নড়াইলের লোহাগড়ায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালায় মিজান

87

জহুরুল হক মিলু, নড়াইল প্রতিনিধি: ঝালমুড়ি হেভিয়েট, মুখেজাল ভালই লাগে, টাকা নেই বাকি লেন ধান বেচি টাকা দেন, টাকা নেই কিস্তিরপর নেন এভাবেই স্নোগান দিয়ে লাল হলুদ সাদা বিশাল একটি কাপড়ের চানদোয়ার নিচে দাড়িয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন মিজান। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঝালমুড়ির সরমজান ভ্যানে নিয়ে চলে আসেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলা-ধুলায়, ওয়াজ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে ঝালমুড়ি মিজান নামে পরিচিত। তাকে দেখলেই সবাই ছুাটে আসে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য। লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শিয়রবর গ্রামের মো. লকায় শেখের ছেলে মিজান। মিজানের বাবা একজন কৃষক ছিলেন। তারা দুই ভাই তিন বোন। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মিজান পঞ্চম। বড় ভাই রিজাউল ঝালমুড়ির ব্যবসা করেন। মিজান অভাবের সংসারে লেখাপড়া শিখতে পারে নাই। তাই বড় ভাইয়ের হাত ধরে ছোট ভাই মিজান এ ব্যবসায় আসে। মিজানের এক ছেলে এক মেয়ে। মিজানের ছেলে মাদরাসায় ও মেয়ে চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ে। মিজান বলেন, আমি লেখাপড়া শিখতে পারিনি আমার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো চেষ্টা করছি। মা সহ পাঁচ জনের সংসার চালান মিজান। মিজান জানান, সংসার জীবনের ঝুকি মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। প্রতিদিন খরচ খরচা বাদ দিয়ে ৫ থেকে ৭ শত টাকা আয় হয়। এতে আমার সংসার ভালই চলে। মুড়ি, ছোলা, চানাচুর, আমআচার, তেতুল আচার, পিয়ারা, বুটভাজা বিক্রি করি। বৃদ্ধ, যুবক, ছোট ছেলে-মেয়ে ও আপারা আমার ঝালমুড়ি খেয়ে মজা পাই। আমাকে দেখলেই মুড়ি মাখানো খেতে আসে। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হাট-বাজার, মেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এভাবেই আমি দীর্ঘদিন ঝালমুড়ি বিক্রি করি। এই এলাকার মানুষ খুব ভাল। আমাকে সবাই ঝালমুড়ি মিজান নামে ডাকে। ঝালমুড়ি ভক্ত বাবরা গ্রামের মো. তুফান বলেন, মিজানের ঝালমুড়ি আমাদের কাছে সবচেয়ে মজা লাগে। একবার খেলে আরও খেতে ইচ্ছা হয়। লোহাগড়া বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী বিপুল গাইন বলেন, মিজানকে দেখলেই ঝালমুড়ি খাওয়ার লোভ হয়। চলে আসে মুখে রস। প্রতিদিন তার ঝালমুড়ি না খেলে মনে হয় কি যেন খাই নাই।