চলনবিলে বোরো ধানের দাম ও ফলনে খুশি হলেও মিনিকেট ধানের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক

55

সৌরভ সোহরাব,সিংড়া(নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৃষি প্রধান চলনবিল অঞ্চলে চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ হয়েছে। এবার বোরো ধানের ফলন ও দাম দুটোতেই খুশি হয়েছেন কৃষকরা। গতবছর যে সব জমিতে মিনিকেট জাতের বোরো ধানের ফলন হয়েছিল ২০ থেকে ২২মণ সেই সব জমিতে এবার উৎপাদন হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ মণ। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৬মণ ধান বেশী উৎপাদন হয়েছে। সেই সাথে গতবারের তুলনায় ধানের দামও বেশি পাচ্ছেন কৃষক। গত বছর ধান কাটা পর পরই মিেিকট ধানের দাম ছিল প্রতিমণ ৬০০/-টাকা থেকে ৬৫০/-টাকা টাকা। এবছর সেই মিনিকেট ধান কৃষকরা জমি থেকেই ফঁিড়য়াদের কাছে বিক্রয় করছেন প্রতি মণ ৮৫০/-টাকা থেকে ৯০০/- টাকা দামে। গতকয়েক বছরে ধানের দাম না থাকায় প্রতিবারই লোকসান গুনতে হয়েছে কৃষকদের। এবার লোকসান কাটিয়ে উঠবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তবে ধানের দাম নিয়ে এখনও সন্তেষ্ট নয় চিকন চাউলের মিনিকেট ধান চাষের কৃষক। তাঁদের দাবি তাঁরা এখনও সরকারী ন্যায্য মুল্যে ধান বিক্রয় করতে পারছেন না। সরকারী মোটা ধানের মুল্য ২৬/- টাকা কেজি দরে প্রতি মণ ১০৪০/-টাকা র্নিধারন করা হলেও ফড়িঁয়াদের কাছে তাঁরা চিকন চাউলের মিনিকেট ধানই প্রতি মণ ১৫০/-টাকা থেকে ২০০/-টাকা টাকা কমে বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ, মোটা ধানের চেয়ে মিনিকেট ধান- চাউলের চাহিদা ও দাম সবসময়ই বেশি। সসরকারী সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতিব্রাই কোন না কোন ভাবে ঠকছেন কৃষক। এমন অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
উপজেলার শেরকোল,চৌগ্রাম,ইটালী,ডাহিয়া ও শুকাশ ইউনিয়নের কয়েকজন প্রান্তীক কৃষকের সাথে কথা বলে এমন তিক্ত অভিযোগ ও তথ্য জানা গেছে। ইটালী ইউনিয়নের সাতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক রজব আলী বলেন,আমার ৫ বিঘা জমির মিনিকেট ধান কেটে ফলন পেয়েছি ১৩০মণ। গতবার এই ৫ বিঘা জমিতে পেয়েছিলাম ১০৫ মণ্ । সব মিলে এবার ফলন বেশি পেয়েছি ২৫ মণ। প্রতিমণ ৮৫০/- টাকা দরে ৫০ মণ ধান বিক্রয় করে দেনা পাওনা শোধ করেছি। ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন,গত কয়েক বছর ধরেই ধান চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ফলন বেশি পাওয়ায় ভেবেছিলাম সেই লোকসান কাটিয়ে উঠবো। কিন্তু ধানের দাম সরকারী মুল্য পাচ্ছিনা। এছাড়া আমাদের এলাকায় বেশির ভাগই মিনিকেট ধানের চাষ হয়েছে কিন্তুু সরকারী ভাবে নেওয়া হচ্ছে মোটা ধান। চিকন চাউলের মিনিকেট ধানের তুলনামুলক দাম পাচ্ছি কম। তাই আমরা এবছরও ঠকছি। শেরকোল ইউনিয়নের তেলীগ্রামের কৃষক আব্দুল রাজ্জাক মন্ডল বলেন, মিনিকেটের পাশাপাশি আমি মোটা ধানেরও চাষ করেছি। কিন্তু সরকারী মুল্যে ধান বিক্রয়ের আশা করা যায়না। সরকারতো আর আমাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনেননা। অনেক পরে কিনেন তাও আবার লটারী করে। কারও ভাগ্যে জোটে কারও ভাগ্যে জোটেনা। ধান কাটা পরই দেনা পাওনা শোধ করা লাগে। জমি লিজের টাকা দেওয়া লাগে। তাই বাধ্য হয়েই ফঁিড়য়াদের কাছে সব ধান বিক্রয় করে দিয়েছি।