দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘বন্ধু মহল ‘ভ্রমণ পিপাসুদের জেজু ভ্রমন ২০২০ সম্পন্ন

35

সাইমুন রহমান, দক্ষিন কোরিয়াঃ এই বছর ছুছকের ছুটিতে কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী ‘বন্ধু মহল’ ভ্রমন পিয়াসীদের জেজু ভ্রমন সম্পন্ন হয়েছে ।গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত নয়টায় তারা জেজুর উদ্যেশে ইকসান থেকে যাত্রা শুরু করেন । ১লা অক্টোবর থেকে ০৩ অক্টোবর পর্যন্ত তারা জেজুর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। ‘বন্ধু মহল ভ্রমন’ টিমের প্রধান আবদুল রসিদ জানান , দক্ষিণ কোরিয়াতে সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর যদি তালিকা করতে বলা হয় তাহলে কোরিয়াতে এই বছর ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা নির্ধিদ্বায় ‘জেজুর’ নাম বলবো সবার আগে।
জেজু একটি স্বপ্নের দ্বীপ, ৭০৫ বর্গমাইলের জেজু দ্বীপের আবহাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার মূল ভূখণ্ডের আবহাওয়া থেকে ভিন্ন। রাজধানী সিউল যখন তীব্র শীতে কাঁপছে তখন হয়তো জেজু রৌদ্র ঝলমল দিনে শীত উপভোগ করছে।

 মুগফু থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় নিয়ে জেজু গিয়ে পৌঁছায়, খুবই স্বাভাবিক একটা ছোট্ট দ্বীপে একটি অত্যাধুনিক জাহাজ বন্দর যা আমাদের মুগ্ধ করেছিল।

 জেজু আমাদের কাছে এক ভালবাসার নাম, এত নির্মল আর শান্ত সৌন্দর্য প্রকৃতি ধারণ করে রেখেছে যে আমরা নিজের ভেতরও সেই শান্তি টের পাচ্ছিলাম। ‘মানজাং কেইভ’ যা লাভা দ্বারা তৈরি, এক অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম দেবে। গুহায় ঢুকতেই মনে হলো সামার থেকে বুঝি উইন্টারে এসে পড়লাম, হিম শীতল অনুভূতি। অসামান্য সৌন্দর্য নিয়ে জেজুর সমুদ্র এক প্রশান্তির অনুভূতি দেয় যেন।
জেজুর সবকিছুই যেন এক মুগ্ধতা। ‘জুসাংজিওলি ক্লিফ’ এই জায়গাটি নীল জলরাশির অদ্ভুত এক প্রেমে আবিষ্ট করে রাখে কিংবা বলা যায় জেজুর শান্ত পাইন বনের কথা, কি অসাধারণ শান্ত প্রকৃতি।

 জেজুর আরেক আকর্ষণ ‘ডল হারিওব্যাংক্স’ এর প্রতিকৃতি। জেজুবাসী বিশ্বাস করে এই দেবতা তাদের জৈবিক উর্বরতার প্রতীক। এই নিয়ে একটি মজার গল্পও আছে ,সদ্য বিবাহিত কোন যুবতী যদি এই পাথরের মূর্তির নাক ছুঁয়ে দেয় তাহলে সে পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে আর যদি কন্যাসন্তান চান তবে ছুঁয়ে দিতে হবে কান।
যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন এবং ঘুরতে ভালবাসেন তাদের জন্য ‘জেজু’ এক আশির্বাদ। জেজুর মানুষ, প্রশাসন এবং পর্যটক সবাই সম্মিলিতভাবে জেজুর প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে নিজেদের সভ্য মানুষের মতো আচরণ দিয়ে।