লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

17

ইবি প্রতিনিধি: আজ আমাদের প্রাণের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এর পঠন-পাঠন শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট রয়েছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাতন্ত্রিক র্মযাদায় উন্নীত করেছে। ইসলামের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতি লক্ষ্য করে ১৯৭৭ সালে ওআইসি’র উদ্যোগে পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ‘প্রথম আন্তর্জাতিক ইসলামী শিক্ষা সম্মেলনে” এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যা জন্মগত ভাবেই ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলাম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধন করা অর্থাৎ ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে যাবতীয় বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা ও শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করা। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখে এর অর্থবহ মনোগ্রাম তৈরী করা হয়েছে যাতে পবিত্র কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১১৯ নং আয়াত “إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَام ” নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন তথা জীবনব্যবস্থা একমাত্র ইসলাম” সংযোজিত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে “ থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি”। যার অধীনে আলকুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দা‘ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ রয়েছে, যেসব বিভাগ শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্য কোনো দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে রয়েছে “ আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ” বিভাগ যার মাধ্যমে ইসলামী আইনশাস্ত্রে উচ্চতর পঠন ও গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে। যা বংলাদেশের অন্যকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়না । এটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে “ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এ্যডুকশেন এন্ড রিসার্চ (IIER)” নামে রয়েছে স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট, যার মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর গবেষনা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ফ্যাকাল্টির তিনটি বিভাগ ব্যতিত অন্য বিভাগসমূহে “ ইসলামিক স্টাডিজ” নামে একটি ননক্রেডিট র্কোস রয়েছে যা প্রতিটি ছাত্রকেই( মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড ও অমুসলিম ছাত্রদের জন্য নয়) পাশ করতে হয়। যদিও এক সময় এ কোর্সটি ২০০ নম্বরের মূল র্কোস হিসেবেই অর্ন্তভূক্ত ছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উচ্চতর শিক্ষা গবেষনার জন্য ওআইসি ও আইডিবি বিভিন্ন সময় প্রচুর অর্থায়ন করেছে, কিন্ত বিভিন্ন সময় এর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বর্তমানে সে আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ রয়েছে। সর্বোপরী এ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এ দেশের ইসলাম প্রিয় বুদ্ধিজীবি ও ছাত্র-জনতার এক র্দীঘ আন্দোলন । আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় এদেশের তৌহিদী জনতার হৃদয়ে লালিত এক চরম ও পরমাকাংখিত বস্তু। আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন, গর্বের উৎস, হৃদয়ের একান্ত আবেগ-ভালোবাসা। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর গৌরব উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় তার মৌলিকত্ব নিয়ে আরো ক্রমাগত অগ্রসর হোক ৪২তম দিবসে মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনাই করছি।