ভরা মওসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের চিন্তা

57

অনলাইন ডেস্ক : সংকটময় সময়ে প্রায়ই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে ভারত। অথচ ভরা মওসুমে রফতানির পরিমাণ ব্যাপক আকারে বাড়িয়ে দেয় দেশটির পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। এর ফলে ভরা মওসুমে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হয়। লোকসান গুণতে হয় পেঁয়াজ চাষীদের। লোকসানে সর্বস্বান্ত হয়ে পেঁয়াজ চাষে অনাগ্রহী হোন দেশের চাষীরা।

এভাবে পেঁয়াজ চাষীরা অনুৎসাহিত হয়ে চাষ বন্ধ করলে চাহিদার তুলনায় খুব কম পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হয় সরকারকে। এবার এই আমদানির করার ফলাফল হারেহারে টের পেয়েছে সরকার।

তাই এবার নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে সরকারকে। এবার ভরা মওসুমে দেশের চাষীদের লাভবান করে পেঁয়াজ চাষে কিভাবে উৎসাহী করা যায় সেই চিন্তা করছে সরকার। তাই আগামী ভরা মওসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিতে ভরা মওসুমে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রাখার চিন্তা করছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এবার প্লান করেছি, পিক অব দ্য সিজনে, আমরা চিন্তা করছি, সিদ্ধান্ত হয় নাই, আমরা পেঁয়াজ আমদানি তখন বন্ধ রাখব। যাতে করে আমাদের চাষীরা সঠিক মূল্য পায়। ইনশাআল্লাহ এটা আমরা এবার করব। ইতোমধ্যে আমরা এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ পেঁয়াজ দেশে উৎপাদন হয়। গতবছরও পেঁয়াজ আমাদের ভালো হয়েছিল। কিন্তু আগাম বৃষ্টি শুরু হওয়াতে আমাদের কৃষকরা পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারেন নাই। বিদেশ থেকে আমদানি করে আমরা এটা মেটাতে পারতাম। হঠাৎ এভাবে ইন্ডিয়া পেঁয়াজের উপর রেস্ট্রিকশন দিবে, ব্যান করবে রপ্তানি- এটা আমরা চিন্তাও করি নাই।’

পেঁয়াজের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে আশার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০-২৫ দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসে যাবে। আমার বিশ্বাস তখন দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এর মধ্যে ভারতও তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে।’