নয়নাভিরাম ফুল অপরাজিতা

63

লেখা-নূর আলম গন্ধী : অপরাজিতা লতাজাতীয় ফুল গাছ। এর পরিবার ঋধনধপবধব , উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ঈষরঃড়ৎরধ ঃবৎহধঃবধ। আদিনিবাস মালাক্কা উপসাগরিয় অঞ্চলের টিনাট দ্বীপ। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ সর্বপ্রথম এই দ্বীপ থেকে এ ফুল গাছটি সংগ্রহ করেন। এ ফুলের সাথে আমাদের দেশের মানুষের পরিচয় খুবই নিবিড়। বাগানের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি রয়েছে এর নানাবিধ ভেষজ গুণ। তাই এ ফুলের কদরও একটু বেশি। অপরাজিতা গাছের মূল, ছাল, পাতা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। গাছের পাতা বহু ফলক বা বহু পক্ষাকার হয়ে থাকে। রং গাঢ় সবুজ, আকারে ছোট। পত্রভরা লতার ফাঁকে ফুটন্ত ফুল খুবই নয়নাভিরাম। অপরাজিতার ফুল গুচ্ছ আকারে থোকায় খুব বেশি একটা ফোটতে দেখা যায় না। এরা যেনো একা একা থাকতেই ভালোবাসে। তাই তো একত্রে একের বেশি ফুল খুব কমই ফোটতে দেখা যায়। সবুজ পাতার মাঝে নীল রঙের অপরাজিতা এক কথায় মনোরম। অপরাজিতার রয়েছে সাদা রঙের ফুলের প্রজাতিও। পাপড়ি নমনীয় কোমল, ফুল গন্ধহীন। এর ফুল ফোটার মৌসুম গ্রীষ্ম থেকে শুরু হয়ে হেমন্তকাল জুড়ে। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফলের আকার দেখতে শিমের মতো। তবে আকারে একটু ছোট হয়। ফলের রং প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ক ফলের রং খয়েরি হয়। ফলের ভেতর জন্ম নেয় বীজ। বীজ, মূল ও লতা কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশবিস্তার করা যায়। সরাসরি মাটি ও টবে রোপণ উপযোগী ফুল গাছ। এর গাছের বৃদ্ধির জন্য বাউনির ব্যবস্থা করতে হয়। উঁচু ভূমি ও পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত রৌদ্রউজ্জ¦ল পরিবেশ অপরাজিতা উৎপাদনে উত্তম। আমাদের দেশে পারিবারিক বাগান, বাসা-বাড়ি বাগান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে অপরাজিতা ফুল গাছ চোখে পড়ে।