আজ কামান্না দিবস : শহীদ পরিবারের দাবি রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করার

60

মাগুরা,প্রতিনিধিঃ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ২৬ নভেম্বর মাগুরা ঝিনেদার সীমান্তবর্তী এলাকায় কামান্না নামক গ্রামে মাগুরার সদর উপজেলার ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিলেন। এদের বেশিরভাগই বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়নে। স্থানীয়ভাবে কামান্না দিবস উপলক্ষে কামান্না ও হাজীপুর শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক প্রদান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

খোন্দকার আব্দুল মাজেদ প্রতিষ্ঠিত মাগুরা সদর থানা সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী মাজেদ বাহিনী পরিচিত ছিল। যুদ্ধকালীন সময় সম্মিলিত মুক্তিবাহিনী মাজেদ বাহিনীর অধিনায়ক হিসাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন খন্দকার আব্দুল মাজেদ এবং সহকারী কমান্ডার ছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ।যতদূর জানা যায় বাহিনীতে মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা। ৮ নভেম্বর বরইচারা থেকে মাজেদ বাহিনী প্রধান মাগুরা-ঝিনাইদহ পাক সেনাদের হাতে বন্দী হন।

মাজেদ সাহেবের বড় ছেলে খোন্দকার রাশেদ আলী ছাত্র অবস্থায় পিতার বাহিনীতে যোগদান করে কামান্নাতে শহীদ হন। মাজেদ বাহিনীর যে অংশটি কামান্না তে অবস্থান নিয়েছিল সেই অংশটির কমান্ডার ছিলেন হাবিলদার মেজর সমশের আলী। তাছাড়া মাজেদ সাহেবের মামাতো ভাই সেলিম বিশ্বাস ও জামাতা শহিদুল্লাহ কামান্না যুদ্ধে শহীদ হন।

১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর অন্য একটি সফল অপারেশন শেষ করে হাজীপুর ওই বাহিনীর একদল মুক্তিযোদ্ধা মাগুরা-ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী কামান্না গ্রামে মাধব কুন্ডু নামের এক ব্যক্তির বাড়ির পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে রাত্রি যাপনের জন্য অবস্থান নেন।

রাজাকারদের মাধ্যমে তাদের এ অবস্থানের খবর শৈলকুপা ও মাগুরার পাক বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে যায়। এই খবরে শৈলকুপা ও মাগুরার পাক সেনারা ২৬ নভেম্বর ভোর রাতে ওই বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন। পাক হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের উপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেন। সে সময় ২৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের গাইড ফনি ভুষন কুন্ডু ও রান্নার বুয়া রঙ্গবিবি শহীদ হন সঙ্গে দুইজন রাজাকার আমানত ও দিয়ানত মারা যায় । সকালে পাক সেনারা চলে যাবার পর গ্রামবাসী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ উদ্ধার করে কামান্না স্কুল মাঠের পাশে ৬টি গনকবরে সমাহিত করেন। শহীদ মোঃ আলিমুজ্জামান এবং শহীদ মোঃ রাজা এর লাশ স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয় ।

পরে সেখানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এছাড়া তাদের নিজ এলাকা মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে একটি শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার এতো বছর পরেও সরকারিভাবে এ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। শহীদ পরিবারের সন্তান শেখ আহমদ এবং আহসান হাবিব সহ সকল শহীদ পরিবারের দাবিদাবি কামান্না দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়।