রাঙ্গাবালীতে শীতের আগাম বার্তায় ব্যস্ত কারিগররা

25

মাহামুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াশাঝরা সকাল আর ঘাসের ওপর ছড়িয়ে পড়া শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। আর শীতের শুরুতেই রাঙ্গাবালীতে লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কারিগররা। ঋতু বৈচিত্রে রাতে কুয়াশা আর দিনে হাল্কা গরম থাকলেও ঠান্ডার প্রকোপ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। ফলে ঠান্ডা নিবারণে এ অঞ্চলের মানুষের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

পটুয়াখালী  জেলার রাঙ্গাবলী উপজেলা  নদী বেষ্টিত হওয়ায় শীতকালে এ অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে। প্রতি বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঠান্ডা নিবারণের জন্য লেপ-তোষক বানিয়ে মানুষের আগাম প্রস্তুতিও চলছে। আর এ সুযোগে পশরা সাজিয়ে বসেছেন পুরাতন কাপড়ের দোকানিরাও। শুক্রবার দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার  লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের মো. বশার মিয়া বলেন, ঠান্ডা বাড়ছে, তাই পুরাতন লেপের তুলা বদলিয়ে নতুন কাপড় দিয়ে সেলাই করে নিচ্ছি। পরে ঝমেলা হয়, তাই আগাম লেপ-তোষক বানাচ্ছি। 

দোকানি মাসুদ রানা  বলেন, প্রতিটি লেপ-তোষক বানাতে মজুরি হিসেবে দু’শ থেকে তিন টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজারে গার্মেন্টস ঝুট দিয়ে তোষক তৈরিতে এক হাজার থেকে দের হাজার  টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তাছাড়া কার্পাশ তুলা দাম বেশি হওয়ায় অনেকে গার্মেন্টসের তুলা দিয়ে লেপ তৈরি করে থাকেন। বাজারে কম্বলের তুলনায় লেপের দাম কম থাকায় চাহিদাও বেশি থাকে। এসময় অনেক কারিগর ও ব্যবসায়ী শীত আসার আগেই পর্যাপ্ত পরিমাণে লেপ-তোষক তৈরি করে মজুদ রাখেন। 

দোকানি মাসুদ রানা আরো বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি লেপ-তোষক তৈরির আগাম অর্ডার পাই। শীত আসলেই কারিগরদের কাজের চাপও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর তারাও বাড়তি আয়ের জন্য দিনরাত কাজ করেন। ফলে দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।