বর্ষার নজরকাড়া ফুল হংসলতা

17

নূর আলম গন্ধী:

হংসলতা চিরসবুজ লতানো উদ্ভিদ। এর ফুটন্ত ফুল আকারে লতানো গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা ও মিশ্র রঙে হৃদপিন্ডাকার বা হাঁসের মতো দেখায়। গোড়ার দিক লম্বা ও বাঁকা, তাছাড়া গোলাকার এ ফুলের মুখ ক্রমেই সরু, খোলা কোন পাপড়ি নেই এবং ফুলের গায়ে অসংখ্য দাগে ভরা।

প্রজাতি অনুসারে ফুলের আকার ও রঙে তারতম্য লক্ষ্যণীয়। হংসলতার আদি বাড়ি দক্ষিণ আমেরিকা। আমাদেশের দেশে এটি অতিথি ফুল। আর তাই আমাদের দেশের বাগানে এ ফুল কমই চোখে পড়ে। ইংরেজি নাম ‘পাইপ ভাইন’। আরেক নাম ‘ডাচম্যান পাইপ’। প্রচলিত নাম ‘ক্যালিকো’। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের দেয়া প্রদত্ত নাম অৎরংঃড়ষড়পযরধ বষবমধহং। লতা লম্বায় ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর গাছ অন্য যে কোন গাছে ভর করে বেড়ে ওঠে বা বাউনির মাধ্যমে বেড়ে ওঠে। তাই এর বৃদ্ধির জন্য বাউনির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাউনি পেলে কোন কোন ক্ষেত্রে এর লতা আরো বেশি লম্বাও হয়ে থাকে। ফুল পরাগায়িত হয় এবং এর বীজ হালকা বলে বাতাসে ভেসে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। লতা কাটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। উঁচু ভূমি, রৌদ্রউজ্জল পরিবেশ ও পানি নিকাশের উত্তম ব্যবস্থা সম্পন্ন দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটিতে হংসলতা ভালো জন্মে। এর দৃষ্টিনন্দন হৃদয়াকৃতির পাতা উজ্জল সবুজ রঙের।

সারাবছর জুড়ে এর ফুল ফোটতে দেখা যায়। তবে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে বর্ষায়। ফুটন্ত ফুলের সৌন্দর্য খুবই নজরকাড়া। হংসলতা ফুলের এ ছবিটি ক্যামেরা বন্দি করি ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার হালুয়াপাড়া গ্রামের বৃক্ষ প্রেমিক ও কবিরাজ আলী আহমদ চান্দু মিয়ার বাড়ি থেকে।