পরিচিত ও জনপ্রিয় ফুল মধুমালতী

37

ছবি ও লেখা : নূর আলম গন্ধী:

মধুমালতী আমাদের দেশে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় ফুল। ইংরেজি নাম জধহমড়ড়হ ঈৎববঢ়বৎ, ইঁৎসধ ঈৎববঢ়বৎ, ঝপধৎষবঃ জধমড়ড়হ, ঈযরহবংব ঐড়হবুংঁপশষব ইত্যাদি। পরিবার ঈড়সনৎবঃধপবধব, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ছঁরংয়ঁধষরং রহফরপধ। এর আদি নিবাস ভারত। ফুলটিকে মধুমালতী বা মধুমঞ্জরি যে নামেই ডাকুন’না কেন সমস্যা নেই, কারণ তা একই ফুল। তবে লক্ষ্য করা যায় অনেক মানুষজন মধুমালতী বা মধুমঞ্জরি ফুলকে মাধবীলতা হিসেবে চিনেন যা একান্তই ভুল। মাধবীলতা ফুল মধুমালতী বা মধুমঞ্জরি থেকে ভিন্ন এক ফুল। মধুমালতী কাষ্ঠল লতাজাতীয় ঝোপালো আকৃতির ফুল গাছ। এর বৃদ্ধির জন্য বাউনির ব্যবস্থা থাকতে হয় যাতে ভর করে বেড়ে ওঠতে পারে গাছ। এর লতা বেশ শক্ত মানের হয়, বিশেষ করে বয়স্ক গাছের লতা। তাছাড়া বয়স্ক লতা মোটা হয়ে মোচড়ানো এবং ধূসর বর্ণ ধারণ করে। গাছের দৈর্ঘ্য ইচ্ছে অনুযায়ী ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম-বেশি করে রাখা যায়। এর পাতা কিছুটা পাতলা ও খসখসে প্রকৃতির, গঠনে আয়াতকার থেকে ডিম্বাকার, রং সবুজ, তাছাড়া এর পাতাগুলি শাখায় জোড়ায় জোড়ায় সুবিন্যস্তভাবে সাজানো থাকে। লতার অগ্রভাগে গুচ্ছবদ্ধ থোকায় ফুল ধরে। একই গাছে এর সাদা, লাল, গোলাপি ও মিশ্র রঙের ফুল ফোটতে দেখা যায়। ফুলে ক্ষুদ্রাকৃতির পাপড়ি সংখ্যা পাঁচটি, মাঝে পরাগ অবস্থিত, দলনল বেশ লম্বা। ফুলের গন্ধ বেশ মিষ্টি। প্রায় সারাবছরই এর ফুল ফোটে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় মধুমালতী ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম। এ সময়ে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে গাছ। ফুল ফুটন্ত গাছ খুবই নজরকাড়া ও মনোরম। রৌদ্রউজ্জ¦ল, উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে মধুমঞ্জরি জন্মে। লতা কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের বাসা-বাড়ি বাগান, পার্ক, উদ্যান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে মধুমালতি ফুল গাছ চোখে পড়ে।