গণপরিবহনে জমিদারতন্ত্র ও ভোগান্তির দৃশ্যপট

18

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু, লেখক কলামিষ্ট : সরকারি, বেসরকারি পর্ষদ ও সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দফতর ও সংস্থা রয়েছে যাদের সেবা ও অবদানের সীমা, পরিসীমা নেই। আবার এমন অনেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দফতর ও সংস্থা রয়েছে যাদের দুর্নীতি, অপকর্ম, বেলাল্লাপনা ও ক্ষমতা অপব্যবহারের যেন শেষ নেই। অপরদিকে এ শ্রেণীটা জনকল্যাণ, জনউন্নয়ন ও সেবার ধারে কাছেও নেই। তন্মধ্যে গণপরিবহন মালিক সমিতি ও গণপরিবহন শ্রমিক সমিতির কথা জানা যায়। তন্মধ্যে ওদের মধ্যে রয়েছে বিভাজন। লকডাউনের কারণে প্রায় ৪৮ দিন দেশের বাস, ট্রেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। রোববার ২৩ মে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের এক আদেশে ২৪ মে থেকে লকডাউন ৭ দিন বাড়ানো হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪৮ দিন বন্ধ থাকার পর সারাদেশে বাস, ট্রেন, লঞ্চ চলাচলের আদেশ দেয়া হয়। ভূক্তভোগীদের যাতনা ও বাস্তব অর্থে গণপরিবহন একটি জমিদারতন্ত্রেরই নাম। অনেক সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সড়কে অহরহ বাস বন্ধ করে চলাচলে অপরিসীম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলশ্রুতিতে তাদের সাথে দেনদরবার করে এ ধরণের ঘটনা ও সমস্যার সমাধান করা হয়ে থাকে। যে বিড়ম্বনা ও বিতৃষ্ণার শেষ থাকে না। অনেক সময় জেলার ডিসি, এসপিকেও এসব ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়। এছাড়া অনেক সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র কের বাসের হেলপার ও চালকরা যাত্রীদের সাথে বড় ধরণের গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় চলন্ত বাস থেকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের ফেলে দেয়। এমন অনাকাংখিত ঘটনার উদাহরণের কমতি নেই। এছাড়া অনেক সময় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও মহিলা যাত্রীদের জিম্মি করে বাসে নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহ মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য কথা কাটাকাটিতে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে যাত্রী হত্যা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী চালাতে গিয়ে তাদের হাতে দুর্ঘটনা, যাত্রী জখম ও নিহতের সংবাদ কম জানা যায়নি। তারপর তাদের বিরুদ্ধে যাতে প্রচলিত দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা যাতে রুজু না হয় সেজন্য সব সময়ই মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সমিতির লোকজন তীব্র বাধার সৃষ্টি করে থাকে। এমনকি বাসের চালকের দোষে কেহ বাসের তলায় পড়ে নিহত হলে বা মারাত্মক জখম হলে তন্মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানা ও মালিক সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিনের অলিখিত সমঝোতার মাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজনকে এককালীন ৮/১০ হাজার টাকা দিয়ে নাকি তা মিমাংসা করা হয়ে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। ঈদের পর গণপরিবহন চলার যথাযথ নির্দেশ না প্রদান করা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশী ভাড়া আদায় করার কথা বলা হয়। যদিও ৩ জনের সীটে ২ জন এবং ২ জনের সীটে ১ জন বসা ও বাসের যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশ রয়েছে। ঈদের সময় সীমিত সময়ের জন্য জেলা টু জেলা বাস চলাচলের অনুমতি দেয়া হয় এবং

যথারীতি বাসে জায়গা খালি রেখে প্রকৃত ভাড়ার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশী ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে যেমনি দুই গুণ ভাড়া নেয়া হয় তেমনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। তদোপরি স্বাস্থ্যবিধিরতো ধারে কাছেও নেই। এ দৃশ্যপট গণমাধ্যমে অহরহ প্রকাশিত হয়ে থাকে। মোদ্দা কথা এসব কিছু দেখে মনে হয়েছে দেশটা যেমন ওদের জমিদারি তেমনি আইন ভঙ্গের গডফাদার। তদোপরি ৪৮ দিন পর মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের গৃহীত সিদ্ধান্তে ২৪ মে থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল করলেও নির্দেশিত নিয়মনীতি মানার ও দেখার যেন কেউ নেই। অনেকে মন করে এখন সারাদেশে মনের মাধুরী মিশিয়ে বাস চলাচল করলেও নির্দেশিত মতে চলছে না। বাসে একদিকে যাত্রীদের গাদাগাদি, স্বাস্থ্য নির্দেশনা উপেক্ষা ও আগের বাস ভাড়ার চেয়ে ৬০ শতাংশ হারে বেশী ভাড়া নিলেও তা যেন দেখার কেহ নেই। যেমন বাঘের খাচায় ছাগল ও সিংহের খাচায় ভেড়া রাখারই কিচ্ছা। যে কারণে বাস পরিবহন ব্যবস্থাকে অনেকেই জমিদার তন্ত্রের সাথে তুলনা করে থাকে। এই জমিদারতন্ত্র ও ভোগান্তি কবে ললাট থেকে দূরীভূত হবে তা যেমন ভাবনার বিষয় তেমনি দুঃখ, যাতনা ও অপরিসীম বেদনার বিষয় বলা চলে। কবির ভাষায়, কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিশে, কভু আশী বিষে দংশেনি যারে।

লকডাউনকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বা গণপরিবহনের ভোগান্তি ও জমিদারতন্ত্রের বিকাশ ঘটলেও অনেক আগ থেকেই গণপরিবহনে যাত্রী হয়রানী মামুলি ব্যাপার হিসেবে চিহ্নিত। বাস পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক, শ্রমিক, হেলপার ও বাস পরিবহনের বরকন্দাজরা মনে করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিকার করার মতো কেহই নেই। তাছাড়া তাদের অন্যায়, অনিয়ম, অপবাদ ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে এমনিতেই যেমন উল্টো হয়রানী, নাজেহাল হতে হয়, তেমনি ওরা নিজেদের অপকর্মকে ঢেকে রাখার জন্য ইচ্ছা মতো দেশের যে কোন সড়ক মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়ে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়ে থাকে। তাই বাস্তব অর্থে অনেকেই বাস পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্টদের অন্যায়, অনিয়ম ভোগান্তির শিকার হলেও সহজে ওদের বিরুদ্ধে যেতে চায় না। যার রয়েছে ভুরি ভুরি উদাহরণ ও উপমা। ঈদের আগে জেলা টু জেলা বাস চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও, তাতে দেখা গেছে মানুষের বিড়ম্বনা শতভাগ বেড়ে যায়। বড় বড় শহর, বন্দর ও রাজধানী ছেড়ে অনেকেই বাড়ীতে ঈদ করতে এসে এই অমানবিক বিড়ম্বনায় নিপতিত হয়। অর্থাৎ এক বাস থেকে নেমে অন্য বাসে ওঠার বিড়ম্বনার শেষ থাকেনি। তাছাড়া সরকারি নির্দেশে ৬০ ভাগ বাস ভাড়া বেশী প্রদান করলেও কোনো যাত্রীই গাদাগাদি ছাড়া বাসে বসতে পারেনি। আন্তঃজেলা টু জেলা খন্ড খন্ডভাবে বাস চলার এ দৃশ্য ও ভোগান্তি ভোক্তভোগীদের কখনও ভুলে যাওয়ার নহে। বিশেষ করে তখন বাসে ওঠা ও নামার দৃশ্যপট দেখলে মনে হয়েছে এ যেন লকডাউনের চেয়ে মহা দুর্ভোগ ও দুর্ভাবনার বিষাদের দৃশ্যপট। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট বাস পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিকার পাওয়াতো দূরের কথা বরং বাসের হেলপার, চালক ও তাদের পেটুয়া বাহিনীর কাছ থেকে যথেষ্ট নাজেহাল হতে হয়। এ ব্যাপারে যাত্রী কল্যাণ পরিবহন সমিতির কাছ থেকে যতটুকু সেবা পাওয়ার প্রয়োজন অকপটে তাও মিলছে না। যদিও তাদের প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখার মতো নয়। গণপরিবহন যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে উক্ত সংস্থাটি সভা, সমাবেশ ও প্রেসকনফারেন্স করে কিছু কথা বললেও তা বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়নি। গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির কর্মকর্তা ও পর্ষদের অনেকের কার্যকলাপ দেখে অনেকেই ব্রিটিশের অত্যাচারী জমিদার তাদের লাঠিয়াল বাহিনী ও লালটুপি বাহিনীর দুর্ভোগ ও পরাকাষ্টার কথা আজও মনে করে থাকে। ওদের তীর্যক ব্যবহার ও ট্যাংগারো বাহিনীর প্রবনতা থেকে রেহাই পেতে হলে দরকার সমন্বিত প্রচেষ্টা। এই সংগঠনটির দুটি স্তর। তা হচ্ছে মালিক ও শ্রমিক পরিবহন সমিতি। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে ওরা তাদেরই পায়রুবী করে থাকে বলে ক্ষসমতাসীন সরকার তাদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল হয়ে থাকে। তাছাড়া জনসমাবেশে লোক সমাগম ও রেডিমেইড লোক যোগানের ইহা একটি সহজ উপায় বলে মনে করা হয়। তাই বলে তাদের অন্যায়, অপকর্ম ও লাগামহীনতার ব্যাপারে সরকারি ঘরানার লোকদের খুব একটা সোচ্চার ও অবস্থান নিতে দেখা যায় না। আরও শোনা যায় এ সমস্ত সমিতিতে প্রতি সপ্তাহে ও মাসে প্রচুর চাঁদা আদায় হয়। এই চাঁদার ভাগ নাকি রাঘব বোয়াল থেকে নিয়ে অনেকেই ভোগ করে থাকে। যা ক্যাসিনো কেলেংকারীর ভাগাভাগির সাথে অনেকেই তুলনা করে থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে অনেকেই যেতে চায় না। এছাড়া এসব অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের সমর্থনে রয়েছে অসংখ্য খেউয়া নামক ভয়ানক বাহিনী। যারা গডফাদারদের নির্দেশে যাকে খুশী হেনস্তা, আহত ও নিহত করতেও কালক্ষেপন করে না। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে জানা যায়, মিরপুরের পল্লবীতে ভূমি ব্যবসায়ী হিসেবে সাবেক এমপি আউয়াল ও মেজর (অবঃ) মোস্তফার মধ্যে বিবেদের জের ধরে নাকি শাহিনুদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। গণমাধ্যম সূত্রে দায়ীদের

স্বীকারোক্তি মোতাবেক জানা যায়, টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এমনিভাবে রাজধানী, বিভাগ, জেলাসহ বিভিন্ন আন্তঃনগর বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্য করলে দেখা যায় কোনো কোনো পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক পরিবহন সমিতির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একশ্রেণীর দুর্বৃত্ত পরায়ন লোকজন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করে থাকে। ওরা সাধারণত পরিবহন মালিক সমিতির পোষ্যবাহিনী হিসেবে পরিচিত। বাস মালিক সমিতির যে কোন প্রয়োজনে ও জমিদারের পোষ্যবাহিনীর মতো ওরা কাজ করে থাকে। অনেকে এ বাহিনীকে এ্যাকশন বাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে।

ওদের কোনো নিয়মনীতি, আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কোনো দল নেই। যেখানে ক্ষমতা ও টাকার গন্ধ তাদের পায়রুবী করাই মূলত ওদের মুখ্যম। ইতিহাস থেকে জানা যায় ব্রিটিশ আমলে জমিদারদের খাজনা আদায়ে ও জমিদারদের পোষ্য ট্যাংগারো বাহিনী হিসেবে ওদের মতো বাহিনী ছিল। নিবন্ধটির শিরোনাম হিসেবে এ নিবন্ধে তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ নিবন্ধে দুটি উদাহরণ উপস্থাপন করা হল। ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, এক সময় মুক্তগাছার জমিদার, পাকুন্দিয়ার জাঙ্গালিয়ার জমিদার কৃষ্ণ রায় ও কিশোরগঞ্জের অত্যাচারী পরামানিক জমিদার তাদের খাজনা আদায় ও জমিদারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পোষ্যবাহিনী হিসেবে নিয়োগ করা হত। জমিদারদের যে কোনো প্রয়োজনে তাদেরকে মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হত এবং অনেক সময় হিং¯্র জানোয়ারের মত লেলিয়ে দেয়া হতো। জমিদারের বিরুদ্ধকারীদের আগুনে ছেঁক দেয়া হত, গাছে ঝুলানো হত, শিং মাছের চৌবাচ্চায় ফেলানোসহ আরও অনেক ধরণের অমানুষিক নির্যাতন করানো হত। মোদ্দাকথা প্রজারা যাতে জমিদারের খাজনা রীতিমত পরিশোধসহ জমিদারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ না করে ও প্রজারা সংঘবদ্ধ হতে না পারে। আজ বাস পরিবহনে প্রায় সময় ভোগান্তির যে দৃশ্যপট ভেসে ওঠে ইহারই অনুরূপ বলা চলে। তারপর অনেক সময় ক্ষমতার বলে অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমেও নির্যাতনের কথা কম শোনা যায়নি। আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, বিগত ঈদ উপলক্ষ্যে লকডাউন সামান্য শীতিল করে বাস পরিবহন জেলা টু জেলায় চালু হয়। এ সময় রাজশাহী থেকে জনৈক ব্যক্তি ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা, টেম্পো করে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার সুখিয়ার গ্রামের বাড়ীতে ঈদ করতে আসে। এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী জনৈক ব্যক্তি, গণপরিবহনে আসার ব্যাপারে যে দুঃখ কষ্টের কথা বর্ণনা করেছে তা অবর্ননীয়। কিযে নিধারুন কষ্ট তা যেন শেষ নেই। তেমনিভাবে ৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে বাড়ী আসার সাথে এবারের রাজশাহী থেকে বাড়ীতে আসার ঘটনাকে অতিশয় দুর্বিসহ বলে ব্যক্ত করেন। জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, গাদাগাদি করে বাস দিয়ে আসার সময় দ্বিগুণের বেশী ভাড়া রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে কাহাকেও ছাড় দেয়া হয়নি এবং সরকারের নির্দেশনাও ঘুণাক্ষরে মানা হয়নি। বরং এ ব্যাপারে সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্বিগুণ ভাড়া গাদাগাদি করে বসা ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার কথা যারা বলেছে তাদের বরং উল্টো শাসানি খেতে হয়েছে। পরিশেষে বলব, লকডাউন সময়ে সরকারের নির্দেশনা না মেনে যেভাবে গণপরিবহন দ্বিগুণেরও বেশী ভাড়া নিচ্ছে গাদাগাদি করে যাত্রী বসাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধিকে না মেনে যথেচ্ছা ব্যবহার করছে, ওদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশক বলে ভূক্তভোগীরা মনে করে থাকে। আর যদি এমনিভাবেই চলতে থাকে তবে যদি কেহ বাস চলাচলে ইতিহাসের আলোকে জমিদারতন্ত্র ও ভোগান্তির দৃশ্যপট মনে করে থাকে তবে হয়তো গোলাপী এখন ট্রেনে সিনেমার ডায়ালগের মতো “হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ” বলে কোনো ভূক্তভোগী ও অভাজন উপাদিতে ভূষিত করে তবে হয়তো আইন শুধু কথা ও বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে যাতে বাস্তবে প্রতিফলিত ও বাস্তবায়িত হয় ইহাই জনপ্রত্যাশা।