গদ্য ছন্দ রবীন্দ্রনাথ আবিষ্কার করছেন। শেষের তার বেশি গদ্য ছন্দ নিয়ে শুনেছি শংকা তৈরি হয়েছে। মাত্রা শব্দের আরো আধুনিক ভাবে বুঝানো যায় ।গদ্য ছন্দের মাত্রায় একই স্তরে সুবিন্যস্ত না থাকার কারনে, কন্ঠের শ্বাস প্রশ্বাসের পার্থক্য হয়।

ছন্দের কাঠামো তৈরি করা একান্ত । অবশ্য বিশুদ্ধ গান কবিতার জন্য ছন্দের পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ উচিত। বর্তমান গীতি কবি এবং কবিদের ছন্দের প্রয়োগ অনেক বই করেছেন ,ছন্দের সহজ পাঠ ,আবিদ আনোয়ার । ছন্দের সহজ পাঠ, সুজন বড়ুয়া।বাংলা গান রচনা কৌশল, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান।

আরো অনেক আরো অনেক বই রকমারিতে পাওয়া যায়… কবিতা মানে পদ্য ,গল্প মানে গদ্য আজকাল গল্প প্রচ্ছদের তৈরি করেন গদ্য বৈশিষ্ট্য ছন্দ । কবিতার মান রক্ষা করতে পার্থক্যের ও কথা। শুদ্ধ গান কবিতার জন্য ছন্দের, বর্তমান খ্যাতিমান কবি তাদের দৃষ্টি ব্যাকারন মাপিক।

আমরা জানি ছন্দ তিন প্রকার স্বরবৃত্তে ছন্দ ,মাত্রাবৃত্ত ছন্দ, অক্ষর বৃত্ত।
স্বরবৃত্তে ছন্দ
উক্ত ছন্দ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

জসীম উদ্দিনের

এই গাঁয়ের এক/ চাষার ছেলে/ লম্বা মাথার/ চুল,
কালো মুখেই/ কালো ভ্রমর/, কিসের রঙিন /ফুল!
কাঁচা ধানের/ পাতার মত/ কচি-মুখের /মায়া,
তার সাথে কে/ মাখিয়ে দেছে /নবীন তৃণের /ছায়া |
জালি লাউয়ের /ডগার মত /বাহু দুখান/ সরু,
গা-খানি তার /শাঙন মাসের /যেমন তমাল/ তরু |
বাদল-ধোয়া /মেঘে কে গো /মাখিয়ে দেছে /তেল,
বিজলী মেয়ে/ পিছলে পড়ে /ছড়িয়ে আলোর/ খেল |
কচি ধানের /তুলতে চারা/ হয়ত কোনো/ চাষী,
মুখে তাহার/ ছড়িয়ে গেছে/ কতকটা তার /হাসি |

কালো চোখের /তারা দিয়েই/ সকল ধরা /দেখি,
কালো দতের/ কালি দিয়েই/ কেতাব কোরাণ/ লেখি |
জনম কালো,/ মরণ কালো,/ কালো ভূবন/ময় ;
চাষীদের ওই /কালো ছেলে /সব করেছে /জয় |

সোনায় যে জন /সোনা বানায়,/ কিসের গরব/ তার’
রঙ পেলে ভাই/ গড়তে পারি /রামধণুকের/ হার |

৪✝৪✝৪/অতিপর্ব

প্রতিটি কবিতার চার করে থাকে।।

স্বরবৃত্তে ছন্দ ছড়া লেখা হয়ে থাকে…।

কেনো জানি/ এতো বেশি /
মনে পড়ে/ আজকাল,
তোরে জন্য/ আমার ভেতর /
এতোটা যে/ আজ বেহাল।

কেনো এতো/ ভাবের এই বেগ/
তোরে দিকে /ছোটে,
কেনো এতো /সকাল বিকেল /
মনের ভেতর /খোটে।

আমি জানি/ কেউনারে তুই /
আবেগ ভরা /এক প্রেম,
সারা জীবন/ ভাবছি যাকে /
ভেবে কোথায় /এলেম।
লেখা- মুসা

২। আলোচনা
মাত্রাবৃত্তের উদাহরণ//
কীভাবে লেখা হয়ে থাকে…

লেখার মাত্রা ৪, ৫ ,৬ ,৭

সোনার তরি কবিতার মাত্রা…..
৬✝৬/১

৬✝৬/২
৬✝৬/২
৬✝৬/২

গগনে গরজে/ মেঘ, ঘন বর/ষা।
কূলে একা বসে /আছি, নাহি ভর/সা।

রাশি রাশি ভারা /ভারা ধান কাটা হল সারা,/ ভরা নদী ক্ষুর/ধারা খরপরশা।/ কাটিতে কাটিতে/ ধান এল বর/ষা। একখানি ছোটো/ খেত, আমি একে/লা, চারি দিকে বাঁকা /জল করিছে খে/লা। পরপারে দেখি/ আঁকা তরুছায়ামসী/মাখা গ্রামখানি মেঘে /ঢাকা প্রভাতবেলা–/

সোনার তরি,
কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।

৩।।
অক্ষর বৃত্ত আলোচনা উদাহরণ
লেখা ৮✝৮=১৬
৮✝৬ =১৪
৮✝১০=১৮
৩২….লেখা যায়

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালু কনা,/৮ বিন্দু বিন্দু জল, ৬
গড়ে তোলে মহাদেশ/, ৮সাগর অতল।৬