নির্বাচনে লাল ঘোড়া ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

23

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু, লেখক কলামিষ্ট : সময় আসে সময় যায়। কিন্তু কারও ভালোমন্দ, দোষগুণ ও কর্মের ফিরিস্থি (আমলনামা) মুছে যায়নি। এই কর্ম ফিরিস্থি বা আমলনামাই ইতিহাসের দলিল। যাকে অস্বীকার করার সুযোগ একেবারেই পরাহত। যদি কেহ তা মুছে ফেলতে পারতো, তবে কোনো দজ্জাল, স্বৈরশাসক, একনায়ক ও দেশমাতৃকার সূর্য সন্তানদের ইতিহাস কখনও রচিত হত না। রাজা বা জমিদারের লাল ঘোড়া কৃষকের জমির উঠতি ফসল নষ্ট করলেও যেমন বলার কেহ থাকে না, তেমনি রায় রক্ষিতার সুযোগও একেবারে পরাহত। স্বাধীনতার আগে ও পরে নির্বাচনেও রয়েছে এর প্রমাণ ও প্রতিফলন। যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যে ব্যাথা, বেদনা, ভোক্তভোগী ছাড়া অন্য কারও না বুঝার কথা। কবির পংক্তিতে বলব, “ব্যতিত বেদন বুঝিবে সে কিসে, কভু আশি বিষে দংশেনি যারে।” ডিসেম্বরে পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে সরব। অনেক প্রার্থী এখনই প্রচারেও নেমে পড়েছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর জয়পরাজয় অনেকেরই দেখার বিষয় নহে। তবে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু, অবাধ ও কারচুপি মুক্ত নির্বাচন সবারই প্রত্যাশা। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে নির্বাচনের যেমন স্বার্থকতা থাকেনি, তেমনি গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধও নির্বাসিত হয়ে পড়ে। পাকিস্তানিদের ২৪ বছরের শোষন ও ভোটাধিকার হরণকে দেশের মানুষ মেনে নেয়নি বলেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১ এর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। সেই সময় নির্বাচন কমিশন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় (ঝঃৎঁপঃঁৎধষ ওহঃবৎষড়পশরহম) সিদ্ধহস্ত হয়ে থাকে। তখন নির্বাচনে যেমন গণতন্ত্রের বালাই ছিল না, তেমনি মৌলিক গণতন্ত্রের বেড়াজালে জনগণের ভোটাধিকারকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামাফিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে থাকে। নির্বাচন কমিশন তখন সাক্ষী গোপালের ভূমিকা পালন করে থোকে। সার্কেল অফিসার উন্নয়ন, মহকুমা প্রশাসক, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার নির্বাচনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সময় সার্কেল, মহকুমা প্রশাসক (এসডিও) ও জেলা প্রশাসকগণ যথাক্রমে নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং, প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকে। দৃশ্যত তখন থানা, মহকুমা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচনের ফাইলপত্র ও ভোটের জয় পরাজয়ের নথিপত্র ছাড়া তেমন কোনো কাজ পরিলক্ষিত হয়নি। মোদ্দা কথা তখন নির্বাচন কমিশন ও তাঁহার অধীনস্থ থানা, মহকুমা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তেমন কোনো ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি। যখন থানা সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন), মহকুমা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক তাদেরকে ডাকত তখন ফাইলপত্র নিয়ে হাজিরই ছিল তাদের কাজ। অর্থাৎ তখন আমলাতন্ত্রের কাছে নির্বাচন কমিশন একেবারে বন্দী হয়ে যায়। তদোপরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আমলাদের ধারক বাহক হিসেবে মিলে মিশে কাজ করে থাকে। যাকে বলা হয়ে থাকে যেই লাউ সেই কদু। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চালচিত্র, দৃশ্যপট ও হালহকিকত দেখলে পাকিস্তান আমলের নির্বাচনের কথা অকপটে ভেসে ওঠে। অনেক নির্বাচন কমিশন ও সিইসি এ দায় থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। যদিও কলমে কাগজে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বারবার প্রশ্ন উত্থাপিত

হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তদোপরি থানা ও পরে উপজেলা এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ থাকলেও, নির্বাচনে মুখ্যম ভূমিকা পালন করে থাকে ইউএনও (প্রিসাইডিং অফিসার), জেলা প্রশাসক (জেলা রিটার্নিং অফিসার)। এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে সিও, এসডিও, ডিসি যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচনের জয়পরাজয় নির্ধারণ করেছে এখনও একই অবস্থা বিদ্যমান। এখনও নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো কারচুপি, অনিয়ম প্রদর্শিত হলেও তাদের কাছেই অভিযোগ করতে হয়। যদিও কোনো অবস্থাতেই এ দায় হতে প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকারই কথা। যাকে বলা হয় শুটকির জাহান বিলাই চৌকিদার।

জানা যায়, ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ শহরে এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অন্যান্য ভোট কেন্দ্রে দেদারছে ব্যালট পেপারে সিল মারার প্রতিযোগিতা দেখে জেলা নির্বাচন অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের নিকট জনৈক ব্যক্তি অভিযোগ করলে জবাব আসে আমাদের করার কিছুই নেই। তাতে জেলা নির্বাচন অফিসারের সাফ জবাব, আমি নির্বাচন পরিচালনায় শুধু ফাইলপত্র সংরক্ষণ করে থাকি। এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে (ডিসি) অবহিত করতে পারেন। আই অ্যাম আন ডান এন্ড আন অ্যাবুল। আমার হাত পাও বাঁধা। আমার করণীয় কিছুই নেই। এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং অফিসার (ডিসি) কে অনেকে অবহিত করলে উত্তর আসে, সারা দেশেই এ অবস্থা চলছে। আমি নিজেও ভোট কেন্দ্র ঘুরে এ অবস্থা দেখে এসেছি। এমন অবস্থা পরবর্তী সময় অনেক সংসদ, সিটি, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনেও হয়েছে। যে উপমা উদাহরণের শেষ নেই। এই যদি হয় জেলা রিটার্নিং অফিসার তথা জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউএনও তথা প্রিসাইডিংয়ের উত্তর, তবে এ নিবন্ধে আর কিছু বলা ও লেখার প্রয়োজন না থাকারই কথা। অনেকেই মনে করে নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই দরকার ইসি ও সিইসির স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আইনের প্রতি কঠোরতা, আমলাতান্ত্রিক গহবর থেকে বেড়িয়ে আসা। দ্বিতীয়তা জেলা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান। কোনো অবস্থাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রিসাইডিং ও জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং অফিসার না করে তদস্থলে উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে প্রিসাইডিং ও জেলা নির্বাচন অফিসারকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা। অনেকেই বলতে পারে, নির্বাচন কমিশনের জনবল কম থাকাতে ইউএনও এবং ডিসিকে প্রিসাইডিং ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সারাদেশে উপজেলাগুলেতে যেমন ৪৯০ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ দেশের ৬৪ জেলায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অনেক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাও রয়েছে। অনেকের অভিমত যদি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন না হয়, তবে স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য ভোটের কথা বলে ঢাকঢোল পেঠালেও এ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাও হতে পারে। পাকিস্তানের স্বৈরশাসকরা নির্বাচন কমিশনকে যে আজ্ঞাবাহী আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রেখে গেছে, আজও এর পরিবর্তন হয়নি। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও ঢেলে সাজানো না পর্যন্ত যত কিছুই বলা হোক না কেন, তা আদৌ ফলপ্রসু হবে না বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করে থাকে। দেশে নির্বাচন আসলেই ইসি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচার করে থাকে, “আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশী তাকে দিব”। এ প্রচার এক সময় অসারের তর্জন, গর্জন ও হাস্যস্পদে পরিণত হয়ে থাকে। দেশের মানুষ কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তান আমলের স্বৈরশাসকের ন্যায় স্বাধীন দেশে এ ধরণের নির্বাচন যেমন দেখতে চায় না, তেমনি মাজাভাঙ্গা ও আজ্ঞাবাহী ইসি, সিইসিও আর দেখতে চায় না। সকলেরই মনে রাখা উচিত ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান ও পরবর্তী সময় মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আমলের ভোটাধিকার পদ্ধতির পরিবর্তন ছিল অন্যতম ইস্যু। এমন কিছু লোক হরেগঙ্গা মার্কা ও ভোটারবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় চলে আসে, যার ফলে ক্ষমতার চেয়ারে বসেই অনিয়ম, থান্ডার দুর্নীতি, রেন্ডাম ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে অহরহ অনেকেই অনস্থা, বরখাস্ত ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িত হয়ে পড়ে। যদি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে আসে তবে এমন অবস্থা সৃষ্টি না হওয়ারই কথা। কারণ তারা জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকে। আর বিনাভোটে নির্বাচিতরা জনগণের নিকট দায়বদ্ধ না থাকার কারণে যা ইচ্ছা তা করতে পারঙ্গম হয়ে থাকে। ইতিহাস বড়ই নির্মম ও নিষ্ঠুর। পরে হলেও এক সময় ইতিহাস দালিলিক প্রমাণসহ মানসপটে হাজির হয়। তখন গোপন কিছু থাকে না। বই পুস্তকে এত বছর পরে হলেও পাকিস্তানের সেনাশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে গণতন্ত্রের বদৌলতে মৌলিক গণতন্ত্রের আদলে নির্বাচন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে ছিল। তা আজও ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে রয়েছে। তাছাড়া সেই সময়ে ইসি এবং সিইসির কি ধরণের ন্যাক্কারজনক ভূমিকা ছিল তাও পরবর্তী সময় ইতিহাসে গোপন থাকেনি। বাংলাদেশ আমলে এ পর্যন্ত যতগুলো সংসদ ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হয়েছে তাতে কোনো সরকার, শাসন, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের কার কি ভূমিকা ছিল তাও একদিন ইতিহাসে স্থান না পাওয়ার কথা নয়। ইতিহাস বাস্তবতার দলিল। ইতিহাস থেকে নিজেকে ঢেকে রাখার সুযোগ একেবারেই পরাহত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ইতিহাস থেকে অনেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার হরণকারী স্বৈরাচার ও এক নায়কদের নির্মমতার ইতিহাস পড়লে এখনও শরীর শিহড়িয়ে ওটে। যদিও তাদের ক্ষমতাকালে কেহই তাদের অন্যয় অপকর্মের প্রতিবাদ করতে সচেষ্ট হয়নি। ব্রিটিশের নির্মমতা ও শোষনের বিরুদ্ধে তিতুমীর, সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতা, মৌলানা মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী ভ্রাতৃদ্বয়, স্যার সৈয়দ আহমদ, সৈয়দ আমীর আলীসহ আরও অসংখ্য দেশপ্রেমিক আন্দোলন করে আজও ইতিহাসে কালজয়ী হয়ে রয়েছেন। যাদের কথা ভারতবর্ষের মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের গোল টেবিল বৈঠকে (জড়ঁহফ ঃধনষব পড়হভবৎবহপব) মৌলানা মোহাম্মদ আলী ভারত বর্ষের রাজন্য বর্গের সামনে দৃপ্ত কন্ঠে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন “যদি জীবিতকালে আমি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা দেখে যেতে না পারি তবে তোমরা আমাকে একটি স্বাধীন দেশের মাটিতে কবর দিও”। যার মোদ্দা কথা ছিল, পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা, মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তানীদের শোষন, নির্যাতন, পরাকাস্টা থেকে মুক্তি ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও দেশবরেন্য অনেক সাংবাদিকদের ত্যাগকে যেমন ভুলা যায়নি, তেমনি খাটো করেও দেখা যায়নি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশের নির্বাচন ও মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে যে তেলেসমতি কান্ড, ভানুমতির খেলা ও অরাজকতা দৃশ্যপটে ভেসে ওঠেছে তা দেশ বরেণ্য এসব নেতাদের স্বপ্নকে ধূলিসাতই করছেনা স্বাধীন দেশের মর্যাদাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা চিন্তা করলে দুঃখ, বেদনা ও অশ্রুধারার যেন শেষ থাকেনি। যদি এখনও স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ও ভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে.এম নূরুল হুদা, প্রিসাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের ব্যাপারে প্রশ্ন ওঠে, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ফলাও সংবাদ প্রকাশিত হয় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তবে অধিকার হারা ভোটারদের যাওয়ার জায়গাই বা কোথায় ? বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই যে নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও কারচুপি হয়ে আসছে তাহাই নহে। এই রোগ পাকিস্তানের ২৪ বছর এবং ব্রিটিশের ১৯৬ বছরের সৃষ্ট। কিন্তু সকলেরই ধারণা ছিল স্বাধীন দেশের নির্বাচনে প্রথাগত এ রোগ থাকবে না। কিন্তু আজও অনেক ইসি, সিইসি অবাধ, স্বচ্ছ, সুষ্ঠু, কারচুপিমুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ নির্বাচন করতে সচেষ্ট হয়নি। যা কারও কাম্য নহে। ৭৩, ৮৬, ৮৮, ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন কি রকম হয়েছে এটা সবারই জানা। এখন থেকে দেশে সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের সকল পর্ষদে যাতে সুন্দর, স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ে থাকে ইহাই জনপ্রত্যাশা। এদেশের মানুষ খুবই সহজ ও আত্মভোলা। ইতিহাসবিদরা অনেক কিছু লিপিবদ্ধ রাখলেও অনেকেই তা ভুলে যায়। বর্তমান সিইসি কে.এম নূরুল হুদা ও ইসি যদি পূর্বের আলোচনা, সমালোচনাকে উত্তরন ঘটাতে সিদ্ধহস্ত হয় তবে দরকার ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনসহ সামনে উপবিষ্ট স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচন ও সংসদের উপনির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় ইহার সম্যক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোনো সাংবাদিক, কলামিস্ট, সুশীল সমাজ, পেশাজীবি, রাজনৈতিক দল ও দেশের কেহই নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, প্রিসাইডিং, রিটার্নিং অফিসার ও শাসন প্রশাসনের কারও সাথে শত্রুতা ও বিরাগ ভাজন হওয়ার কথা নয়। তদোপরি দেশের জন্য ইসি, সিইসি ও শাসন প্রশাসনের দয়ামায়া ও দরদ কোনো অংশে কম নহে। সবকিছু ভেবে চিন্তে ও স্বাধীনতার অঙ্গীকার রক্ষাকল্পে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু, অবাধ ও কারচুপি মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোক ইহাই মহান স্বাধীনতার অঙ্গীকার। এত কিছুরর পরও যদি দেশে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, আর কেহ যদি পাকিস্তান আমলের একনায়ক ও ভোট খেকো আইয়ুব খান ও তদানীন্তন পাকিস্তান আমলের নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রেতাত্মা বলে বর্তমান ইসি, সিইসিকে তুলনা করে থাকে তবে হয়তো বলার কিছু নাও থাকতে পারে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসি ও সিইসিকে কেহ লাল ঘোড়ার দাপট ও কারিশমা মনে করলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার পূর্বক স্বচ্ছ, সুষ্ঠু, অবাধ, কারচুপিমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই গণতন্ত্র স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও মূল স্তম্ভ। বড় বড় কথা ও আশাবাদই নহে যতদিন পর্যন্ত ইহার বাস্তবায়ন না হবে ততদিনই অপূর্ণতা থেকেই যাবে।