হোসেনপুরে ঈদগা মাঠ দখল করে বাড়ি নির্মাণ

18

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ঈদগা মাঠ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত আমির উদ্দিনের চার ছেলে জোরপূর্বক ঈদগা মাঠ দখল করে সম্প্রতি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করায় এলকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ঈদগা মাঠ পৈত্তিক সম্পত্তি বলে দাবি করে মৃত আমীর উদ্দিনের ছেলেরা আদালতে মামলা দায়ের করলে নিম্ন আদালত তা খারিজ করে দেয়। ফলে মাঠ ফিরে পেতে মাঠ কমিটির সভাপতি এরশাদুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ উভয়পক্ষকে ডেকে নিয়ে স্বস্বপক্ষের মূল কাগজপত্র দেখেন। তাতে তিনি এই ১০শতাংশ জমি সরকারি খাসজমি দেখতে পান। বুধবার(১৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় সিরাজুল হক, মো:রুকন মিয়া, হৃদয় মিয়াসহ অন্তত আরো ২০/২৫ জনের সাথে। তারা জানায়, আমরা সবাই মিলে এ মাঠে নামাজ আদায় করতাম। কিন্তু এ বছর হঠাৎ দেখলাম মাঠের জায়গায় ঘর তৈরি করে ফেলা হয়েছে,যা দেখে আমরা সবাই অবাক হয়ে গেলাম। স্থানীয় জিনারী ইউনিয়ন পরিযদের সদস্য মুনসুর আহম্মেদ জানান; টান জিনারী মৌজার ১নং ওয়ার্ডের ৪৩৯ নং দাগের নদীর পাড়ে ১০ শতক জায়গায় দেড়শ বছর আগে ঈদগা মাঠের নামে সিএস ও আরোয়ারে রয়েছে; যেখানে প্রতি বছর আড়াইশ থেকে তিনশ মুসল্লী ঈদউল আজহা ও ঈদউল ফিতরের নামাজ আদায় করে আসছিলেন।সেই মোতাবেক মাঠের একপাশে বাউন্ডারী দেওয়াল ও পশ্চিম দিকে নামাজ আদায়ের জন্য মিনার ও রয়েছে। যেখানে একমাস আগে মৃত আমির উদ্দিনের চার ছেলে বাদল মিয়া,মানিক মিয়া, বাবুল মিয়া ও আবুল মিয়া জোরপূর্বক মাঠের দু’পাশে দুটি টিনসেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনাও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সময় মাঠের জায়গায় ঘর নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাদল মিয়া জানায়, এ জমি তার পিতার খরিদ করা সাফ কাওলা যা তাদের নামীয় রেকর্ড রয়েছে। তার দাবি এলাকার কয়েকজন লোক জোর করে আমার পিতার খরিদ করা জায়গা থেকে কয়েকটি বড়বড়গাছ ও বাঁশ ঝাড় উজার করে ঈদগা মাঠ তেরি করেছে।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ জানান, সিএস মূলে এটা ঈদগা মাঠের জমি । তবে আরোয়ার মূলে সরকারি খাস জমি। সে হিসেবে এটা রাষ্ট্রীয় সম্পতি। কিন্তু ভুল করে এটা মাঠ পর্চা খতিয়ানে ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে গেছে। যার জন্য আমরা আদালতে মামলা দায়ের করেছি রায়ের কপি হাতে ফেলেই তা উদ্ধার করে ঈদগা মাঠের নামেই তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।