যিলহজ্বের প্রথম দশকের ফজিলত ও করণীয়

138

মুফতী মাহমুদ হাসান: দিন রাত মাস বছর।সবই আল্লাহর তারপরও কিছু পার্থক্য রয়েছে। যে সকল দিন বা রাত অশেষ মহিমায়, মর্যাদায়, মহিমান্বিত ও বরকতের জিলহজের প্রথম দশক  এমনই এক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নেয়ামত। এই দশকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অবর্ণনীয়। তাই এই মূল্যবান সময়ে আমাদের উচিত আমলের প্রতি যত্নশীল হওয়া।

কোন দশক শ্রেষ্ঠ?

রাত সমূহের মধ্যে রমাদানের শেষ দশক (১০ রাত) শ্রেষ্ঠ।আর দিন সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল জিলহজ্বের ১ম ১০ দিন।

যিলহজ্বের প্রথম দশকের ফজিলত:

হাদীস শরীফে জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের একাধিক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তসবি তাহলীল জিকির এবং অন্যান্য ইবাদতের তাগিদ এসেছে।উক্ত দিনগুলি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় 

☑️১. আল্লাহ তাআলা কালামুল্লাহ শরীফে তার কসম খেয়ে এরশাদ করেন।وَ الْفَجْرِۙ وَ لَیَالٍ عَشْرٍ

 ‘শপথ ফযরের, শপথ দশ রাত্রির’। (সূরা ফাজর ১-২)

ইবনে আব্বাস, ইবনে যুবায়ের, মুজাহিদ রাঃ সহ সালাফগণ এখানে ১০ রাত্রি বলতে জিলহজ্বের প্রথম দশককে বোঝানো হয়েছে বলে মত দিয়েছেন।(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫)

☑️২. ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا مِنْ أيَّامٍ العَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أحَبُّ إلى اللهِ مِنْ هَذهِ الأيَّامِ العَشْرِ، فقالُوا يا رسولَ اللهِ: وَلَا الجِهَادُ في سَبِيلِ اللهِ؟

فقال رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ولَا الجِهَادُ في سَبِيلِ اللهِ، إلَّا رَجُلٌ خَرجَ بِنَفْسِهِ ومَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ من ذَلِكَ بِشَيْءٍ. رواه البخاري

অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করার মত প্রিয় আল্লাহর নিকট আর কোন আমল নেই। তারা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করা কি তার চেয়ে প্রিয় নয়? রাসূল (সা.) বললেন : না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তির কথা আলাদা যে তার প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে বের হয়ে গেল অতঃপর তার প্রাণ ও সম্পদের কিছুই ফিরে এল না। ( সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৯;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৮;জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭২৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৯৬৮)

☑️৩. পৃথিবীর উত্তম দিন হলো যিলহজ্জের প্রথম দশদিন। এ মর্মে রাসূলে কারীম (সা.) বলেন:

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ قَالَ: أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا الْعَشْرُ»، يَعْنِي عَشْرَ ذِي الْحِجَّةِ. قِيلَ: وَلاَ مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: (وَلاَ مِثْلُهُنَّ فِي سَبِيلِ اللهِ إلاَّ رَجُلٌ عُفِّرَ وَجْهُهُ بِالتُّرَابِ) [رواه البزار بإسناد حسن، وأبو يعلى بإسناد صحيح،وابن حبان في صحيحه، وصححه الألباني]

হাদীসটি হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলে কারীম (সা.) বলেছেন: দুনিয়ার উত্তম দিন হলো যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন। রাসূলকে জিজ্ঞেস করা হলো; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা কি এর চেয়ে উত্তম না? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করাও না! তবে যিনি তার চেহরাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছেন। (শহীদ হয়েছেন, তার কথা ভিন্ন)। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ১১২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ২০১০; মাজমাউল যাওয়াইদ ৪/৮)

যিলহজের প্রথম দশকে করণীয়:

উপরোল্লেখিত হাদিস সমূহ দ্বারা যিলহজ্ব মাসের অনেক ফজিলত প্রমাণিত হয়।তাই এই দিনগুলির প্রতি গুরুত্ব দেয়া একান্ত জরুরী। জিলহজের প্রথম দশকে কি আমল করবে হাদীসের কিতাবে অধ্যায়ন করে কয়েকটি বিশেষ আমল পাওয়া যায়। ☑️১.জিলহজের চাঁদ উঠার পড় থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত নখ-চুল ইত্যাদি না কাটা।☑️২. যিলহজের প্রথম দশকের রাত্রগুলোতে বেশি যিকর-তাসবীহ করা। ☑️৩.যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা।☑️ ৪. বিশেষ করে নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিন রোযা রাখা। ☑️৫.নয় যিলহজ্ব ফজর হতে তের যিলহজ্ব আছর পর্যন্ত মোট তেইশ ওয়াক্তের নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পড়া।☑️৬. দশ যিলহাজ্ব ঈদুল আযহার নামায পড়া। ☑️৭. কুরবানী করা। যথাক্রমে দা বিস্তারিত 

১. জিলহজের চাঁদ উঠার পর থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত নখ-চুল ইত্যাদি না কাটা।

☑️১. রসুল সা: এরশাদ করেন;
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ.

অর্থ : উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন যিলহজ্বের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে ফকীহগণ কুরবানীকারীরর জন্য নখ-চুল না কাটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।

✅যারা কুরবানী দিবে না তারাও নখ চুল কাটা থেকে বিরত থাকবে।

☑️২. আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আসে যা: থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.(ابو داود,رقم الحديث ٢٧٨٩،النساءي رقم الحديث.٤٣٦٥)

অর্থ : আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে কুরবানীর দিবসে ঈদ (পালনের) আদেশ করা হয়েছে। যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উটনী) আমি কি তা কুরবানী করতে পারি? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও মোঁচ কাটবে এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫

বিঃদ্রঃ:এই হাদীস দ্বারা উপলব্ধি হয়। যারা অভাব বা অন্য কোন কারণে কোরবানি করতে পারে না।তাদের জন্য উক্ত ১০ দিন নখ চুল না কাটা মুস্তাহাব।কেননা হাদীসে কুরবানীর দিনে নখ চুল কাটার নির্দেশ দেয়া টি প্রমাণ করে যে এর আগে কাটবে না।

এমনিভাবে এই হাদীস এটাও প্রমাণ করে যে যাদের কুরবানী করার সামর্থ্য নেই। তারাও উক্ত আমলের মাধ্যমে কুরবানীর সওয়াবের অধিকারী হতে পারে।

এসব দলীলের কারণে  বুঝা যায় সকলের জন্যই যিলহজ্বের প্রথম দশকে নখ, গোফ ও চুল না-কাটা উত্তম। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ বিধানটি কুরবানিদাতার জন্য তাকিদপূর্ণ, তার জন্য তা সুন্নত। অতঃপর গরিবের জন্যও।

২. যিলহজের প্রথম দশকের রাত্রগুলোতে বেশি যিকর-তাসবীহ করা।

عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ .

অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়।’Ñমুসনাদে আহমদ ২/৫৭, হাদীস ৫৪৪৬; তবারানী কাবীর ১১/৬৮ হাদীস, ১১১১৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪১১০

৩. যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা।

সুনানে আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের একটি বর্ণনায় এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নয়টি দিবসে রোযা রাখতেন। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২২৩৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীস ২৪১৬

এছাড়াও এ দিনগুলোর রোযা সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা আছে। যেগুলোর প্রায় সবই জঈফ পর্যায়ের।  তবে সমষ্টিগত বিচারে তা আমলযোগ্য। অধিকাংশ ফকীহগণ এই নয় দিনে রোযা রাখা উত্তম বলেছেন।

৪. নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ আরাফার দিন রোযা রাখা

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ  قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ.

অর্থাৎ, আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইয়াওমে আরাফার (নয় যিলহজ্ব) রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৪৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪২৫

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য। এই তারিখের পারিভাষিক  নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। আমাদের দেেশে ঈদের আগের দিন।

৫. নয় যিলহজ্ব ফজর হতে তের যিলহজ্ব আছর পর্যন্ত মোট তেইশ ওয়াক্তের নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক পড়া।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

وَ اذْكُرُوا اللّٰهَ فِیْۤ اَیَّامٍ مَّعْدُوْدٰتٍ অর্থাৎ আর তোমরা আল্লাহকে স্মরণ কর (আইয়ামে তাশরীকের) নির্দিষ্ট দিনগুলোতে।’ Ñসূরা বাকারা (১) : ২০৩

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত

أنه كان يكبر بعد صلاة الفجر يوم غرفة الي صلالعصر من آخر ايام التشريق  و يكبر بعد العصر

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু নয় তারিখ আরাফার দিন ফজর থেকে তের তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীর তাশরিক পড়তেন।( ইবনে আবী শাইবা ৫৬৭৭,বায়হাকি ৬৫০০)

একাধিক সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে প্রমাণিত আছে যে, তারা নয় তারিখ আরাফার দিন ফজর থেকে তের তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীর পড়তেন। তন্মধ্যে হলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. যুহরী, মাকহুল, সুফিয়ান সাওরীসহ প্রমুখ সাহাবা-তাবেয়ীগণ।

তাকবীরে তাশরীকের জন্য বিভিন্ন শব্দ হাদীসে উল্লেখ হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বজনবিদিত পাঠ হল,

الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلاالله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد.

মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫৬৯৬-৯৯; আল আওসাত, ইবনে মুনযির ৪/৩৪৯; এলাউস সুনান ৮/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৫৮

মাসআলা : নয় যিলহজ্ব হতে তের যিলহজ্ব আছর পর্যন্ত মোট তেইশ ওয়াক্তের নামাযের পর একবার করে তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। জামাতে নামায পড়া হোক বা একাকি, পুরুষ বা নারী, মুকীম বা মুসাফির সকলের উপর ওয়াজিব।প্রত্যেক ফরয নামাযের সালামের পর পরই কোনো কথাবার্তা বা নামায পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে। মাসআলা : তাকবীরে তাশরীক পুরুষের জন্য জোরে পড়া ওয়াজিব। আস্তে পড়লে তাকবীরে তাশরীক পড়ার হক আদায় হবে না। আর মহিলাগণ নি¤œ আওয়াজে অর্থাৎ

নিজে শুনতে পায় এমন আওয়াজে পড়বে। Ñরদ্দুল মুহতার ২/১৭৮; এলাউস সুনান ৮/১৫২,২৯৪;

৬. ঈদুল আযহার নামায

ঈদুল আযহার নামায প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের উপর ওয়াজিব। মেয়েদের উপর ওয়াজিব নয়। মেয়েরা ঈদে

৭. কুরবানী করা

ঈদের নামাযের পর কুরবানী করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْ.

অর্থাৎ আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন।

সামর্থবানদের উপর প্রতি বছর কুরবানী করা ওয়াজিব৷ আর সামর্থ থাকা সত্যেও কুরবানী তরককারী ফাসিক৷ কুরবানী তরক কারীদের কঠোর নিন্দা করে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا ‏”‏ ‏.‏
হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্তেও কুরবানী করেনা, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ৩১২৩ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ৮০৭৪ হাদীস৷ আশরাফুল হিদায়া ৯/৪৭১ পৃষ্ঠা৷)

অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানী করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,

«يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَّة»

“হে লোক সকল, প্রত্যেক পরিবারের উপর কুরবানী দেয়া অপরিহার্য।” [সুনান ইবন মাজাহ-৩১২৫, হাদীসটি হাসান]।

উল্লেখিত হাদীস থেকে কুরবানী করা ওয়াজিব প্রমানিত হয়।

ঈদের নামাজের পর কুরবানী করা।

হাদীস শরীফে এসেছে,

خَطَبَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ النَّحْرِ، قَالَ: إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ، فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ عَجَّلَهُ لِأَهْلِهِ لَيْسَ مِنَ  النُّسُكِ فِي شَيْءٍ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন। তাতে বললেন, আমাদের এই দিবসে প্রথম কাজ (ঈদের) নামায আদায় করা এরপর কুরবানী করা। সুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরীকা মত হবে। আর যে (ঈদের নামাযের) আগেই যবেহ করবে (তার কাজ তরীকা মত হবে না) তা পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত সাধারণ গোস্ত হবে; কুরবানী নয়। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬০) আল কাউসার অনুকরণে।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যিলহজ্বের প্রথম দশকে আমলের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দিক। আমীন।

ভোরের বার্তা/এম, এস

ReplyReply allForward