অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ: নৌকায় আগুন

239

নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল (সোমবার) দুপুরে ২নং চরদেওঘর জলমহালে ইজাদারের লোকদের সাথে সাধারণ জেলেদের এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় দুপুরের দিকে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে ইজারাদার এমদাদুল হক খোকন ও তার লোকজন অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের উপস্থিতে জেলেদের মাছ ধরতে বাধা প্রদান করলে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন পুলিশ ও ইজারাদারের লোকজন জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে এবং তাদের উপর ধাওয়া করে জেলেদের ছত্র ভঙ্গ করে পশ্চিম কাস্তুল নদীর পারে এসে অবস্থান নেয়।
এদিকে সমস্ত জেলেরা আলীনগর চরে ইটের ভাটায় জড়ো হয়ে নদী পার হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ইজারাদারের লোকদের ধাওয়া করলে ইজারাদারের লোকজন নৌকা রেখে অন্যত্র চলে যায়। তখন জেলেরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ইজারাদারের দুটি নৌকা ভাসিয়ে আলীনগর চরে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামীলীগ নেতা খাইরুল আলম খন্দকার জানান, গরীব জেলেদের স্বার্থে সরকার সকল জলাশয় উম্মুক্ত করে দিলেও ২নং চরদেওঘর জলমহালটি জেলেদের স্বার্থ উপেক্ষা করে একটি প্রভাবশালী মহলকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। যা এলাকার জেলে সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। তারা পেটের দায়ে জীবন বাচাঁনোর তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে গেলে ইজারাদারের লোকজন তাদের ধাওয়া করলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাধে।
ইজারাদার এমদাদুল হক খোকন জানান, আমি বৈধ ভাবে জলমহাল ইজারা নিয়েছ্,ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমাকে উক্ত জলাশয়ে দখল প্রদান করেছেন। জেলেরা জোড়পূর্বক আমার জলমহালে মাছ ধরতে এলে সংঘর্ষ বাধে এবং তারা আমার দুইটি নৌকা পুড়িয়ে ফেলে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মোল্যা এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।