উপকারী উদ্ভিদ ঢোল কলমি

37

মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী : আমাদের দেশের প্রকৃতি-পরিবেশ তথা গ্রামাঞ্চলের মানুষজনের কাছে ঢোল কলমি খুবই পরিচিত এক উদ্ভিদ। দেশের রাস্তার ধার, বাড়ির পাশে, মাঠে-ময়দানে, জলাশয়ের ধার, খাল-বিলের ধার, হাওর-বাঁওড় ও পাহাড়ের ঢালে ঢোল কলমি ফুল চোখে পড়ে। ঢোল কলমি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর পরিবার ঈড়হাড়ষাঁষধপবধব, উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম ওঢ়ড়সড়বধ পধৎহবধ। ইংরেজি নাম চরহশ সড়ৎহরহম মষড়ৎু। আদিনিবাস সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলভিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল। গাছ বেশ কষ্ট সহনশীল। তাই তো বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ত পরিবেশ সহ প্রতিকূল পরিবেশের মাঝেও নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তাছাড়া গাছ দ্রুত বর্ধনশীল বলে অল্পদিনের মাঝে ঘন ঝোপে পরিণত হয়ে ওঠে। এ উদ্ভিদ আমাদের দেশের মানুষের কাছে এখনও আগাছা হিসেবেই পরিচিত। গাছের কা- ফাঁপা, উচ্চতা গড়ে ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কা- দিয়ে কাগজ তৈরি হয়। ব্রাজিলের আদিবাসিরা এর কা- তামাক পাইপ হিসেবে ব্যবহার করে। পাতা গাঢ় সবুজ, হৃদপৃ-াকার, অগ্রভাগ সূচালো। এর গাছ ভূমিক্ষয় রোধ করে। তাই হাওড় অঞ্চলে বাড়ির পাশে, পুকুর পাড়ে রোপণ করা গেলে পানির ¯্রােত ও ঢেউ হতে মাটি ভাঙ্গন রোধ করে। গ্রামাঞ্চলে ফসলি জমির আইলে চাষিগণ জীবন্তবেড়া হিসেবে রোপণ করে থাকেন। ঢোল কলমির বীজ ও পাতায় বিষাক্ত উপাদান থাকে। তাছাড়া গাছের পাতা তেঁতো স্বাধের ও কষযুক্ত বলে গরু ছাগল তা খায়না। ফলে ফসলি জমির বেড়া তৈরিতে ঢোল কলমির ব্যবহার অধিক লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া জ¦ালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অযতœ-অবহেলা আর প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা ঢোল কলমি গাছে সারাবছর ধরে দৃষ্টিনন্দন ফুল ফোটে। যা ছোট বড় সবার নজর কাড়ে। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ঢোল কলমির ফুল নিয়ে খেলা করতে দেখা যায়। বর্ষার শেষ ভাগ থেকে শরৎ, হেমন্ত ও শীতকালে গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। একটি মঞ্জরিতে একত্রে ৪ থেকে ৮ টি ফুল ধরতে দেখা যায়। ফুল ফুটন্ত গাছে ফুলের মধু আহরণে বিভিন্ন রকম পতঙ্গের আগমন লক্ষ্য করা যায়। ফুল দেখতে ফানেল বা ঘন্টা আকৃতির, গন্ধহীন, মাঝে পরাগ অবস্থিত। রং হালকা বেগুনি থেকে হালকা গোলাপি। পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি, যা নমনীয় কোমল । ঢোল কলমির রয়েছে কিছু ভেষজ গুণাগুণ।