অলকানন্দা

248

নূর আলম গন্ধী : অলকানন্দা ফুলের নাম নিয়ে রয়েছে মতভেদ তাই তো একই ফুলের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। অলকানন্দা, অ্যালামান্ডা, ঘন্টা ফুল, ঘন্টালতা, আবার কোন কোন এলাকার লোকজন এ ফুলকে মাইক ফুল, কলকি ফুল নামেও চিনেন। অলকানন্দা নামটি রবি ঠাকুরের দেয়া নাম। পরিবার অঢ়ড়পুহধপবধব, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম অষষধসধহফধ পধঃযধৎঃরপধ। ইংরেজিতে এ ফুলকে এড়ষফবহ ঃৎঁসঢ়বঃ বা ণবষষড়ি ইবষষ নামে ডাকা হয়। এর আদি নিবাস ব্রাজিল। গুল্মজাতীয় পত্রঝরা ফুল গাছ। শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তের শেষে গাছে নতুন পাতা গজায়। তারই সাথে গাছে ফুল কলির আগমন ঘটে। পাতার রং গাঢ় সবুজ । ফুলের মুখ গোলাকার, প্রায় ৬ সেন্টিমিটার চওড়া, পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি, যা নমনীয় কোমল। ফুল গন্ধহীন। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছে ফুল ফোটা শুরু হয় এবং ফুল ফোটার ব্যাপ্তি হেমন্তকাল জুড়ে। তবে বর্ষা ও শরৎ ঋতুতে গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। ফুল শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে একই সাথে দুই থেকে পাঁচটি পর্যন্ত ফোটতে দেখা যায়। এর রয়েছে রং বাহারি ফুল। সোনালি, লাল, হলুদ, গোলাপি ও বেগুনী রঙের ফুল। এ ফুলের রং-রূপ সৌন্দর্য বাগানে এনে দেয় আকর্ষণীয় শোভা। গাছের লতানো কা-ের আকার-আকৃতি ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইচ্ছানুযায়ী ছোট-বড় করে রাখা যায়। তাছাড়া অনকেটা দূর পর্যন্ত এর লতানো কা- ছড়িয়ে যায়। এর গাছ ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। বাগানের বেড়া, বাড়ির সীমানা দেয়াল, ছাদ ও অন্য গাছের উপর ভর করে এর গাছ বেড়ে ওঠে। প্রায় সব ধরণের মাটিতে অলকানন্দা উৎপাদিত হয়। ভিজে বা স্যাঁতসে্যঁতে মাটিতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়না। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারেনা। সরাসরি মাটি ও টবে রোপণ উপযোগী ফুল গাছ। ডাল কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়। রয়েছে ভেষজ গুণাগুণ। ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় এর ফুল ব্যবহার হয়ে থাকে।