ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড কোনো সমাধান নয় : জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

24
Michele Bachelet, Presidente of Chile speaks during Special Session of the Human Rights Council. 29 March 2017.

অনলাইন ডেস্ক: ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনের শাসন, অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে মৃত্যুদণ্ড কোনো সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচলেট।

(১৬ অক্টোবর) শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রবর্তনে নারী ও শিশু নির্যাতন (প্রতিরোধ) আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারির বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিশেল ব্যাচলেট। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশগুলোর মূল সমস্যা হল যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি ন্যায়বিচার পায় না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের মূল যুক্তিটি হলো ধর্ষণরোধ করা। তবে বাস্তবে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড অন্য যেকোনো ধরণের শাস্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। মিশেল ব্যাচলেট বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোকে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দ্রুত অপরাধের তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে আমিও একাত্মতা প্রকাশ করছি। তবে আমি উদ্বিগ্ন যে, কিছু জায়গায় এরইমধ্যে নিষ্ঠুর-অমানবিক শাস্তি এবং অপরাধীদের মৃত্যদণ্ড কার্যকরে আইন গৃহীত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, মরোক্কো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তিউনিসিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের অসংখ্য রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ যথাযথভাবে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। যৌন নিপীড়ন রোধের প্রতিকার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তিউনিসিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের অসংখ্য রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ যথাযথভাবে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। যৌন নিপীড়ন রোধের প্রতিকার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গে আমিও একাত্মতা প্রকাশ করছি। তবে আমি উদ্বিগ্ন যে, কিছু জায়গায় এরইমধ্যে নিষ্ঠুর-অমানবিক শাস্তি এবং অপরাধীদের মৃত্যদণ্ড কার্যকরে আইন গৃহীত হয়েছে।

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে নাইজেরিয়ার আইন সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রবর্তনে মহিলা ও শিশু নির্যাতন (প্রতিরোধ) আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন। পাকিস্তানের জনসাধারণ ফাঁসির আহ্বান জানিয়েছে। আরও অনেক দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের মূল যুক্তিটি হলো ধর্ষণরোধ করা।