আটোয়ারীতে মেডিকেল সার্টিফিকেট বিক্রির হিড়িক

13

এ রায়হান চৌধূরী রকি, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) থেকে ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে মেডিকেল সার্টিফিকেট বিক্রির হিড়িক পড়েছে। রীতিমত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তা বাবুর চেম্বারের সামনে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য মেডিকেল সার্টিফিকেট ফি’- ৫০০/= টাকা উল্লেখ করে কম্পিউটারে কম্পোজ করা সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে আদায় করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাস হওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইনকে ঘিরে সর্ব সাধারনের মাঝে গাড়ীর কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে পাশাপাশি গাড়ীর চালকগণ তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এ সমস্ত কাজের জন্য সরকারী বিধান অনুযায়ী গাড়ীর মালিক ও চালকগণকে বিভিন্ন কাগজপত্র প্রস্তুত করতে বলেন। এতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে একজন চিকিৎসক কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন আছে বলে জানাগেছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আটোয়ারীতে মেডিকেল সার্টিফিকেট বিক্রির হিড়িক পড়েছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দীনের পুত্র মোঃ আলতাফ হোসেন (৫০) জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর আবেদনের পরিপেক্ষিতে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিতে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের গেলে মেডিকেল অফিসার ডাঃ আনিসুর রহমান (আনিস) প্রতি সার্টিফিকেটের জন্য ৫শত টাকা হারে দাবী করেন। সেখানে অনেক কথা শেষে আমি সহ আরো দুইজন ৫শত টাকা করে মোট ১ হাজার ৫শত টাকা জমা দিয়ে তিনটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করি।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আনিসুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এটার কোন নিয়ম নাই। অনেকে নিয়ে থাকেন তাই আমিও নিচ্ছি। এটা আমার অন্যায় হয়েছে।
এ দিকে (কর্তা বাবু) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন কবীরের জানান, এটা আমরা নিতেই পারি। এটা নেয়ার নিয়ম আছে।
এব্যাপারে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সরকারী নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেউ সার্টিফিকেট নিলে কিছু নেয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে কেউ সার্টিফিকেট নিলে সেখানে চিকিৎসক চাইলে কিছু নিতে পারেন। তবে না নেওয়াটাই ভাল। আমার জীবনে কখনো মেডিকেল সার্টিফিকেটে কোন টাকা গ্রহণ করি নাই।