উদ্যোগে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শুধু অর্থায়ন ও বিনিয়োগই যথাযথ নয়: পলক

25

অনলাইন ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, উদ্যোগে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শুধু অর্থায়ন ও বিনিয়োগই যথাযথ নয়। উদ্যোক্তারাই যে কোনো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশের স্টার্টাপরাই অর্থনীতিকে পরিচালনা ও সমৃদ্ধ করছে।

আজ (২২ জুন) মঙ্গলবার বিইয়ার (B’Yeah) লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘উদ্যোক্তার পাঠশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরি দাতা হওয়ার জন্য তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মজীবনে প্রবেশের উপযোগী হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের পক্ষে চাকরি পাওয়া সম্ভব নয় । কিন্তু নিজেরা চাকরিপ্রার্থীর না হয়ে উদ্যোক্তা হয়ে যেন চাকরিদাতায় রূপান্তরিত হতে পারে সে লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সেবাকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিতে ই-গভারমেন্ট সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রান্ত থেকে কেন্দ্র (বটম-আপ অ্যাপ্রচ) পদ্ধতিতে সেবা প্রদান শুরু করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২০১০ সালে ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চল চর কুকরি-মুকরিতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্বোধন করা হয়। 

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ডিজিটাল সার্ভিস জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল চালিকাশক্তি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাগণ। বর্তমানে ১৩ হাজারের বেশি নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে, দুর্নীতি মুক্ত উপায় প্রতি মাসে ৬০ লাখ মানুষ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট নির্ভর সকল সেবা পাচ্ছে বলে তিনি জানান। ইন্টারনেট জীবিকার মূল উপাদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকলের জন্য স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ফলে জনগণ শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, বিনোদনসহ পৃথিবীর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা হাতের মুঠোয় পাচ্ছেন। দেশের সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার গ্রামে বসেই ব্যবসা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছেন। ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে বছরে ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে পুরো ট্রেনিং, ফান্ডিং, মেন্টরিং ও কোচিংয়ের মাধ্যমে পুরো ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তারা ভবিষ্যতে আরো সফলতা লাভ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিইয়া’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন এবং বোর্ডের সদস্য আবদুল মুইদ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আশফাহ হক, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান, যুব বিজনেস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনিতা টাইসেন। পরে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উদ্যোক্তার পাঠশালা’ উদ্বোধন করেন।