পিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে বালিয়াডাঙ্গীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন- অভিযোগকারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব

26

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: মামলার তদন্ত রিপোর্টে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, বিবাদী পক্ষের কোন বক্তব্য না নিয়েও তা রিপোর্টে উল্লেখসহ নানা অসংগতিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের অভিযোগ এনে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র একপেশে তদন্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে অভিযোগকারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব ।  ১৮ জানুয়ারি  সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়ন পরিষদ এর সভা কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।  সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিবাদি পক্ষের মো: রফিকুল ইসলাম ও ভানোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব(০১৭১৩৭৭১০০৭ )।  সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ,  ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের দূর্গাপুর সাকিনের পৈতৃক সুত্রেপ্রাপ্ত ৫৪ শতক জমি রফিকুল, দেরেম আলী, বাবুল মাস্টার ও নাসিরুল-কসিরুল ৪ শরিকে ভোগ দখল করে বসবাস করে আসছিলো। সম্প্রতি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে ঐ জমির মাঝ বরাবর রাস্তা ব্যবহারের জন্য ৩ শতক জমি নির্ধারণ করে দেয়। এতে বাবুল মাষ্টারের অধিক দখলীয় জমিতে টয়লেট ও বাথরুম সহ আংশিক স্থাপনা রাস্তার ম্যাপে চিহ্নিত হয়। ফলে স্থানীয়রা তা সরিয়ে নিতে বাবুল মাস্টারকে অনুরোধ করে। এদিকে ঘটনার দিন গত ৪ ডিসেম্বর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ও দেরেম আলী গংকে ফাঁসাতে বাবুল মাস্টার তার স্থাপনা নিজেরাই ভাংচুর করে এবং রফিকুল সহ ৮ জনকে আসামী করে ৭ ডিসেম্বর কোর্টে একটি মামলা করে। পরবর্তীতে আদালত গত ২০ ডিসেম্বর পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ওপর এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে এর রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করে গত ১১ জানুয়ারী একটি তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, পিবিআই মামলার দায়িত্ব পান ২০-১২-২০ ইং তারিখে এবং সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র ও সুচিপত্র অংকন এবং ছবি উত্তোলন সহ তদন্তের যাবতীয় কাজ করেন ২১-১০-২০ ইং তারিখ সকাল সোয়া ১০টা হতে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত। এছাড়াও তদন্ত রিপোর্টে দেখা যায়, মোট ৭ জন ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাদী পক্ষের ৪ জন ও নিরপেক্ষ ৩ জন, এখানে বিবাদী পক্ষের কারও বক্তব্য নেওয়া হয়নি।  এ ছাড়াও রিপোর্টে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাক্ষ্য গ্রহনের কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি পিবিআই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব।  পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা  দুলাল চন্দ্র অধিকারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,তদন্তে গিয়ে প্রমাণিত ভাবে যা পেয়েছি সেই রিপোর্ট তদন্ত রিপোর্টে দেয়া হয়েছে। পরে পিবিআই সহকারি পুলিশ সুপার এবিএম রেজাউল ইসলাম এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,তদন্ত করে  রিপোর্ট আমাদের ঢাকা অফিসে পাঠানো হয় এরপর ঢাকা অফিস থেকে সঠিক ভাবে মার্ক করে দেওয়ার পর তদন্ত রিপোর্টে বিজ্ঞসিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে জমা করা হয়েছে।  সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।