ক্যাসিনোর আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগী প্রসঙ্গে

59

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু,লেখক কলামিষ্ট :কাজের যথাযথ জবাবদিহীতার অভাবে যে কোন প্রতিষ্ঠান অরাজকতা ও ভাগাড়ে রূপ লাভ করে থাকে। যদি জবাবদিহীতা থাকে, তবে কারও ইচ্ছায় যা কিছু তা করার সুযোগ থাকে না। দিন যতই যাচ্ছে ক্যাসিনোর আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগীরাও অধরা থাকাতে জনমনে আলোচনা, সমালোচনা ও সন্দেহের প্রবণতা ক্রমন্বয়ে বেড়েই চলছে। ১৯৭৪, ১৯৮২, ২০০২ ও ২০০৭ সালের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের কথা দেশের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। অনেকে মনে করে, এদিক সেদিক চাওয়ার সুযোগ না রেখে, বাঘের চামড়ায় শরীর ঢেকে শুধু চোখ ও কান খোলা রেখে এ অভিযান চালানো উচিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্যাসিনো সা¤্রাজ্যের গডফাদারদের বিরুদ্ধে র‌্যাব ও আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ অভিযানে যে বা যাহারা ধরা পড়েছে এবং যাদের নাম বেড়িয়ে পড়েছে তাদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের যুবলীগ, কৃষক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ পদবীধারী নেতা। এদের মধ্যে রয়েছে, খালেদা মাহমুদ, জিকে শামীম, ফিরোজ লোকমান, আরমান, স¤্রাটসহ আরও অনেকে। তাদের মধ্যে প্রায় অনেককেই আদালতের মাধ্যমে আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী রিমান্ডে নিয়েছে। রিমান্ডে থাকা ক্যাসিনোর গডফাদাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা, কুশীলব ও সুবিধা ভোগীদের নাম বলেছে এবং বলে যাচ্ছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ায় এসেছে। এসব কিছু এখন দেশের মানুষের কাছে ওপেন সিক্রেট। এছাড়া ক্যাসিনোর আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভাগীদের নিত্য নতুন তথ্যও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়। যা দেখা, জানা ও শুনার অপেক্ষার আরও অনেক কিছু রয়েছে। একজন নিবন্ধক হিসেবে এ মূহুর্তে কিছু না বলে দেশের মানুষের কাছে নিজেকে দায়বদ্ধ রাখতে চাচ্ছি না। লক্ষ্য করলে আরও দেখা যায়, ক্যাসিনোর গডফাদাররা কোন নেতা ও আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর কোন পদের কাহাকে প্রতিদিন ও সপ্তাহে কতটাকা দিয়েছে তাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যাদেরকে ক্যাসিনোর টাকা দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছে তাও প্রকাশ করে দিয়েছে। এত কিছুর পরও দেশের মানুষ অবাক ও বিষ্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছে, ক্যাসিনোর গড ফাদাররা যে সমস্ত কুশীলবদের নাম বলেছে, রাজনৈতিক নেতা আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা, ক্যাসিনোর সুবিধাভোগীসহ আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্য হতে একজনও এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে মানুষের মনে যথেষ্ট গুঞ্জন, আলোচনা ও সমালোচনা প্রসারিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেএসডির সভাপতি আ.স.ম রব ১৮/১০/১৯ ইং ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাজারে গুঞ্জন আছে। অনেক মন্ত্রী ও অনেক এমপির নাম আছে। ক্যাসিনোর গড ফাদাররা যাদেরকে টাকার ভাগ দিয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করুন (যুগান্তর ১৯/১০/১৯ ইং)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, দুর্নীতিবাজ দলের লোক হলেও ক্ষমা করা হবে না। অনেকেরই জানতে

ইচ্ছে হয়, ক্যাসিনোর গডফাদাররা কুশীলবদের নাম পদবী বলে দেয়ার পরও ওদেরকে ধরতে বাধা কোথায় ? আসলে কি কোনো অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে, না এসবের পেছনে কিছু কিন্তু রয়েছে। যা দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে তাদের অনেকেই নাকি এ সুযোগে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। যদি অধরা থেকে রাজনৈতিক দলের লোক ও আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর কুশীলবরা কোনো ফাঁক ফোকরে বিদেশে চলে যায়, আত্মগোপনে থাকে এবং এখনও চোখের সামনে ঘুরাফিরা করে থাকে তবে মানুষের মনে দুঃখ, বেদনা, যাতনা ও অনুশোচনার শেষ না থাকারই কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে র‌্যাব ও আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনী ক্যাসিনোর ভয়াবহ ও জঘন্যতম গডফাদারদের ধরতে পারলেও, তাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও কোটি কোটি টাকার সুবিধাভোগীদের ধরতে অসুবিধা থাকার কথা নয়।

এ প্রসঙ্গে শুনা একটি কাহিনী না বলেই পারছি না। আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৬৩ সালের কথা। ফুটবল খেলার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ব্যাপারে দুপক্ষের অনেকেই আহত এবং এক পক্ষের একজন নিহত হয়। উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে থানায় মামলা রুজু করে। পরে জানা যায়, মামলার ১ নং আসামী দারোগার বাসায় ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এই কথা শুনার পর এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দারোগার নিকট বিচার চায়। দারোগা তা অস্বীকার করে। পরে এলাকার সংঘবদ্ধ ও সংক্ষুব্ধ লোকজন তাকে (আসামী) দারোগার বাসার ঘোড়ার আস্তাবল থেকে বের করে এনে উত্তম মধ্যম দিতে থাকে। ইত্য সময়ে দারোগা পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পায়। এমন উদাহরণের যেন শেষ নেই। মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক দালাল বড় হুজুরদের আষ্টেপৃষ্টে থেকে বাঁচার সুযোগ পায় বলে শ্রুতি রয়েছে। যাক, যে কথা বলছিলাম। তা হলো ক্যাসিনোর গড ফাদারদের জবানবন্দীতে আসা তাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধা ভোগীদের কথা। যদি তাদেরকে বিচারের ব্যবস্থা না করা হয়, আর অধরা থেকে যায় এবং তাদেরকে কারও আশ্রয়ে, প্রশ্রয়ে পাওয়া যায়, অসতর্কতার কারণে পালিয়ে যায় বা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে তবে দুঃখবেদনার যেন অন্ত না থাকারই কথা। অনেকেই মনে করে ক্যাসিনো ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান হচ্ছে তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। যদি কোনো কারণে ক্যাসিনোর আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগীরা অধরা থেকে যায়, তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। সমুহ ক্ষতি হবে সরকার ও আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর। অর্থাৎ বোরো ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত কৃষক শিলা ও উজানের পানির ভয়ে আতংকিত থাকে। তেমনি যতক্ষণ পর্যন্ত ক্যাসিনো রাজ্যের আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগীরা অধরা থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোরো ফসলের আতংকের মতো শংকা দূর হওয়ার কথা নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযান ব্যর্থ হওয়ার কথা কারও না জানার কথা নয়। সেহেতু ১৯৭৪, ১৯৮২, ২০০২ ও ২০০৭ সালের দুর্নীতির ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নতুন করে চর্বিত চর্বন না করাটাই শ্রেয় বলে মনে হয়। দেশের মানুষ এতদিন পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতীতকে আর সামনে আনতে চায় না। সকলেই চায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার ডাস্টিক এ্যাকশান। ক্যাসিনোই নহে, প্রতিদিন দেশের আনাচে কানাচে ভয়ানক দুর্নীতি জেলা, উপজেলা ও সচিবালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের দুর্নীতির সংবাদ দেখে আঁতকে উঠতে হয়। এসব কিছু দেখে মনে হয় দেশটা যেন কিশোরগঞ্জের এক সময়ের জমিদার পরামানিক্যের জমিদারি। যাকে মগের মুল্লুক বললেও অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়। আজ বড় বড় কথার ছড়াছড়ি। দৃশ্যপট মনে করে কারও যেন কোনো দায় দায়িত্ব নেই। বড় বড় কথা ও তোয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ লক্ষ্য করা যায়। শুধু বেপরোয়া ঘুষ দুর্নীতিই নহে অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অনেকের হাবভাব ও আচার আচরণ দেখে মনে হয়, ওরা যেন জমিদার হরিবল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ও হানাদারদের দোসর। তাদের যেন কোনো জবাবদিহীতা নেই। আরেকটা শ্রেণী রয়েছে ওরা আজীবন পিপিপি বা পিজিপি। অর্থাৎ প্রেজেন্ট গভর্নমেন্ট পার্টি। যদি এবারের শুদ্ধি অভিযান কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে হয়তো বলার কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। কারণ এবারের শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। ১০ দিনের রিমান্ডে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে স¤্রাট আরও অনেকের নাম বলেছে। যারা তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিত (যুগান্তর ১৯/১০/১৯ ইং)। এ শ্রেণীটা লুটপাটতন্ত্র কায়েম করার জন্য অফিস আদালত, রাজনীতি ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে রয়েছে। আসলে এ শ্রেণীটা কোনো সরকারেরই লোক নহে। ওরা বেনিফিসিয়ারি, লুটপাট তন্ত্রের ধারক বাহক ও সুবিধাভোগী হিসেবেই পরিচিত। এছাড়া গণমাধ্যম ও মিডিয়ায় দৃশ্যপট দেখলে মনে হয়, যারা বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারাও সরকারি দলের সহযোগী ছাত্রলীগের কুশীলব। যে বা যারাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানকে নস্যাৎ ও ভুলন্ঠিত করতে চায় ওরা দেশ জাতি জনগণের শত্রু। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, লালসা চোখে পড়লে এখনই বলা, লেখার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। দুনিয়াতে কেহই চিরদিন ক্ষমতায় থাকে না। অনেকে ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও ইতিহাস ও মানুষ তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে।

আবার মীরজাফরের মতো অনেকের কবরের পাশ দিয়ে যাওয়া আসার সময় লান্নত ও থুথু দিয়ে থাকে। ইতিহাস বড়ই নির্মম। কাহাকেও ক্ষমা করে না।

যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর পাশে নেই কেউ। এই মর্মে ১৩/১০/১৯ ইং যুগান্তর একটি সংবাদ ছেপেছে। তাতে দেখা যায়, বিশাল প্রতিপত্তি, হাজারো নেতার ভীড়, বিশাল গাড়ী বহরের উপস্থিতি কিছুই আর আজ অবশিষ্ট নেই। সবাই তাকে ছেড়ে চলে গেছে। ওমর ফারুক চৌধুরী লোক চক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যাংক ব্যালেন্স। বিদেশে যাতে পাড়ি দিতে না পারে তাও তৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যদিও যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঞাকে অপরাপরদের গ্রেফতারের সময় সে ইহাকে ষড়যন্ত্র ও প্রশাসনকে দোষারোপ করেছিল। এমনকি এর প্রতিবাদে সারা দেশের থানা ঘেরাওয়ের কথাও বলেছিল যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। আজ তার যে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্যাসিনোর গড ফাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার ব্যাপারে যে প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে এসবের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। দেখা যায়, সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে স¤্রাট বলেছে তাকে নাকি প্রতি মাসে ১০ লক্ষ টাকা দিতে হত। এমনকি কোন মাসে সময়মত টাকা না দিলে তিনি নাকি বকাঝকা করতেন। পরিশেষে আবারও বলব, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানকে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে স্বচ্ছ মনমানসিকতা ও সকল কিছুর উর্ধ্বে থেকে ক্যাসিনোর গড ফাদারদের তথ্যানুযায়ী আইন শৃংখলা রক্ষাবাহিনীসহ তাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সুবিধাভোগী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে আইনের মাধ্যমে বিচারের কাঠগড়ায় আনা প্রয়োজন। কোনো অবস্থাতেই তাদের রেহাই দেয়ার কথা নয়। দেশের মানুষ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বড় বড় বক্তৃতা দেখতে আগ্রহী নয়। দেশের মানুষ তাদের স্বরূপ ও উন্মোচিত মুখোশ দেখতে আগ্রহী। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। হত্যাকারীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে দারোগাও এক সময় জনরোষ থেকে রেহাই পায়নি। এত কিছুর পরও অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন অধিদফতরের এক প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে আরেক প্রকৌশলীকে মারধর করে রক্তাক্ত কেেছ এক যুবলীগ নেতা। আহত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নাম জরিনা খানম। জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এ যুবলীগ নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা অনিয়মভাবে অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন অধিদফতরের টেন্ডার ভাগিয়ে নিচ্ছে। কাজ না করেও কাজের বিল তুলে নিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে (যুগান্তর ১৮/১০/১৯ ইং)। বর্তমানে এ অবস্থা শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নহে। সর্বত্র এই তান্ডবের ব্যাপ্তি ঘটেছে। যা উন্নয়নেরও প্রতিবন্ধক। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান না হলে, উন্নয়নশীল থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত সকল কিছু ম্লান হয়ে গেলে এক সময় হয়তো বলা কওয়ার কিছু নাও থাকতে পারে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান দেশব্যাপী ছড়িয়ে দায়ী, দোষী, গডফাদার, আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধা ভোগীদের চিহ্নিত করে এখনই ব্যবস্থা নেয়ার সময়। দেশে সীমাহীন নৈরাজ্য, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সুবিধাভোগী, দুর্নীতির আশ্রয়, প্রশ্রয়, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগেও এসব কিছু হয়েছে। তাই একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি মন্তব্য করে বলেছেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে রুখতে হলে বাঘের চামড়ায় শরীর ঢেকে চোখ কান খোলা রেখে এ অভিযানে নামা উচিত। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশ এবং ক্যাসিনোর গ্রেফতারকৃত গড ফাদাররা তাদের আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগীদের নাম বলার পর তাহারা অধরা থাকাতে জনমনে প্রশ্নের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই এক সময় এদেশে পর্যটনে এসে আলেকজান্ডার দি গ্রেড মন্তব্য করে বলেছিলেন, “হায় স্যালুকাস বিচিত্র এ দেশ, বিচিত্র এদেশের মানুষ ও তার চেয়েও বিচিত্র এদেশের মানুষের মন।” দেশের মানুষ ক্যাসিনোর কোনো গডফাদার, আশ্রয়, প্রশ্রয় দাতা ও সুবিধাভোগীদের অধরা দেখতে চায় না। দেশের মানুষ চায় ওদের উন্মোচিত মুখোশ ও আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা।