দুর্নীতি, ধর্ষণ, নিষ্ঠুরতা ও ভোট প্রসঙ্গ

42

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু,লেখক কলামিষ্ট : প্রতিনিয়ত যে অনাচার, তান্ডব, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, লুটপাট, দুর্নীতি, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড চলছে তা কারও কাম্য নহে। তদোপরি প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেভাবে ভাইরাল হচ্ছে তা কোনো মতেই কারও ভুলে যাওয়ার নয়। এসব দেখে অনেকেরই শরীর শিহড়িয়ে ওঠার উপক্রম হয়ে থাকে। অনেক সময় অশ্রু সংবরণ করা যায় না। যার উপমা, উদাহরণ ও দৃশ্যপটের শেষ থাকেনা। এছাড়া প্রতিদিন নিষ্ঠুরতা, ধর্ষণ, নৃশংসতা ও দুর্নীতির খবর আজ মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি সব কিছু প্রকাশ হত তবে ৮, ১০, ১২ ও ১৬ পৃষ্ঠার কাগজে দেশ, বিদেশের অন্য খবর, কলাম, ফিচার ও মতামত ছাপানোর মতো সুযোগই থাকত না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেও সোচ্চার থাকার পরও তা যেন থেমে নেই। ধর্ষণের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের বিধান চালু হলেও ধর্ষণ, পৈশাচিকতা, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতা যেন সোনামি ও দাবালনের মতো অপ্রতিরোধ্য গতিতে সামনে এগিয়েই চলছে। যা দেখে মনে হয় দেশটা যেন অরাজকতা ও মগের মুল্লুক। ইতোপূর্বে দুর্নীতি, লুটপাট, নৃশংসতা ও বিভীষিকা বন্ধে ১৯৭৪ সালে ইমার্জেন্সি, ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্ট, ২০০৭ সালে অপারেশন ওয়ান ইলেভেন (১/১১) এসেছে। ১৯৮২ ও ১৯৭৫ সলে সামরিক শাসন জারি হয়েছে। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন, ঈড়সনরহবফ ঙঢ়বৎধঃরড়হ বা সম্মিলিত অপারেশনের নামে ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দিন যে কান্ড ঘটিয়ে গেছে তা দেশের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। শুধু তাই নয়, ক্যাঙ্গারো কোর্ট স্থাপন করে দেশের ছোট বড় নেতা থেকে শুরু করে কতজনকে যে হয়রানী করেছে, হেয় করেছে এবং জেল খানায় ঢুকিয়েছে তার যেন শেষ নেই। তাদের এ চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও বিভীষিকা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীও রেহাই পায়নি। যা বাস্তবতারই প্রতিফলন। রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রাণ আদায়ের নামে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ডর, ভয় ও বাধ্য করে বিপুল অংকের টাকা আদায় করা হয়েছে। যদিও এসব আদৌ তাদের কাজ ছিল না। অপর দিকে ৯০ দিনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতায় এসে ২১ মাসের বেশী সময় অতিক্রম করেছে। শুধু তাই নয় পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হলে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে মঈন ইউ আহমদের যা করার কথা ছিল তাহাও করা হয়নি। যে কারণে বিডিআরের বিদ্রোহে বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল ও তার পরিবার সেনাবাহিনীর অনেক চৌকস কর্মকর্তাসহ ৭৭ জন অকালে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হয়। যে ব্যথা তাদের পিতা, মাতা, ভাই বোন, সন্তান, স্বামী হারা স্ত্রী, পরিবার পরিজন ও দেশবাসী আজও তা ভুলতে পারেনি। তাছাড়া ১/১১ কে ব্যবহার করে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার খায়েশকেও সামলাতে পারেনি। ১/১১ এর সবকিছু উপস্থাপন করা হলে সংক্ষিপ্ত এ কলামে তা কুলাবে না। তদোপরি যে কারণে ইমার্জেন্সি, ক্লিনহার্ট ও ১/১১ এসেছিল, এখনও দেশের অবস্থা এর চেয়েও কম নহে। দেশের মানুষ আর এসব দেখতে চায় না। মানুষ চায় শান্তি, স্বস্থি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা। তবে অনেকেই মনে করে এসব নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে দরকার প্রচলিত আইন ও শাসনের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান। যা থেকে কাহাকেও রেহাই না দিয়ে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দেশে প্রতিনিয়ত অনেক দুর্নীতি, নিষ্ঠুর, নৃশংস ও অশ্রু নিংড়ানো বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ঘটনা যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনীর মেজর (অবঃ) সিনহা রাশেদ খানকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা, নৌবাহিনীর লেঃ ওয়াসিফ আহমদকে মারধর, হত্যার হুমকি, তার স্ত্রীকে নাজেহাল, নৌবাহিনী/সেনাবাহিনীর লেঃ ও ক্যাপ্টেন বলে গালিগালাজ, পুলিশের সিনিয়র ও মেধাবী এএসপি আনিসুলকে মানসিক চিকিৎসার নামে ঢাকার মাইন্ড এইড মাদকাসক্ত মানসিক নিরাময় কেন্দ্রে বর্বরোচিত ও নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা কারও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরণ, দুর্নীতি, প্রজেক্টের টাকা আত্মসাৎ ও লাগামহীন ও থান্ডার দুর্নীতির যে মধু চন্দ্রিমা চলছে তাদের নাম পদবী লেখে শেষ করার মতো নয়। রাক্ষস ও দানবদের নাম ও পদবীতো এমনিতেই ফোকাস হচ্ছে সেদিকে এগুনো হলো না। এছাড়া শাসন প্রশাসনে এমন কিছু গুনধর ও মতিভিম লোক রয়েছে যারা হরহামেশা ঝঃৎঁপঃঁৎধষ ওহঃবৎষড়পধশরহম বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভোগে এবং মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করে না। যা একটি স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য খুবই দুঃচিন্তা, উৎকন্ঠা ও দুঃখের কারণ বলা চলে। তদোপরি কিছু অসাধু ও কালোবাজারী ব্যবসায়ীদের ইচ্ছামাফিক জিনিসের দাম বাড়ানোর প্রবনতা মেনে নেয়ার মতো নয়। গোল্ডেন মানিকের যেন শেষ নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য দফতর পরিদফতর ও বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে এমন ঠাকুরদের যেন কমতি নেই। অর্থাৎ যেখানেই হাত সম্প্রসারিত করা যায়, সেখানেই অনিয়মের খনি ও গড্ডালিকা প্রবাহ। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কাজে আসছে না, সেখানে অন্য কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আরেকটি বিষয় যা হল ঢাকঢোল পিটিয়ে একটি প্রকাশ্য দুর্নীতি। যা কাগজে কলমে দালিলিক বা উড়পঁসবহঃধৎু ঊারফবহপব হিসেবে প্রমাণিত। কোনো সরকারি নির্দেশ বা প্রবিধান ছাড়াই কোনো কোনো অফিসে এলএআর বা খড়পধষ অৎধহমবসবহঃ জবংড়ঁৎপব এর নামে যে অনিয়ম হয় তা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত। এলএআর ফান্ডের নাকি কোনো অডিট হয় না। অর্থাৎ খাবিতো খা কুছ নেহি পরোয়া। ০৯/১১/২০ ইং বুধবার কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়ার মোড়ে বিকাল ৪টার দিকে ফারহান মাসুদ বিজয় নামে এক যুবককে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে প্রকাশ্যে হত্যা করে। তদোপরি দেশের এখানে সেখানে প্রতিনিয়ত যেমন নিষ্ঠুরতা ও বিভীষিকা চলছে তেমনি ধর্ষণও থেমে নেই। এদিকে ১৭ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চতুর্থ শ্রেণীর ৯ বছরের ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনার সঙ্গে বেঁধে পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে ৯ বছরের লামিয়ার গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, নুপুর ও আংটির লোভে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার আগে লামিয়াকে ধর্ষণ করা হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ১৯/১১/২০ ইং বৃহস্পতিবার রাতে সাভারে নৃত্য শিল্পী ময়ুরীর লাশ ভোরে আড়াপাড়া ড্রেন মার্কেট এলাকায় একটি ড্রেনের উপর থেকে পুলিশ উদ্ধার করে থাকে। পরিবারের অভিযোগ আড়াপাড়ার আশ্রমে কালীপূজার একটি অনুষ্ঠানে নাচগান শেষে বাড়ী ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। মোদ্দা কথা দুর্নীতি, ধর্ষণ, হত্যা ও নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই থামছে না। ১৭ নভেম্বর টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজার জিয়ারত শেষে ফিরার পথে রাত ৯টার দিকে মধুপুর গড়ে লোকের আত্মচিৎকারে আমরা কয়েকজন মাইক্রো থেকে নেমে জানতে পারি অটোবাইকের চালককে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা অটোবাইকটি নিয়ে গেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহরে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অসংখ্য মরা মানুষের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করে। সম্প্রতি দৌলতিয়া পতিতা পল্লীতে অভিযান চালিয়ে এক মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। এমনিভাবে চাকরির প্রলোভনে কত অসহায়, নিরীহ মহিলাদেরকে যে নিষিদ্ধ পল্লীতে দুর্বৃত্তরা বিক্রী করছে এসবের খবর রাখেই বা কজনা। তারপরও এমন হৃদয় বিদারক, স্পর্শকাতর, নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা ঘটছে তার যেন ইয়ত্তা নেই। ১২ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, কুমিল্লায় স্ত্রীর সামনেই জিল্লুর রহমান চৌধুরী নামে এক যুবলীগ নেতাকে ১১/১১/২০ ইং বুধবার প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ১২ অক্টোবর পাবনা জেলার ভেড়া উপজেলার সমন্বয় কমিটির সভা চলাকালে দুর্দান্ত প্রতাপশালী ভেড়া পৌরসভার মেয়র উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাজীরহাট ও নগরবাড়ী ঘাট তার পক্ষের লোকদের ইজারা দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয়। ইউএনও এ বিষয়টি সরকারি নীতিমালা বিরোধী বলে মন্তব্য করলে মেয়র তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে থাকে। উক্ত মেয়র সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাই বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উক্ত মেয়রকে বরখাস্ত করে থাকে। অক্টোবরের ২৯ তারিখ লালমনিরহাটের একটি নিষ্ঠুর ঘটনা দেখে নিজেকে সংবরণ করতে পারি নাই। যা দানবদের চিত্র বলা যায়। শহীদুন্নবী নামের যে মানুষটিকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তিনি ধর্মপ্রাণ মানুষ। সালাত কায়েম করতেন। তারপরও কোরআন শরীফ অবমাননার অপবাদে তাকে নির্মম, নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদের যে অংশটুকু সবচেয়ে হৃদয় বিদারক তা হচ্ছে, যখন তাকে দলবদ্ধভাবে আক্রমন করা হয়, তখন পুলিশ তাকে উদ্ধার করে একটি অফিসে নিয়ে যায়। তারপরও উম্মত জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করা যায়নি। তাকে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নৃশংসভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। তাহলে বুঝতে হবে এদেশে কারও জানমালের নিরাপত্তা নেই। এ ঘটনা ঘটানো হয় ধর্মের নামে। অথচ কোরআন হাদীসের কোথায়ও এ ধরণের কথা বলা নেই। যারা এসব কিছু করে তারা মানুষ নামের নরকীট ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের ডাল কুত্তারই প্রেতাত্মা বলা চলে। ২১/১১/২০ ইং গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সোহরাওয়াদী মেডিকের কলেজ হাসপাতাল মর্গের লাশ কাটা ঘরে মৃত কিশোরীদের লাশের উপর ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যা মর্মান্তিক, নিষ্ঠুর, অমানবিক ও বিষ্ময় কর। যে সংবাদটি পড়ে কোনো সুস্থ মানুষের ঠিক থাকার কথা নয়। গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচজন মৃত কিশোরীর লাশ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে সিআইডি প্রমাণ পেয়েছে। এই মৃত কিশোরীদের বয়স ১১ থেকে ১৭ বছর। মৃত লাশগুলোর সাথে এই অবমাননাকর, স্পর্শকাতর ও শরীর শিহড়িয়ে ওঠার মতো কাজটি করেছিল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের ডোমের ভাগীনা ও সহযোগী মুন্না ভক্ত। তাকে ২০/১১/২০ ইং শুক্রবার গ্রেফতার করে আদালতে নেয়া হলে, ১৬৪ ধারায় সে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। তাতে সে মোটেই বিচলিত বা অনুতপ্ত নয় বলে জানায়। এদেশে এ ধরণের ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানা যায়। যা এ কলামে লিখতে গিয়েও শরীর শিহড়িয়ে ওঠে। যা কিয়ামতের আলামতও বলা যেতে পারে। একটার পর একটা কত যে নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে যা মানসপটে ডিনামাইটের মতো বিদ্ধ হচ্ছে। যা টহঃড়ষবৎধনষব ড়ভভবহপব বা সহ্যের বাইরে। এ নিবন্ধে আরেকটি বিষয় যোগ করছি। যা হচ্ছে নির্বাচনে ভোটের দৃশ্যপট। নির্বাচন, ভোট ও ভোটাধিকার একই সূত্রে গাঁথা। সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের মূল কথা। সেখানেও যদি হরহামেশা ভোট লুট, ভোটাধিকার হরণ ও কারচুপি হয়, তবে ইসি ও সিইসি ছাড়া বলার জায়গাই বা কোথায় ? তারপরও নির্বাচন কমিশনের কোনো কমিশনার যদি কোনো মন্তব্য করে বলে থাকেন “একাদশ সংসদ নির্বাচনের চেয়ে নেমে গেছে সংসদের এই উপনির্বাচন” তবে নির্বাচন ও ভোট সম্পর্কে বলা বা লেখারই কী থাকতে পারে। ১২ নভেম্বর ঢাকা- ১৮ ও সিরাজগঞ্জ- ১ আসনের উপনির্বাচন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ঢাকা- ১৮ আসনের ১৪টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নির্বাচন ভবনে ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এই নির্বাচন (ঢাকা ১৮ আসন) আরও নীচে নেমে গেছে। ঢাকা ১৮ আসনের নির্বাচন মোটেই অংশগ্রহণমূলক হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা- ১৮ নির্বাচনী এলাকার নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত ও উত্তরার ১৪টি কেন্দ্রের ৭০টি বুথ পরিদর্শন করেছি। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমার ধারণা হয়েছে, এ নির্বাচন মোটেই অংশগ্রহণমূলক হয়নি। বিরোধী দলের কোনো এজেন্ট কোনো কেন্দ্রে দেখা যায়নি। শুধু কুর্মিটোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খিলক্ষেতের ভোট কেন্দ্রে একটি বুথে মহিলা পুলিং এজেন্টের উপস্থিতি দেখতে পাই। পুরো নির্বাচনী এলাকায় একটি দলের পোস্টার, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও বিলবোর্ড দেখা যায়। যা নির্বাচন আচরণ বিধি অনুযায়ী আগেই তোলে নেয়া উচিত ছিল। নির্বাচন শুধু দলের জয় পরাজয় নয়, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র উত্তরণের একমাত্র অবলম্বন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারিত্বমূলক ও গ্রহণযোগ না হলে ক্ষমতা হস্তান্তর স্বাভাবিক হতে পারে না। আর নির্বাচন গ্রহনযোগ্য না হলে দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা ও ব্যক্তির নৈরাশ্য বৃদ্ধি পায়। এসব নৈরাশ্য থেকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রবল আশংকা রয়েছে। নৈরাজ্য প্রবণতা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য মোটেই সুখকর নহে। সে কারণে গণতন্ত্রের প্রবক্তা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন বলে গেছেন “এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, নু ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ্ ভড়ৎ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব” যার অর্থ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করা। যার মধ্যেই রয়েছে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভোটের মোদ্দা কথা। দেশের যে হালচাল, তা কারও জন্যেই শুভ নয়। তবে এসব কিছুর উত্তরনে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা ও কঠোর উচ্চারণের পরও যখন দুর্নীতি, ঘুষ, ধর্ষণ ও নিষ্ঠুরতা বেড়েই চলছে, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত না করে আরও একধাপ সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত বলে অনেকেই মনে করে থাকে। প্রয়োজন হলে এসবের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান, থান্ডার এ্যাকশন নেয়া যেতে পারে বলে অনেকেরই অভিমত। তাই বলে ফখরুদ্দিন, মইনুদ্দীনের ওয়ান ইলেভেনের মতো এমন কিছু কারও কাম্য নহে। বরং ওরা ৯০ দিনের কথা বলে ২১ মাসের বেশী সময় ক্ষমতায় থেকে যা করে গেছে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদেরকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ভোক্তভোগীসহ অনেকেরই অভিমত। পরিশেষে উপসংহারে বলব, দেশের অগ্রগতি, উন্নতি, প্রগতি, সমৃদ্ধি আনয়নে দুর্নীতি, ধর্ষণ, নিষ্ঠুরতা পরিহার পূর্বক শান্তি শৃংখলা জননিরাপত্তাই পাথেয়। কিছু চিহ্নিত বেপরোয়া লোকদের অসদাচারণের কাছে অর্জনকে কোনো মতেই বিকিয়ে দেয়া যায় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও গণতন্ত্রই হোক আমাদের চলার পথ ও দিশারী।