প্রসঙ্গঃ করোনায় শিক্ষার বেহাল দশা

57

আলাউদ্দিন হোসেন: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার দরুন জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে, বিপর্যয় নেমে এসেছে শিক্ষাখাতে।
পৃথিবীজুড়ে করোনা তান্ডব লন্ডভন্ড করে দিছে প্রায় তিন লক্ষাধিক প্রাণ। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে,স্বজন হারাদের আহাজারি ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। 
মহাবিশ্বের ভূখণ্ডে করোনার আঘাতে জনজীবন আজ বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছে। থেমে গেছে চলার পথসহ ব্যবসা-বাণিজ্য,থেমে গেছে স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।শিক্ষার বেহাল দশায় পিছিয়ে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার মান। 
চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে মহামারী করোনা ভাইরাস এখন সারাবিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম বেশি আক্রমণ করেছে, জীবনবিনাশ করেছে প্রায় তিন লক্ষাধিক। এই ভয়ংকর ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ কত কিছুই না করছে,তবু যেন আক্রমণ থেকে রক্ষা নেই। 
মৃত্যুর পাশাপাশি পৃথিবীর মানচিত্রে বসবাসকারী প্রাণীদের জনজীবনে বিপর্যয় ঘটিয়ে সারাবিশ্বে তান্ডব চালাচ্ছে। আমেরিকা,ইতালিতে আজ করোনার তান্ডবের ফলে জনগনের কষ্টের সীমানা প্রাচীর ছাড়িয়ে গেছে। কষ্ট ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। জীবননাশকারী এই ভয়াভয় ভাইরাস এড়াতে পৃথিবীজুড়ে চলছে লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইম ব্যবস্থা।
উন্নত দেশগুলো বলেন আর উন্নয়নশীল দেশগুলো বলেন কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না,অনুন্নত দেশের কথা আর কি বলবো,যারা সবদিকে পিছিয়ে পড়া,তারা এই মহামারীতে শতশত বছের পিছিয়ে যাচ্ছে। 
পৃথিবীর মানচিত্রে যতগুলো দেশ রয়েছে সবগুলো দেশেই একই অবস্থান ধারন করেছে এই ভয়ংকর ভাইরাস। সব দেশের জনগণের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়ে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এনেছে। 
মানুষের খাওয়া-দাওয়া প্রায় থমকে গেছে, থমকে গেছে শিক্ষা জীবন। দীর্ঘদিন ধরে করোনা ভাইরাস তান্ডবের ফলে বিশ্বজুড়ে সবকিছু যেমন থমকে গেছে,তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থাও থমকে গেছে। 
বিশ্বের বড় বড় শিক্ষা কেন্দ্রগুলো আজ অচল হয়ে জনশুণ্য হয়ে পড়ে আছে। শিক্ষার জন্য যেসব বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ভীরে মুখরিত থাকত,আজ যেখানে জনশূন্য বিরাজ করছে। 
শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ এই মহামারী করোনাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঘরে বসে দিন অতিবাহিত করছে,এতে একদিকে যেমন শিক্ষার মান বেহাল দশায় পতিত হয়েছে, তেমনি শিক্ষাজীবন শেষ করা বেকারদের জীবন থেকে প্রায় বছরখানেক সময় হারিয়ে যাচ্ছে। যাদের চাকরির বয়স বেশি ছিলো,অকারনে তাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের শিক্ষার মান এমনি খুব একটা ভালো না,তারপর এমন মহামারী এড়াতে দেশে দীর্ঘদিনের লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইমের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারে বন্ধ ঘোষণা করার শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষা জীবন থেকে। দেশের প্রাইমারি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে বসে অলসত্ব আকরে ধরে জীবনটাকে শিক্ষার ভিতর থেকে বের করে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। 
সরকারিভাবে দেশের শিক্ষার্থীদের টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে কিছুটা হলেও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে।কিন্তু দেশের খেটে-খাওয়া দিন মজুর পরিবারে টিভি না থাকায় সবাই এসব টিভি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। 
কেউ কিছুটা হলেও এই দূরদিনে শিক্ষা অর্জন করতে পারলেও বেশিরভাগই বঞ্চিত হচ্ছে এসব থেকে। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের যথাযথ শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত আজ।থেমে গেছে শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষাগুলো। এসএসসি, এইচএসসি ও অনার্স-মাস্টার্স চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত হয়ে পড়েছে। দেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে এমনি সেশনজটে পড়ে থাকে সেখানে আজ অনেকগুলো পরীক্ষা থেমে আছে।