কিশোরগঞ্জে ১০দফা দাবীতে অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীদের মানব বন্ধন

14

মোঃ নজরুল ইসলাম সাগর, জেলা প্রতিনিধি ( কিশোরগঞ্জ):  বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টাল ইডি কর্মচারী ইউনিয়নের  ডাকে সারা দেশের ন্যায়  কিশোরগঞ্জ প্রধান ডাকঘর চত্বরে শান্তিপূর্ণ মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছ। বর্তমান বেতন ভাতা তিনগুণ বৃদ্ধি, উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, হাওর ভাতা, ইডি কমিশন গঠনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে গতকাল (রবিবার) এ কর্মসূচিতে দেশের সকল শাখা ডাকঘরের অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীগণ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এ মানব বন্ধন  অংশগ্রহণ করেন।     উক্ত মানব বন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পোস্টাল ইডি কর্মচারী ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম ভূইয়া।  তিনি এ প্রতিনিকে জানান, দেশের ৮৫০০ ডিজিটাল  ডাকঘরে আমরা প্রায় চব্বিশ হাজার অবিভাগীয় ডাক কর্মচারী নিরলস ভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে তাদের দোরগোড়ায় সকল প্রকার ডিজিটাল সেবাসহ ডাকসেবা প্রদান করে আসছি। কিন্তু আমাদের সঠিক পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন,  অভিবাগীয় ডাক কর্মচারীগণ মাত্র ৪১০০ টাকা থেকে ৪৪৬০ টাকা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। তারা পাচ্ছেনা কোন উৎসব ভাতা। যা খুবই অমানবিক।  দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্ব গতিতে দেশের এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি তাদের বেতন ভাতা তিনগুণ বৃদ্ধিসহ দশ দফা দাবী মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। মানব বন্ধনে  অংশ  নেওয়া  কর্মচারীদের  সাথে  কথা  বলে  জানাযায়  তাদের  কষ্টের কথা, তারা এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিভাগীয় ডাক কর্মচারীরা সরকার নির্ধারিত স্কেলে বেতন ভাতা পেয়ে যখন বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন, ঠিক  তখনই আমরা একই কাজ করে নামমাত্র সম্মানী ভাতা পেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছি।  আমাদের কথা কেউ শুনেনা, কষ্টও কেউ দেখেনা। এই সামান্য   বেতন দিয়ে  সন্তানের  লেখাপড়াতো দুরের কথা তাদের মুখে দুবেলা আহারও জোটাতে পারছিনা। আমরা এতটাই হতভাগা যে, ঈদের দিনেও একটি নতুন জামা দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে পারিনা। এসব কথা বলতে গিয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেন। বাংলাদেশ পোস্টাল ইডি কর্মচারী ইউনিয়নের  কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হাকিম মুঠোফোনে এ প্রতিনিকে জানান, মাত্র ৪১০০ টাকা বেতনে কর্মচারীদের কাজ করার নজীর পৃথিবীর কোথাও নেই। সরকার একই  বিভাগে  এক শ্রেণীর কর্মচারীদের সরকারি স্কেলে বেতন প্রদানসহ যাবতীয় সুযোগ  সুবিধা প্রদান করা হলেও ইডি কর্মচারীদের কোন সুযোগ সুবিধা ছাড়াই সামান্য সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়। এতে ইডি কর্মচারীগণ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যা সম্পূর্ণ অমানবিক। তিনি অবিলম্বে দুটি উৎসব ভাতা ও তিনগুণ বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবী মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।